আফগানিস্তানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে পাকিস্তান আবারও দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে ঘোষিত সীমান্ত সংঘর্ষ বিরতি সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা কমেনি। পাকিস্তান সরকার সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। এদিকে সীমান্তে গোলাবর্ষণে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। দুই দেশের পারস্পরিক অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ইসলামাবাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত বুধবার দুই দেশ সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার বলেন, সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূলে পাকিস্তান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আফগানিস্তানের ভেতরে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সেই লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্পষ্ট হয় যে, চলমান সংঘাতের বিষয়ে ইসলামাবাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
রোববার আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ও একটি চিকিৎসা সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের ছোড়া মর্টারের আঘাতে একজন নিহত হয়েছেন।
এর আগে গত সোমবার কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি হামলার অভিযোগ করে আফগান কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করছে, আফগানিস্তান পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানো চরমপন্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালেবান কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে উপসাগরীয় দেশগুলো ও চীনের মধ্যস্থতার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাকিস্তান দিবসের বার্তায় বলেন, আফগানিস্তানের ভেতরে সামরিক অভিযান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশের জাতীয় অঙ্গীকারের প্রতীক। তিনি আরও বলেন, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তায় কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করা হবে না।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার কারণে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ায় আফগান-পাকিস্তান পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ফলে সীমান্তে নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিষয় : পাকিস্তান আফগানিস্তান

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬
আফগানিস্তানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে পাকিস্তান আবারও দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে ঘোষিত সীমান্ত সংঘর্ষ বিরতি সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা কমেনি। পাকিস্তান সরকার সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। এদিকে সীমান্তে গোলাবর্ষণে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। দুই দেশের পারস্পরিক অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ইসলামাবাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত বুধবার দুই দেশ সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার বলেন, সন্ত্রাসবাদের হুমকি নির্মূলে পাকিস্তান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আফগানিস্তানের ভেতরে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সেই লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্পষ্ট হয় যে, চলমান সংঘাতের বিষয়ে ইসলামাবাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
রোববার আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ও একটি চিকিৎসা সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের ছোড়া মর্টারের আঘাতে একজন নিহত হয়েছেন।
এর আগে গত সোমবার কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানি হামলার অভিযোগ করে আফগান কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করছে, আফগানিস্তান পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানো চরমপন্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালেবান কর্তৃপক্ষ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে উপসাগরীয় দেশগুলো ও চীনের মধ্যস্থতার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাকিস্তান দিবসের বার্তায় বলেন, আফগানিস্তানের ভেতরে সামরিক অভিযান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশের জাতীয় অঙ্গীকারের প্রতীক। তিনি আরও বলেন, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তায় কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করা হবে না।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার কারণে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ায় আফগান-পাকিস্তান পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ফলে সীমান্তে নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন