শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

প্রাথমিক স্তরের ছাত্রীদের মনে আনন্দ থাকলেও ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

আফগানিস্তানে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু: মাধ্যমিকের দুয়ারে এখনো অপেক্ষমাণ হাজারো কিশোরী



আফগানিস্তানে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু: মাধ্যমিকের দুয়ারে এখনো অপেক্ষমাণ হাজারো কিশোরী

আফগানিস্তানে স্কুল ঘণ্টার ধ্বনি ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। দীর্ঘ শীতকালীন ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পেরে ছাত্র ও শিশু ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেলেও, ষষ্ঠ শ্রেণির উপরের ছাত্রীদের জন্য স্কুলগুলো এখনো বন্ধ থাকায় জনমনে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা কাটেনি।

আফগানিস্তানের বর্তমান ইসলামিক আমিরাত কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনাকে একটি প্রশাসনিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। সরকারি ভাষ্যমতে, জাতীয় শিক্ষাক্রমকে ইসলামী মূল্যবোধ ও আফগান সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার বিষয়টি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, বরং একটি "উপযুক্ত পরিবেশ" ও "শরীয়াহসম্মত নীতিমালা" প্রণয়নের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির উপরের ছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো উন্মুক্ত করা হতে পারে। তবে বর্তমানে নারী শিক্ষার এই আংশিক সীমাবদ্ধতাকে তারা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে একটি সাময়িক ও কৌশলগত অবস্থান হিসেবে দাবি করছে।

আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে স্কুল খোলার পর দেখা যায় এক মিশ্র চিত্র। একদিকে ছাত্ররা আনন্দঘন পরিবেশে স্কুলে ফিরছে, অন্যদিকে কিশোরী মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধোঁয়াশা।

মসিহুল্লাহ নামক এক ছাত্র গণমাধ্যমকে বলেন, “তিন মাস পর স্কুলে ফিরতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। তবে আমরা ইসলামিক আমিরাতের কাছে অনুরোধ জানাই, আমাদের জন্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি যেন মেয়েদের জন্য স্কুলের দরজা খুলে দেওয়া হয়।” খালিদ নামে অপর এক ছাত্রও শিক্ষার সর্বজনীন অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও তাদের মনে দানা বাঁধছে ভয়। হাদিয়ার স্বপ্ন বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়া, কিন্তু সে শঙ্কিত যে ষষ্ঠ শ্রেণি পার হওয়ার পর তার এই স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবে কিনা। সুমাইয়া নামের আরেক শিক্ষার্থী একই উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে সে সন্দিহান।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির উপরের ছাত্রীরা। ফাতিমা নামের এক শিক্ষার্থী, যে অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সে আক্ষেপ করে বলে, “স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমি আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছি।” হাজার হাজার কিশোরীর এই অপেক্ষার অবসান না হওয়ায় তাদের স্বপ্নগুলো এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

বিষয় : আফগানিস্তান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


আফগানিস্তানে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু: মাধ্যমিকের দুয়ারে এখনো অপেক্ষমাণ হাজারো কিশোরী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানে স্কুল ঘণ্টার ধ্বনি ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। দীর্ঘ শীতকালীন ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পেরে ছাত্র ও শিশু ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেলেও, ষষ্ঠ শ্রেণির উপরের ছাত্রীদের জন্য স্কুলগুলো এখনো বন্ধ থাকায় জনমনে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা কাটেনি।

আফগানিস্তানের বর্তমান ইসলামিক আমিরাত কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনাকে একটি প্রশাসনিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। সরকারি ভাষ্যমতে, জাতীয় শিক্ষাক্রমকে ইসলামী মূল্যবোধ ও আফগান সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার বিষয়টি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, বরং একটি "উপযুক্ত পরিবেশ" ও "শরীয়াহসম্মত নীতিমালা" প্রণয়নের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির উপরের ছাত্রীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো উন্মুক্ত করা হতে পারে। তবে বর্তমানে নারী শিক্ষার এই আংশিক সীমাবদ্ধতাকে তারা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে একটি সাময়িক ও কৌশলগত অবস্থান হিসেবে দাবি করছে।

আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে স্কুল খোলার পর দেখা যায় এক মিশ্র চিত্র। একদিকে ছাত্ররা আনন্দঘন পরিবেশে স্কুলে ফিরছে, অন্যদিকে কিশোরী মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধোঁয়াশা।

মসিহুল্লাহ নামক এক ছাত্র গণমাধ্যমকে বলেন, “তিন মাস পর স্কুলে ফিরতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। তবে আমরা ইসলামিক আমিরাতের কাছে অনুরোধ জানাই, আমাদের জন্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি যেন মেয়েদের জন্য স্কুলের দরজা খুলে দেওয়া হয়।” খালিদ নামে অপর এক ছাত্রও শিক্ষার সর্বজনীন অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও তাদের মনে দানা বাঁধছে ভয়। হাদিয়ার স্বপ্ন বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়া, কিন্তু সে শঙ্কিত যে ষষ্ঠ শ্রেণি পার হওয়ার পর তার এই স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবে কিনা। সুমাইয়া নামের আরেক শিক্ষার্থী একই উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে সে সন্দিহান।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির উপরের ছাত্রীরা। ফাতিমা নামের এক শিক্ষার্থী, যে অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সে আক্ষেপ করে বলে, “স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমি আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছি।” হাজার হাজার কিশোরীর এই অপেক্ষার অবসান না হওয়ায় তাদের স্বপ্নগুলো এখন অনিশ্চয়তার মুখে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত