মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

উত্তরাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে এক অসহায় বৃদ্ধের আর্তনাদ

ভারতে প্রবীণ মুসলিম হকারকে মারধর ও লুটপাট: সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ ও ‘পাকিস্তান যা’ বলে হুমকি



ভারতে প্রবীণ মুসলিম হকারকে মারধর ও লুটপাট: সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ ও ‘পাকিস্তান যা’ বলে হুমকি

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের প্রতাপগড় জেলায় গত ২ মে মাকসুদ আলী নামে এক প্রবীণ মুসলিম হকারকে নৃশংসভাবে মারধর, অর্থ লুট এবং সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর দাড়ি টেনে ধরে এবং তাকে দেশত্যাগের হুমকি দেয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মাকসুদ আলী জানান, তিনি সারাদিনের কাজ শেষে ডেরওয়া এলাকার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে মনোজ নামক এক ব্যক্তি তাকে গতিরোধ করে কোনো উস্কানি ছাড়াই আক্রমণ শুরু করে। মাকসুদ আলীর দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার টুপি ছিনিয়ে নেয়, দাড়ি ধরে টান দেয় এবং লাঠি ও রড দিয়ে তাকে মারধর করে। এসময় আক্রমণকারী তাকে ‘পাকিস্তান চলে যাও’ বলে চিৎকার করতে থাকে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটে গত ২ মে বিকেল ৪টার দিকে একটি গ্রাম্য এলাকায়। দিনমজুর হকার মাকসুদ আলী ওইদিন প্রায় ১০,০০০ টাকা উপার্জন করেছিলেন, যা অভিযুক্ত মনোজ ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কোনো ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার সুযোগে মাকসুদ আলী কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি বাড়ি ফেরেন। ভুক্তভোগীর ভাষায়, "আমি দরিদ্র মানুষ, আমি কি কাজ করে খাব না কি এসব নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করব?" এই ঘটনা স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

যদিও ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন, তবুও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে। ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার ভারতে সংখ্যালঘু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর ক্রমবর্ধমান ঘৃণামূলক অপরাধ (Hate Crime) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও পাওয়া যায়নি।

উত্তরপ্রদেশে গত কয়েক বছরে হকার এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ওপর হামলা ও সাম্প্রদায়িক হেনস্তার ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। প্রতাপগড়ের এই ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতায় সামাজিক সহনশীলতার অভাবকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরণের স্পর্শকাতর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সামাজিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


ভারতে প্রবীণ মুসলিম হকারকে মারধর ও লুটপাট: সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ ও ‘পাকিস্তান যা’ বলে হুমকি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের প্রতাপগড় জেলায় গত ২ মে মাকসুদ আলী নামে এক প্রবীণ মুসলিম হকারকে নৃশংসভাবে মারধর, অর্থ লুট এবং সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর দাড়ি টেনে ধরে এবং তাকে দেশত্যাগের হুমকি দেয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মাকসুদ আলী জানান, তিনি সারাদিনের কাজ শেষে ডেরওয়া এলাকার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে মনোজ নামক এক ব্যক্তি তাকে গতিরোধ করে কোনো উস্কানি ছাড়াই আক্রমণ শুরু করে। মাকসুদ আলীর দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার টুপি ছিনিয়ে নেয়, দাড়ি ধরে টান দেয় এবং লাঠি ও রড দিয়ে তাকে মারধর করে। এসময় আক্রমণকারী তাকে ‘পাকিস্তান চলে যাও’ বলে চিৎকার করতে থাকে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটে গত ২ মে বিকেল ৪টার দিকে একটি গ্রাম্য এলাকায়। দিনমজুর হকার মাকসুদ আলী ওইদিন প্রায় ১০,০০০ টাকা উপার্জন করেছিলেন, যা অভিযুক্ত মনোজ ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কোনো ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার সুযোগে মাকসুদ আলী কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি বাড়ি ফেরেন। ভুক্তভোগীর ভাষায়, "আমি দরিদ্র মানুষ, আমি কি কাজ করে খাব না কি এসব নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করব?" এই ঘটনা স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

যদিও ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন, তবুও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে। ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার ভারতে সংখ্যালঘু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর ক্রমবর্ধমান ঘৃণামূলক অপরাধ (Hate Crime) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও পাওয়া যায়নি।

উত্তরপ্রদেশে গত কয়েক বছরে হকার এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ওপর হামলা ও সাম্প্রদায়িক হেনস্তার ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। প্রতাপগড়ের এই ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতায় সামাজিক সহনশীলতার অভাবকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরণের স্পর্শকাতর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সামাজিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ