চলমান যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পবিত্র কোরবানির ঈদের আগের দিন (আরাফার দিন) গাজা উপত্যকায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর ফের বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার মধ্যাঞ্চলের একটি শরণার্থী শিবিরে চালানো এই আকস্মিক বিমান হামলায় অন্তত ৫ জন নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ঈদের আনন্দ উদযাপনের প্রস্তুতির মুহূর্তে এই হামলায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে যখন মুসলিম উম্মাহ পবিত্র কোরবানির ঈদের প্রস্তুতিতে মগ্ন, ঠিক তখনই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী উৎসব যাপন করছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক মহলের সমস্ত আহ্বান উপেক্ষা করে ঈদের আগের দিন (আরাফার দিন) গাজার একটি জনাকীর্ণ বেসামরিক এলাকায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েল।
মুলতাজিম শরণার্থী শিবিরে হামলা ও হতাহত
গাজার স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার মধ্যভাগে অবস্থিত ঐতিহাসিক মাগাজি শরণার্থী শিবিরে বেসামরিক নাগরিকরা যেখানে একত্রিত হয়েছিলেন, ঠিক সেই স্থানটিকে লক্ষ্য করে ভারী বোমাবর্ষণ করে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই ৫ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান এবং আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতালে স্বজনদের কান্নার রোল ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য
হামলার পরপরই নিহতদের মরদেহ এবং গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দেইর আল-বালাহ এলাকায় অবস্থিত 'আকসা শহীদদের হাসপাতালে' নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে স্বজনদের মৃতদেহ দেখে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, এক ফিলিস্তিনি নাগরিক হামলায় নিহত তার অতি আপনজনের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে বুক ফাটানো আর্তনাদ করছেন এবং শেষ বিদায় জানাচ্ছেন, যখন চারপাশের মানুষ তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। পবিত্র ঈদের আগের দিন এই নৃশংসতা প্রমাণ করে যে, গাজায় সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট নেই।
এর আগেও গাজার আল-মগাজি, আল-নুসেইরাত এবং জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরগুলো একাধিকবার ইসরায়েলি বিমান হামলার শিকার হয়েছে। প্রতিবারই বেসামরিক নাগরিক ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এবারের হামলাটি এমন এক সময়ে হলো যখন বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
পবিত্র উৎসবের প্রাক্কালে এই রক্তক্ষয়ী হামলা গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
চলমান যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পবিত্র কোরবানির ঈদের আগের দিন (আরাফার দিন) গাজা উপত্যকায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর ফের বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার মধ্যাঞ্চলের একটি শরণার্থী শিবিরে চালানো এই আকস্মিক বিমান হামলায় অন্তত ৫ জন নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ঈদের আনন্দ উদযাপনের প্রস্তুতির মুহূর্তে এই হামলায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে যখন মুসলিম উম্মাহ পবিত্র কোরবানির ঈদের প্রস্তুতিতে মগ্ন, ঠিক তখনই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী উৎসব যাপন করছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক মহলের সমস্ত আহ্বান উপেক্ষা করে ঈদের আগের দিন (আরাফার দিন) গাজার একটি জনাকীর্ণ বেসামরিক এলাকায় ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েল।
মুলতাজিম শরণার্থী শিবিরে হামলা ও হতাহত
গাজার স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার মধ্যভাগে অবস্থিত ঐতিহাসিক মাগাজি শরণার্থী শিবিরে বেসামরিক নাগরিকরা যেখানে একত্রিত হয়েছিলেন, ঠিক সেই স্থানটিকে লক্ষ্য করে ভারী বোমাবর্ষণ করে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই ৫ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান এবং আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতালে স্বজনদের কান্নার রোল ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য
হামলার পরপরই নিহতদের মরদেহ এবং গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দেইর আল-বালাহ এলাকায় অবস্থিত 'আকসা শহীদদের হাসপাতালে' নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে স্বজনদের মৃতদেহ দেখে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, এক ফিলিস্তিনি নাগরিক হামলায় নিহত তার অতি আপনজনের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে বুক ফাটানো আর্তনাদ করছেন এবং শেষ বিদায় জানাচ্ছেন, যখন চারপাশের মানুষ তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। পবিত্র ঈদের আগের দিন এই নৃশংসতা প্রমাণ করে যে, গাজায় সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট নেই।
এর আগেও গাজার আল-মগাজি, আল-নুসেইরাত এবং জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরগুলো একাধিকবার ইসরায়েলি বিমান হামলার শিকার হয়েছে। প্রতিবারই বেসামরিক নাগরিক ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এবারের হামলাটি এমন এক সময়ে হলো যখন বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
পবিত্র উৎসবের প্রাক্কালে এই রক্তক্ষয়ী হামলা গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন