শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

মথুরার বৃন্দাবনে জয় শ্রী রাম স্লোগান দিয়ে দলবলসহ হানা দিল তথাকথিত গো-রক্ষক দীপক তিওয়ারি; চরম আতঙ্কে মুসলিম ব্যবসায়ী

এবার মুসলিম যুবকের বিরিয়ানির দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা



এবার মুসলিম যুবকের বিরিয়ানির দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার পবিত্র ধর্মীয় শহর বৃন্দাবনে এক মুসলিম স্টল মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিরিয়ানির দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গো-রক্ষকরা। গত বুধবার (১৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তথাকথিত গো-রক্ষক নেতা দীপক তিওয়ারি ও তার সহযোগীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটায়।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অধিকারের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পরিকল্পিত আগ্রাসন থামছেই না। এবার রাজ্যটির মথুরা জেলার অন্তর্গত বৃন্দাবনে এক মুসলিম স্টল মালিককে প্রকাশ্যে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার বৈধ বিরিয়ানির দোকানটি বন্ধ করতে বাধ্য করেছে উগ্রপন্থী গো-রক্ষকরা।

বুধবার (১৭ জুন) ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তথাকথিত গো-রক্ষক নেতা দীপক তিওয়ারি উগ্র সাম্প্রদায়িক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে দলবলসহ ওই বিরিয়ানি বিক্রেতার দিকে তেড়ে যায়। সে জোরপূর্বক বিরিয়ানির হাঁড়ির ঢাকনা খুলে ভেতরে মাংসের টুকরো দেখে চরম অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলতে থাকে, "এখানে তো মাংস রয়েছে! বাহ ভাই, তুমি তো খুব ভালো কাজ করছ।" এরপরই সে চরম হুমকি দিয়ে বলে, "এই দোকান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত। এটা এখান থেকে নিয়ে চলে যাও, পরিষ্কার বুঝতে পেরেছ?" চরম আতঙ্কের মুখে দরিদ্র ওই মুসলিম বিক্রেতা দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হন।

উত্তরপ্রদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম মালিকানাধীন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের এমন জোরজুলুম এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উগ্রপন্থীরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে ধর্মীয় রীতিনীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসেও গাজিয়াবাদে ‘রাষ্ট্রীয় হিন্দু বীর সেনা’র নেতা সত্যম পন্ডিত নামের এক উগ্রবাদী এক প্রবীণ মুসলিম মাংস ব্যবসায়ীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছিল। সে বলেছিল, "মঙ্গলবার যদি এই দোকান খোলা দেখি, তবে এক মিনিটে আগুন ধরিয়ে দেব।"

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে একের পর এক দোকান বন্ধ করা, 'লাভ জিহাদ' ও ‘অপবিত্রতার’ মিথ্যা অজুহাতে সেলুন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও উচ্ছেদের ঘটনা পদ্ধতিগতভাবে চালানো হচ্ছে। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান এবং সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


এবার মুসলিম যুবকের বিরিয়ানির দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার পবিত্র ধর্মীয় শহর বৃন্দাবনে এক মুসলিম স্টল মালিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার বিরিয়ানির দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গো-রক্ষকরা। গত বুধবার (১৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তথাকথিত গো-রক্ষক নেতা দীপক তিওয়ারি ও তার সহযোগীরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটায়।

ভারতের উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অধিকারের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পরিকল্পিত আগ্রাসন থামছেই না। এবার রাজ্যটির মথুরা জেলার অন্তর্গত বৃন্দাবনে এক মুসলিম স্টল মালিককে প্রকাশ্যে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার বৈধ বিরিয়ানির দোকানটি বন্ধ করতে বাধ্য করেছে উগ্রপন্থী গো-রক্ষকরা।

বুধবার (১৭ জুন) ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তথাকথিত গো-রক্ষক নেতা দীপক তিওয়ারি উগ্র সাম্প্রদায়িক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে দলবলসহ ওই বিরিয়ানি বিক্রেতার দিকে তেড়ে যায়। সে জোরপূর্বক বিরিয়ানির হাঁড়ির ঢাকনা খুলে ভেতরে মাংসের টুকরো দেখে চরম অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলতে থাকে, "এখানে তো মাংস রয়েছে! বাহ ভাই, তুমি তো খুব ভালো কাজ করছ।" এরপরই সে চরম হুমকি দিয়ে বলে, "এই দোকান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত। এটা এখান থেকে নিয়ে চলে যাও, পরিষ্কার বুঝতে পেরেছ?" চরম আতঙ্কের মুখে দরিদ্র ওই মুসলিম বিক্রেতা দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হন।

উত্তরপ্রদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম মালিকানাধীন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের এমন জোরজুলুম এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উগ্রপন্থীরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে ধর্মীয় রীতিনীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রেই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসেও গাজিয়াবাদে ‘রাষ্ট্রীয় হিন্দু বীর সেনা’র নেতা সত্যম পন্ডিত নামের এক উগ্রবাদী এক প্রবীণ মুসলিম মাংস ব্যবসায়ীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছিল। সে বলেছিল, "মঙ্গলবার যদি এই দোকান খোলা দেখি, তবে এক মিনিটে আগুন ধরিয়ে দেব।"

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিমদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে একের পর এক দোকান বন্ধ করা, 'লাভ জিহাদ' ও ‘অপবিত্রতার’ মিথ্যা অজুহাতে সেলুন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও উচ্ছেদের ঘটনা পদ্ধতিগতভাবে চালানো হচ্ছে। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান এবং সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ