কানাডার স্যাসকাচোয়ান প্রদেশের স্যাসকাটুন শহরের 'সেন্টেনিয়াল কলেজিয়েট' হাইস্কুলের এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের প্রতীক 'কুফিয়া' পরিহিত এক মুসলিম ছাত্রীর ওপর চরম বর্ণবাদী আচরণের ঘটনা ঘটেছে। সার্টিফিকেট গ্রহণের সময় মঞ্চে থাকা এক শিক্ষিকা জোরপূর্বক ওই ছাত্রীর গলা থেকে কুফিয়াটি টেনে হিঁজড়ে খুলে নেন। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) রাতে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 'ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস' (NCCM) এই ঘটনাকে ফিলিস্তিনবিদ্বেষী বর্ণবাদের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি করেছে।
কানাডার একটি হাইস্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ছাত্রীর গলা থেকে জোরপূর্বক কুফিয়া স্কার্ফ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটিকে "ফিলিস্তিনবিদ্বেষী বর্ণবাদের এক নগ্ন ও স্পষ্ট উদাহরণ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় মুসলিম মানবাধিকার সংস্থা ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস’ (NCCM)।
গত মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাউন্সিল জানায়, সমাবর্তনের মঞ্চে ঘটে যাওয়া এই দৃশ্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং চরম মনস্তাত্ত্বিক পীড়াদায়ক। সংস্থাটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বা পরিচয়ের যেকোনো প্রকাশকে এমনভাবে গণ্য করা হচ্ছে, যেন তা সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতার প্রতীক। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "এই ঘটনাটি কানাডায় ক্রমবর্ধমান ফিলিস্তিনবিদ্বেষী বর্ণবাদের কথাই পুনরুল্লেখ করে। কানাডার সমস্ত সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই কাঠামোগত বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় আনা।"
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও চিত্র
সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, স্যাসকাটুন শহরের 'সেন্টেনিয়াল কলেজিয়েট' হাইস্কুলের সমাবর্তন মঞ্চে এক ছাত্রী অত্যন্ত আনন্দের সাথে নিজের সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে এগিয়ে যাচ্ছে। তার গলায় জড়ানো ছিল ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদের প্রতীক সাদা-কালো কুফিয়া। কিন্তু সে মঞ্চে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে সার্টিফিকেট বিতরণের দায়িত্বে থাকা এক শ্বেতাঙ্গ শিক্ষিকা অতর্কিতে ও অত্যন্ত হিংস্রভাবে ছাত্রীর গলা থেকে কুফিয়াটি টেনে হিঁজড়ে খুলে নেন।
ভিডিওতে দৃশ্যমান ছাত্রীর অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল যে, সে এই আকস্মিক ও অপমানজনক আচরণে চরম স্তম্ভিত ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তবে নিজের আত্মমর্যাদা বজায় রেখে সার্টিফিকেটটি হাতে নেওয়ার পরপরই সে শিক্ষিকার কাছ থেকে নিজের কুফিয়াটি কেড়ে নেয় এবং মঞ্চ ত্যাগ করার আগেই তা পুনরায় সগৌরবে নিজের গলায় জড়িয়ে নেয়।
কুফিয়া: প্রতিরোধের এক শতাব্দী প্রাচীন প্রতীক
মূলত সাদা রঙের কাপড়ের ওপর কালো সুতোর জ্যামিতিক নকশায় বোনা কুফিয়া কেবল একটি স্কার্ফ নয়; এটি ফিলিস্তিনি জাতির আত্মপরিচয়, প্রতিরোধ এবং ভূখণ্ডের সাথে জুড়ে থাকার এক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক প্রতীক। গত প্রায় এক শতাব্দী ধরে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমি রক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে এটি ব্যবহার করে আসছে।
বর্তমানে এই কুফিয়া কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও প্রবাসী ছাড়াও বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকামী, মজলুমের সহায়তাকারী এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষের কোটি কোটি মানুষ সংহতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এই কুফিয়া পরিধান করে থাকেন। কানাডার মাটিতে একজন শিক্ষার্থীর সাথে ঘটে যাওয়া এই বৈষম্যমূলক আচরণ বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিচারিতাকে আবারও উন্মোচিত করেছে।
বিষয় : কানাডা

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
কানাডার স্যাসকাচোয়ান প্রদেশের স্যাসকাটুন শহরের 'সেন্টেনিয়াল কলেজিয়েট' হাইস্কুলের এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের প্রতীক 'কুফিয়া' পরিহিত এক মুসলিম ছাত্রীর ওপর চরম বর্ণবাদী আচরণের ঘটনা ঘটেছে। সার্টিফিকেট গ্রহণের সময় মঞ্চে থাকা এক শিক্ষিকা জোরপূর্বক ওই ছাত্রীর গলা থেকে কুফিয়াটি টেনে হিঁজড়ে খুলে নেন। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) রাতে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 'ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস' (NCCM) এই ঘটনাকে ফিলিস্তিনবিদ্বেষী বর্ণবাদের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি করেছে।
কানাডার একটি হাইস্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ছাত্রীর গলা থেকে জোরপূর্বক কুফিয়া স্কার্ফ কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটিকে "ফিলিস্তিনবিদ্বেষী বর্ণবাদের এক নগ্ন ও স্পষ্ট উদাহরণ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় মুসলিম মানবাধিকার সংস্থা ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস’ (NCCM)।
গত মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাউন্সিল জানায়, সমাবর্তনের মঞ্চে ঘটে যাওয়া এই দৃশ্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং চরম মনস্তাত্ত্বিক পীড়াদায়ক। সংস্থাটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য বা পরিচয়ের যেকোনো প্রকাশকে এমনভাবে গণ্য করা হচ্ছে, যেন তা সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতার প্রতীক। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "এই ঘটনাটি কানাডায় ক্রমবর্ধমান ফিলিস্তিনবিদ্বেষী বর্ণবাদের কথাই পুনরুল্লেখ করে। কানাডার সমস্ত সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই কাঠামোগত বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং এই ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় আনা।"
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও চিত্র
সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, স্যাসকাটুন শহরের 'সেন্টেনিয়াল কলেজিয়েট' হাইস্কুলের সমাবর্তন মঞ্চে এক ছাত্রী অত্যন্ত আনন্দের সাথে নিজের সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে এগিয়ে যাচ্ছে। তার গলায় জড়ানো ছিল ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদের প্রতীক সাদা-কালো কুফিয়া। কিন্তু সে মঞ্চে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে সার্টিফিকেট বিতরণের দায়িত্বে থাকা এক শ্বেতাঙ্গ শিক্ষিকা অতর্কিতে ও অত্যন্ত হিংস্রভাবে ছাত্রীর গলা থেকে কুফিয়াটি টেনে হিঁজড়ে খুলে নেন।
ভিডিওতে দৃশ্যমান ছাত্রীর অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল যে, সে এই আকস্মিক ও অপমানজনক আচরণে চরম স্তম্ভিত ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তবে নিজের আত্মমর্যাদা বজায় রেখে সার্টিফিকেটটি হাতে নেওয়ার পরপরই সে শিক্ষিকার কাছ থেকে নিজের কুফিয়াটি কেড়ে নেয় এবং মঞ্চ ত্যাগ করার আগেই তা পুনরায় সগৌরবে নিজের গলায় জড়িয়ে নেয়।
কুফিয়া: প্রতিরোধের এক শতাব্দী প্রাচীন প্রতীক
মূলত সাদা রঙের কাপড়ের ওপর কালো সুতোর জ্যামিতিক নকশায় বোনা কুফিয়া কেবল একটি স্কার্ফ নয়; এটি ফিলিস্তিনি জাতির আত্মপরিচয়, প্রতিরোধ এবং ভূখণ্ডের সাথে জুড়ে থাকার এক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক প্রতীক। গত প্রায় এক শতাব্দী ধরে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমি রক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে এটি ব্যবহার করে আসছে।
বর্তমানে এই কুফিয়া কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও প্রবাসী ছাড়াও বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকামী, মজলুমের সহায়তাকারী এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষের কোটি কোটি মানুষ সংহতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এই কুফিয়া পরিধান করে থাকেন। কানাডার মাটিতে একজন শিক্ষার্থীর সাথে ঘটে যাওয়া এই বৈষম্যমূলক আচরণ বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিচারিতাকে আবারও উন্মোচিত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন