বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

তেহরানে সুপ্রিম হত্যাযজ্ঞের দুই বছর পূর্তিতে হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়ার আপসহীন জীবন, পারিবারিক পরিচয় ও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার প্রত্যয় তুলে ধরলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান

ইসমাইল হানিয়ার শাহাদাতের ২ বছর: ‘গাজার সন্তানদের নিজের সন্তান মনে করতেন বাবা’, স্মৃতিচারণায় জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দুস সালাম



ইসমাইল হানিয়ার শাহাদাতের ২ বছর: ‘গাজার সন্তানদের নিজের সন্তান মনে করতেন বাবা’, স্মৃতিচারণায় জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দুস সালাম

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার শাহাদাতের দুই বছর পূর্তিতে তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দুস সালাম হানিয়া। ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে এক হেয়ালি ইসরায়েলি সুপ্রিমে নিহত হওয়া এই মহান নেতাকে বিশ্ব উম্মাহ ও ফিলিস্তিনি জনগণ এখনও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। আব্দুস সালাম জানান, তাঁর বাবা কেবল একজন বিশ্বমানের রাজনৈতিক দূরদর্শী নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন পুরো গাজাবাসীর এক মমতাময় অভিভাবক।

ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ও হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সাবেক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার শাহাদাতের দুই বছর পূর্ণ হলো। তৎকালীন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই তেহরান সফরে গিয়ে ৩১ জুলাই রাতে এক ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলায় শাহাদাত বরণ করেন তিনি। তাঁর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাবার স্মৃতি, পারিবারিক আদর্শ এবং ফিলিস্তিন মুক্তির সংগ্রাম নিয়ে আলোকপাত করেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দুস সালাম হানিয়া।

পরিবারের অভিভাবক ও শহীদ

আব্দুস সালাম হানিয়া বলেন, "আমাদের কাছে তিনি কেবল একজন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তিনি ছিলেন উম্মাহর শহীদ। বাড়িতে তিনি ছিলেন একজন সহানুভূতিশীল, অত্যন্ত দয়ালু ও সদা হাস্যোজ্জ্বল বাবা, একজন শিক্ষক, দিকনির্দেশক এবং আমাদের সেরা বন্ধু।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা তাঁর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি সেকেন্ড মিস করি। ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মাঝেও তিনি পরিবারের সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তাঁর কণ্ঠের কুরআন তিলাওয়াত ছিল আমাদের ঘরের সবচেয়ে বড় আত্মিক প্রশান্তি।"

গাজার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা

ইসমাইল হানিয়া নিজের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে গাজার অন্যান্য সাধারণ শিশুদের কখনোই আলাদা করে দেখতেন না উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, "বাবা গাজার সব শিশুকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। গাজাবাসীর কষ্টকে তিনি নিজের কষ্ট মনে করতেন। তিনি প্রায়শই আমাদের বলতেন, ‘আমি একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব। তোমাদের কাছে আমার একমাত্র আমানত হলো গাজার জনগণ।’ তিনি আমাদের এই আমানত রক্ষা করা ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার নির্দেশ দিয়ে গেছেন।"

তিনি জানান, শাহাদাতের দুই বছর পরও বিশ্বজুড়ে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হৃদয়ে ইসমাইল হানিয়া অমর হয়ে আছেন। গাজা, পশ্চিম তীরসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমদের পক্ষ থেকে এখনও শোক ও সহমর্মিতার বার্তা আসছে, যা প্রমাণ করে ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের নেতাকে ভোলেনি।

দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম

ফিলিস্তিন সংকট কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয় উল্লেখ করে আব্দুস সালাম স্পষ্ট বার্তা দেন যে, যতক্ষণ ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শেষ না হবে, ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, "ইতিহাসজুড়ে ফিলিস্তিনের জনগণ অসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে, অজস্র রক্ত দিয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান সুনিশ্চিত। প্রতিটি প্রজন্ম এই মহান আমানতকে ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে শাহাদাতের সুধা পান করবে।"
গাজার শিশু ও মানবিক বিপর্যয়

তিনি বলেন, "ইতিহাসজুড়ে ফিলিস্তিনের জনগণ অসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে, অজস্র রক্ত দিয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান সুনিশ্চিত। প্রতিটি প্রজন্ম এই মহান আমানতকে ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে শাহাদাতের সুধা পান করবে।"

গাজার শিশু ও মানবিক বিপর্যয়

গাজায় চলমান নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের আকুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "গাজার শিশুরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের শিশুদের মতোই নিরাপদে বাঁচতে চায়, লেখাপড়া করতে চায় এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চায়। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলছে, ‘আমাদের হত্যা করা বন্ধ করুন, এই অবৈধ দখলদারিত্ব থামান।’ ফিলিস্তিনের নারীদের ও শিশুদের পাশে দাঁড়ানো পুরো বিশ্ববাসীর নৈতিক দায়িত্ব।"

গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল, স্কুল ও অবকাঠামোর সার্বিক চিত্র তুলে ধরে আব্দুস সালাম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন অবিলম্বে বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে ফিলিস্তিন জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিষয় : ফিলিস্তিন ইসমাইল হানিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


ইসমাইল হানিয়ার শাহাদাতের ২ বছর: ‘গাজার সন্তানদের নিজের সন্তান মনে করতেন বাবা’, স্মৃতিচারণায় জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দুস সালাম

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার শাহাদাতের দুই বছর পূর্তিতে তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দুস সালাম হানিয়া। ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে এক হেয়ালি ইসরায়েলি সুপ্রিমে নিহত হওয়া এই মহান নেতাকে বিশ্ব উম্মাহ ও ফিলিস্তিনি জনগণ এখনও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। আব্দুস সালাম জানান, তাঁর বাবা কেবল একজন বিশ্বমানের রাজনৈতিক দূরদর্শী নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন পুরো গাজাবাসীর এক মমতাময় অভিভাবক।

ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ও হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সাবেক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার শাহাদাতের দুই বছর পূর্ণ হলো। তৎকালীন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই তেহরান সফরে গিয়ে ৩১ জুলাই রাতে এক ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলায় শাহাদাত বরণ করেন তিনি। তাঁর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাবার স্মৃতি, পারিবারিক আদর্শ এবং ফিলিস্তিন মুক্তির সংগ্রাম নিয়ে আলোকপাত করেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র আব্দুস সালাম হানিয়া।

পরিবারের অভিভাবক ও শহীদ

আব্দুস সালাম হানিয়া বলেন, "আমাদের কাছে তিনি কেবল একজন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তিনি ছিলেন উম্মাহর শহীদ। বাড়িতে তিনি ছিলেন একজন সহানুভূতিশীল, অত্যন্ত দয়ালু ও সদা হাস্যোজ্জ্বল বাবা, একজন শিক্ষক, দিকনির্দেশক এবং আমাদের সেরা বন্ধু।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা তাঁর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি সেকেন্ড মিস করি। ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মাঝেও তিনি পরিবারের সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তাঁর কণ্ঠের কুরআন তিলাওয়াত ছিল আমাদের ঘরের সবচেয়ে বড় আত্মিক প্রশান্তি।"

গাজার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা

ইসমাইল হানিয়া নিজের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে গাজার অন্যান্য সাধারণ শিশুদের কখনোই আলাদা করে দেখতেন না উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, "বাবা গাজার সব শিশুকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। গাজাবাসীর কষ্টকে তিনি নিজের কষ্ট মনে করতেন। তিনি প্রায়শই আমাদের বলতেন, ‘আমি একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব। তোমাদের কাছে আমার একমাত্র আমানত হলো গাজার জনগণ।’ তিনি আমাদের এই আমানত রক্ষা করা ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার নির্দেশ দিয়ে গেছেন।"

তিনি জানান, শাহাদাতের দুই বছর পরও বিশ্বজুড়ে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হৃদয়ে ইসমাইল হানিয়া অমর হয়ে আছেন। গাজা, পশ্চিম তীরসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমদের পক্ষ থেকে এখনও শোক ও সহমর্মিতার বার্তা আসছে, যা প্রমাণ করে ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের নেতাকে ভোলেনি।

দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম

ফিলিস্তিন সংকট কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয় উল্লেখ করে আব্দুস সালাম স্পষ্ট বার্তা দেন যে, যতক্ষণ ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শেষ না হবে, ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, "ইতিহাসজুড়ে ফিলিস্তিনের জনগণ অসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে, অজস্র রক্ত দিয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান সুনিশ্চিত। প্রতিটি প্রজন্ম এই মহান আমানতকে ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে শাহাদাতের সুধা পান করবে।"
গাজার শিশু ও মানবিক বিপর্যয়

তিনি বলেন, "ইতিহাসজুড়ে ফিলিস্তিনের জনগণ অসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে, অজস্র রক্ত দিয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান সুনিশ্চিত। প্রতিটি প্রজন্ম এই মহান আমানতকে ধারণ করবে এবং প্রয়োজনে শাহাদাতের সুধা পান করবে।"

গাজার শিশু ও মানবিক বিপর্যয়

গাজায় চলমান নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের আকুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "গাজার শিশুরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের শিশুদের মতোই নিরাপদে বাঁচতে চায়, লেখাপড়া করতে চায় এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চায়। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলছে, ‘আমাদের হত্যা করা বন্ধ করুন, এই অবৈধ দখলদারিত্ব থামান।’ ফিলিস্তিনের নারীদের ও শিশুদের পাশে দাঁড়ানো পুরো বিশ্ববাসীর নৈতিক দায়িত্ব।"

গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল, স্কুল ও অবকাঠামোর সার্বিক চিত্র তুলে ধরে আব্দুস সালাম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপন অবিলম্বে বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে ফিলিস্তিন জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ