মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে ভারতে মোট ৪৪ জন মুসলিম নিহত; উগ্র হিন্দুত্ববাদী সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

ভারতে ৩ মাসে ২৫ মুসলিমকে হত্যা: পারসিকিউশন ট্র্যাকারের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট



ভারতে ৩ মাসে ২৫ মুসলিমকে হত্যা: পারসিকিউশন ট্র্যাকারের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

মানবাধিকার সংস্থা 'সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন'-এর সাম্প্রতিক 'ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার' রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ভারতে অন্তত ২৫ জন মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতদের মধ্যে ১৫ জন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে এবং ১০ জন উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংখ্যার মাধ্যমে ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে ভারতে মুসলিম নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৪৪ জনে, যা দেশটির ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার চরম অবনতিকে নির্দেশ করে।

২০২৬ সালে আশঙ্কাজনক রেকর্ড

'ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার'-এর মে ১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক এই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে প্রাণ হারানো ১৯ জনসহ এখন পর্যন্ত মোট ৪৪ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুর পেছনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে এবং ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হামলায়। সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ২০২২ সালে তারা এই তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর থেকে ২০২৬ সালটি ভারতে মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরে পরিণত হতে যাচ্ছে। তবে তারা স্পষ্ট করেছে যে, এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়; কেবল যেসব ঘটনা নিশ্চিত ও যাচাই করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলোই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, গ্রেপ্তার ও বুলডোজার নীতি

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, আসাম, কাশ্মীর এবং পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের লক্ষ্য করে গণগ্রেপ্তার, আটক, ঘরবাড়ি উচ্ছেদ এবং তথাকথিত পুলিশি এনকাউন্টার অব্যাহত রয়েছে। গত মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে অন্তত ১৫ জন মুসলিম পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হন। উত্তর প্রদেশ সরকারের নিজস্ব পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৭,০৪৩টি পুলিশি অভিযানে ২৮৯ জন নিহত এবং ১১,৮৩৪ জন আহত হয়েছেন।

কাশ্মীরে গত জুলাই মাসে এক সশস্ত্র হামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ২,৫০০ এরও বেশি মানুষকে আটক করে এবং দুটি পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া, বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে মুসলিমদের অনুপাতিকভাবে বেশি গ্রেপ্তার করার চিত্র উঠে এসেছে; যেমন কোলকাতায় এক বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনই ছিলেন মুসলিম।

ঘৃণামূলক অপরাধ ও উগ্রপন্থীদের হামলা

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য তিন মাসে ভারতের পাঁচটি রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বাহিনীর হামলায় অন্তত ১০ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। এই নিহতদের মধ্যে একজন ১১ বছরের বালিকা এবং একজন ১৬ বছরের কিশোরও রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচটি রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রথম নির্বাচনী বিজয়ের পর মসজিদ, মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতিতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় অন্তত ২ জন নিহত হন, যার মধ্যে একজন মসজিদ রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারান।

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর নতুন চাপ

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপির প্রশাসনিক মেয়াদের প্রথম কয়েক মাসেই বাংলাভাষী মুসলিমদের নিশানা করে নাগরিকত্ব যাচাই, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং কল্যাণমূলক নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকার প্রথম মাসেই ৪,৮০০ জন কথিত "অনুপ্রবেশকারীকে" পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানোর দাবি করেছে এবং পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আটককৃতদের আদালতে হাজির না করে সরাসরি সীমান্তরক্ষা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে। এছাড়া, অনগ্রসর শ্রেণীর তালিকার সংরক্ষণ সুবিধা থেকে ৭৭টি মুসলিম সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতের বাজেট ৬২% কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার ঠিক আগে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয় এবং নতুন প্রতিরোধমূলক আটক আইনের অধীনে প্রতিবাদকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামে জোরপূর্বক পুশব্যাক ও নাগরিকত্ব সংকট

আসামের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাভাষী মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার (পুশব্যাক) ঘটনা অব্যাগত রয়েছে। আসাম সরকারের দাবি অনুযায়ী, গত দুই বছরে ১,৬৭৯ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য সূত্র দিয়ে এতে বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী রাতের অন্ধকারে সীমান্ত বেড়ার ফাঁক দিয়ে শিশুসহ পুরো পরিবারকে ওপারে ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার) রাজনৈতিক ভাষা ও নীতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, এ ধরণের চরমপন্থি বক্তব্য ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের ভুলভাবে বিদেশি বানিয়ে বর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণকে উস্কে দিচ্ছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত ও সম্পদ ধ্বংস

প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয় যে, আসাম ও মধ্য প্রদেশ রাজ্যে 'ইউনিফর্ম সিভিল কোড' (UCC) জারি করা হয়েছে, যা মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের ওপর আঘাত হানছে। এছাড়া 'বন্দে মাতরম' গানের "অবমাননা" করলে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ৬টি রাজ্যে অন্তত ২৩টি ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর বা ধ্বংস করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, আটটি রাজ্যে ২১টিরও বেশি ঘটনায় ১,০০০টিরও বেশি মুসলিম ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৬ সালে মোট ধ্বংসের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন জানিয়েছে, ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া, নাগরিক স্বাধীনতা সংকোচন এবং রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে মুসলিমদের প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার করার বিষয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ধারাবাহিক উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। রাষ্ট্রীয় আইন, নীতি এবং শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে মুসলিমদের একটি বহিরাগত গোষ্ঠী হিসেবে তুলে ধরার যে অপচেষ্টা চলছে, তা ভারতের সংখ্যালঘু নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ হুমকি তৈরি করেছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


ভারতে ৩ মাসে ২৫ মুসলিমকে হত্যা: পারসিকিউশন ট্র্যাকারের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মানবাধিকার সংস্থা 'সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন'-এর সাম্প্রতিক 'ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার' রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ভারতে অন্তত ২৫ জন মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতদের মধ্যে ১৫ জন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে এবং ১০ জন উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংখ্যার মাধ্যমে ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে ভারতে মুসলিম নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৪৪ জনে, যা দেশটির ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার চরম অবনতিকে নির্দেশ করে।

২০২৬ সালে আশঙ্কাজনক রেকর্ড

'ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার'-এর মে ১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক এই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে প্রাণ হারানো ১৯ জনসহ এখন পর্যন্ত মোট ৪৪ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুর পেছনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে এবং ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হামলায়। সংস্থাটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ২০২২ সালে তারা এই তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর থেকে ২০২৬ সালটি ভারতে মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরে পরিণত হতে যাচ্ছে। তবে তারা স্পষ্ট করেছে যে, এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়; কেবল যেসব ঘটনা নিশ্চিত ও যাচাই করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলোই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, গ্রেপ্তার ও বুলডোজার নীতি

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, আসাম, কাশ্মীর এবং পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের লক্ষ্য করে গণগ্রেপ্তার, আটক, ঘরবাড়ি উচ্ছেদ এবং তথাকথিত পুলিশি এনকাউন্টার অব্যাহত রয়েছে। গত মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে অন্তত ১৫ জন মুসলিম পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হন। উত্তর প্রদেশ সরকারের নিজস্ব পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৭,০৪৩টি পুলিশি অভিযানে ২৮৯ জন নিহত এবং ১১,৮৩৪ জন আহত হয়েছেন।

কাশ্মীরে গত জুলাই মাসে এক সশস্ত্র হামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ২,৫০০ এরও বেশি মানুষকে আটক করে এবং দুটি পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া, বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে মুসলিমদের অনুপাতিকভাবে বেশি গ্রেপ্তার করার চিত্র উঠে এসেছে; যেমন কোলকাতায় এক বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনই ছিলেন মুসলিম।

ঘৃণামূলক অপরাধ ও উগ্রপন্থীদের হামলা

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য তিন মাসে ভারতের পাঁচটি রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বাহিনীর হামলায় অন্তত ১০ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। এই নিহতদের মধ্যে একজন ১১ বছরের বালিকা এবং একজন ১৬ বছরের কিশোরও রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচটি রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রথম নির্বাচনী বিজয়ের পর মসজিদ, মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতিতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় অন্তত ২ জন নিহত হন, যার মধ্যে একজন মসজিদ রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারান।

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর নতুন চাপ

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপির প্রশাসনিক মেয়াদের প্রথম কয়েক মাসেই বাংলাভাষী মুসলিমদের নিশানা করে নাগরিকত্ব যাচাই, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং কল্যাণমূলক নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকার প্রথম মাসেই ৪,৮০০ জন কথিত "অনুপ্রবেশকারীকে" পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানোর দাবি করেছে এবং পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আটককৃতদের আদালতে হাজির না করে সরাসরি সীমান্তরক্ষা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে। এছাড়া, অনগ্রসর শ্রেণীর তালিকার সংরক্ষণ সুবিধা থেকে ৭৭টি মুসলিম সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতের বাজেট ৬২% কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহার ঠিক আগে গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয় এবং নতুন প্রতিরোধমূলক আটক আইনের অধীনে প্রতিবাদকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামে জোরপূর্বক পুশব্যাক ও নাগরিকত্ব সংকট

আসামের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাভাষী মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার (পুশব্যাক) ঘটনা অব্যাগত রয়েছে। আসাম সরকারের দাবি অনুযায়ী, গত দুই বছরে ১,৬৭৯ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য সূত্র দিয়ে এতে বলা হয়, ভারতীয় বাহিনী রাতের অন্ধকারে সীমান্ত বেড়ার ফাঁক দিয়ে শিশুসহ পুরো পরিবারকে ওপারে ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার) রাজনৈতিক ভাষা ও নীতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্ক করেছেন যে, এ ধরণের চরমপন্থি বক্তব্য ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের ভুলভাবে বিদেশি বানিয়ে বর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণকে উস্কে দিচ্ছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত ও সম্পদ ধ্বংস

প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয় যে, আসাম ও মধ্য প্রদেশ রাজ্যে 'ইউনিফর্ম সিভিল কোড' (UCC) জারি করা হয়েছে, যা মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের ওপর আঘাত হানছে। এছাড়া 'বন্দে মাতরম' গানের "অবমাননা" করলে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ৬টি রাজ্যে অন্তত ২৩টি ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর বা ধ্বংস করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, আটটি রাজ্যে ২১টিরও বেশি ঘটনায় ১,০০০টিরও বেশি মুসলিম ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৬ সালে মোট ধ্বংসের সংখ্যা ৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন জানিয়েছে, ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া, নাগরিক স্বাধীনতা সংকোচন এবং রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে মুসলিমদের প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার করার বিষয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ধারাবাহিক উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। রাষ্ট্রীয় আইন, নীতি এবং শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে মুসলিমদের একটি বহিরাগত গোষ্ঠী হিসেবে তুলে ধরার যে অপচেষ্টা চলছে, তা ভারতের সংখ্যালঘু নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ হুমকি তৈরি করেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ