ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা সর্বজনীন এবং সেখানে নারীরা এখনো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকী। রাজধানী কাবুলে বিবিসি প্রতিনিধিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাবুলের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক, ইমারাতে ইসলামিয়ার কূটনৈতিক স্বীকৃতি এবং মেয়েদের শিক্ষা সংক্রান্ত বর্তমান অবস্থান ও নীতি তুলে ধরেন।
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকী বলেছেন, দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা দেশের সব সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে এবং এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার। একই সাথে সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সরকারি দপ্তরে নারীরা এখনো তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। রাজধানী কাবুলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিনিধি হাসিব আম্মারের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাবুলের বর্তমান অবস্থান, বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং ইমারাতে ইসলামিয়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মাওলানা মুত্তাকী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তানের সাধারণ জনগণ বর্তমান ইসলামিক সরকারের নীতি ও সার্বিক কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। সারা দেশজুড়ে সাধারণ আফগানদের পূর্ণ সমর্থন নিয়েই ইমারাতে ইসলামিয়া দেশ পরিচালনা করছে।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অগ্রগতি তুলে ধরে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিশ্বের বহু দেশের সাথে বর্তমানে ইমারাতে ইসলামিয়ার সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাবুলের কূটনৈতিক উপস্থিতি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আফগানিস্তানের ৪০টিরও বেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিস পুরোদমে তাদের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পশ্চিমা বিশ্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে মাওলানা মুত্তাকী বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়াকে স্বীকৃতি না দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তবে ঠিক কী কারণে তারা একটি স্থিতিশীল ও গণবান্ধব সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকছে—সেই প্রশ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেই করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আফগানিস্তান এখন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে যেকোনো দেশের সাথে মুক্তভাবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিচালনা করতে সক্ষম এবং ইতিমধ্যেই অনেক পরাশক্তি ও প্রতিবেশী দেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে।
মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে ইমারাতে ইসলামিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করে মাওলানা মুত্তাকী জানান, আফগানিস্তানে নারীদের মাদরাসা শিক্ষা চালু রয়েছে এবং প্রথাগত বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত তাদের পড়ালেখার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির পরবর্তী শিক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। কাবুল বর্তমানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা আরও বিস্তৃত করার যে কৌশলগত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য তারই ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
বিষয় : নারী আফগানিস্তান কর্মসংস্থান

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা সর্বজনীন এবং সেখানে নারীরা এখনো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকী। রাজধানী কাবুলে বিবিসি প্রতিনিধিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাবুলের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক, ইমারাতে ইসলামিয়ার কূটনৈতিক স্বীকৃতি এবং মেয়েদের শিক্ষা সংক্রান্ত বর্তমান অবস্থান ও নীতি তুলে ধরেন।
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকী বলেছেন, দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা দেশের সব সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে এবং এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার। একই সাথে সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সরকারি দপ্তরে নারীরা এখনো তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। রাজধানী কাবুলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিনিধি হাসিব আম্মারের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাবুলের বর্তমান অবস্থান, বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং ইমারাতে ইসলামিয়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মাওলানা মুত্তাকী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তানের সাধারণ জনগণ বর্তমান ইসলামিক সরকারের নীতি ও সার্বিক কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। সারা দেশজুড়ে সাধারণ আফগানদের পূর্ণ সমর্থন নিয়েই ইমারাতে ইসলামিয়া দেশ পরিচালনা করছে।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অগ্রগতি তুলে ধরে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিশ্বের বহু দেশের সাথে বর্তমানে ইমারাতে ইসলামিয়ার সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাবুলের কূটনৈতিক উপস্থিতি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আফগানিস্তানের ৪০টিরও বেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিস পুরোদমে তাদের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পশ্চিমা বিশ্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে মাওলানা মুত্তাকী বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়াকে স্বীকৃতি না দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তবে ঠিক কী কারণে তারা একটি স্থিতিশীল ও গণবান্ধব সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকছে—সেই প্রশ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেই করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আফগানিস্তান এখন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে যেকোনো দেশের সাথে মুক্তভাবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিচালনা করতে সক্ষম এবং ইতিমধ্যেই অনেক পরাশক্তি ও প্রতিবেশী দেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে।
মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে ইমারাতে ইসলামিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করে মাওলানা মুত্তাকী জানান, আফগানিস্তানে নারীদের মাদরাসা শিক্ষা চালু রয়েছে এবং প্রথাগত বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত তাদের পড়ালেখার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ষষ্ঠ শ্রেণির পরবর্তী শিক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। কাবুল বর্তমানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা আরও বিস্তৃত করার যে কৌশলগত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য তারই ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

আপনার মতামত লিখুন