আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডি প্রজাতন্ত্রের তরুণী বিনত্রা বুশিমা আমিন মাত্র ১৪ বছর বয়সে ইসলামের সত্যের আলোয় আলোকিত হন। অদম্য ইচ্ছা ও কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মাসে পবিত্র কোরআন হিফজ করে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন তিনি। বর্তমানে সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ৪৬তম কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বুরুন্ডির জাতীয় প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে অংশ নিচ্ছেন এই নওমুসলিম হাফেজা।
হেদায়েতের আলো মানুষের জীবনে কীভাবে অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে পারে, তার এক জীবন্ত ও অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডি প্রজাতন্ত্রের নাগরিক বিনত্রা বুশিমা আমিন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মুসলিম বন্ধুর আমন্ত্রণে ইসলামী জীবনবিধান ও তাওহীদের সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে শুরু করেন তিনি। ইসলামের উচ্চ নৈতিকতা, সর্বজনীন মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্য তার হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করে, যার ফলশ্রুতিতে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার এই সত্যের পথের অনুসারী হয়ে পরবর্তীতে পরিবারের আরও চার সদস্য ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নেন।
ইসলাম গ্রহণের পর বিনত্রার জীবনে শুরু হয় পবিত্র কোরআনের সাথে এক অপার্থিব ও গভীর পথচলা। নতুন এক জীবন ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে অদম্য মেধা, সুদৃঢ় সংকল্প এবং অধ্যবসায়কে পুঁজি করে তিনি কোরআন হিফজ শুরু করেন। পরম করুণাময়ের অশেষ রহমতে মাত্র পাঁচ মাসের সংক্ষিপ্ততম সময়ে তিনি সম্পূর্ণ ৩০ পারা পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার অনন্য গৌরব অর্জন করেন। হিফজ শেষ করেই তিনি থেমে থাকেননি; বরং নিজের তেলাওয়াতকে আরও নির্ভুল, সুন্দর ও সুদৃঢ় করতে ক্রমাগত চর্চা ও পরিশ্রম চালিয়ে যান।
বিনত্রার এই অসাধারণ সাফল্যের দিগন্ত স্থানীয় সীমানা ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে উন্মোচিত হয়। বুরুন্ডিতে আয়োজিত একটি জাতীয় কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০০ জন দক্ষ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। জাতীয় পর্যায়ের এই অসামান্য জয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ঐতিহাসিক গৌরব ও সুযোগ লাভ করেন।
তার এই অভাবনীয় সফলতার ধারাবাহিকতায় তিনি সৌদি আরবের মক্কায় আয়োজিত বিশ্ববিখ্যাত ৪৬তম কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অভিজ্ঞ হাফেজ ও ক্বারিদের সঙ্গে পবিত্র মসজিদুল হারামের প্রাঙ্গণে বুরুন্ডির পতাকা উঁচুতে তুলে ধরেছেন তিনি। উল্লেখ্য, বিশ্বমানের এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন নারী ও পুরুষ প্রতিযোগী পবিত্র কোরআন হিফজ, সুন্দর তেলাওয়াত ও তাফসীর বিভাগের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মাত্র এক বছর আগেও যিনি ইসলামের অমিয় বাণী থেকে দূরে ছিলেন, আজ সেই বিনত্রা বুশিমা আমিন মক্কার পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে বিশ্বের দরবারে ইসলামের সৌন্দর্য ও অসীম সম্ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই বিস্ময়কর যাত্রার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি আল্লাহর কালাম ও কোরআন চর্চায় সহায়তা করা শিক্ষক-সহযোগীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। একই সাথে বিশ্বজুড়ে হাফেজ ও কোরআনপ্রেমীদের এক সুতোয় বাঁধার এই অভূতপূর্ব আয়োজনের জন্য সৌদি আরব সরকারের নেতৃত্বের প্রতিও ধন্যবাদ ও প্রশংসা জ্ঞাপন করেন।
মতামত