বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

পটুয়াখালীর মৌকরন শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে হৃদয়বিদারক ঘটনা; মোনাজাতের বদলে প্রিয় ইমামের জানাজায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মুসল্লিরা।

ফজরের সুন্নত নামাজের সিজদায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন হাফেজ আতাউল্লাহ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

ফজরের সুন্নত নামাজের সিজদায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন হাফেজ আতাউল্লাহ

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন মসজিদের সম্মানিত ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে নামাজের প্রস্তুতি চলাকালে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার এই হঠাৎ বিদায়ে স্বজন, মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।

আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকা অবস্থাতেই জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে এক বিরল ও ঈর্ষণীয় মৃত্যুর দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে প্রতিদিনের মতো ভোরে ফজরের সালাত আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তবে সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় যাওয়ার পর তিনি আর মাথা তোলেননি। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় দেখে পেছনে থাকা মুসল্লিরা কাছে গিয়ে দেখতে পান তিনি ইন্তেকাল করেছেন।

নিহত হাফেজ আতাউল্লাহ পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং মাওলানা আব্দুস সালামের একমাত্র সন্তান। শিক্ষা জীবনে তিনি পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসা থেকে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এবং দুটি ছোট অবুঝ সন্তান রেখে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে হাফেজ আতাউল্লাহ সততা ও নিষ্ঠার সাথে মৌকরন শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নিয়মিত দ্বীনি দাওয়াত ও ইমামতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সাথে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। নম্র স্বভাব ও সুন্নাহভিত্তিক আচরণের কারণে তিনি এলাকার সকল স্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত পছন্দের ও শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।

তার আকস্মিক প্রয়াণে প্রতিবেশী ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "তিনি তার বৃদ্ধ বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। অবুঝ দুটি ছোট সন্তান রেখে এভাবে তার চলে যাওয়াটা পুরো পরিবারের জন্য এক চরম অপূরণীয় ক্ষতি।"

হাফেজ আতাউল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তাকে একনজর দেখার জন্য তার বাসভবন ও মসজিদে ভিড় জমান। পরিবার ও মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে আসরের নামাজের পর তার নিজ গ্রাম শ্রীরামপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


ফজরের সুন্নত নামাজের সিজদায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন হাফেজ আতাউল্লাহ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ফজরের সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন মসজিদের সম্মানিত ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন)। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে নামাজের প্রস্তুতি চলাকালে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার এই হঠাৎ বিদায়ে স্বজন, মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।

আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকা অবস্থাতেই জীবনের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে এক বিরল ও ঈর্ষণীয় মৃত্যুর দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ। পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে প্রতিদিনের মতো ভোরে ফজরের সালাত আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। তবে সুন্নত নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় যাওয়ার পর তিনি আর মাথা তোলেননি। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় দেখে পেছনে থাকা মুসল্লিরা কাছে গিয়ে দেখতে পান তিনি ইন্তেকাল করেছেন।

নিহত হাফেজ আতাউল্লাহ পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং মাওলানা আব্দুস সালামের একমাত্র সন্তান। শিক্ষা জীবনে তিনি পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসা থেকে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এবং দুটি ছোট অবুঝ সন্তান রেখে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে হাফেজ আতাউল্লাহ সততা ও নিষ্ঠার সাথে মৌকরন শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নিয়মিত দ্বীনি দাওয়াত ও ইমামতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সাথে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। নম্র স্বভাব ও সুন্নাহভিত্তিক আচরণের কারণে তিনি এলাকার সকল স্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত পছন্দের ও শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।

তার আকস্মিক প্রয়াণে প্রতিবেশী ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "তিনি তার বৃদ্ধ বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। অবুঝ দুটি ছোট সন্তান রেখে এভাবে তার চলে যাওয়াটা পুরো পরিবারের জন্য এক চরম অপূরণীয় ক্ষতি।"

হাফেজ আতাউল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তাকে একনজর দেখার জন্য তার বাসভবন ও মসজিদে ভিড় জমান। পরিবার ও মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে আসরের নামাজের পর তার নিজ গ্রাম শ্রীরামপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ