শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে আমিরাবাদ বন্দরে পৌঁছাল দু’ডজনের বেশি রুশ জাহাজ; পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে চাঞ্চল্য।

কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিল অস্ত্রবাহী রুশ নৌবহর: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে মস্কো-তেহরানের নতুন বার্তা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিল অস্ত্রবাহী রুশ নৌবহর: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে মস্কো-তেহরানের নতুন বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া থেকে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌছেছে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক সামগ্রীর এক বিশাল চালান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে দুই ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ এই অস্ত্র পরিবহন করে। সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ মস্কো-তেহরান সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার স্পষ্ট আলামত।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার পরিস্থিতির মধ্যে ইরানকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রের খুচরা যন্ত্রপাতি এবং ভারী বিস্ফোরক সামগ্রীর এক বড় চালান সরবরাহ করেছে রাশিয়া। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসির বরাত দিয়ে গোয়েন্দা নথির ওপর ভিত্তি করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কাস্পিয়ান সাগর পথ ব্যবহার করে অন্তত দুই ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজের মাধ্যমে এই বিশাল সামরিক চালানটি ইরানের উত্তর উপকূলীয় আমিরাবাদ বন্দরে এনে পৌঁছানো হয়। গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসন জানান, এই বিশাল চালান থেকে স্পষ্ট যে তেহরান ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত হয়েছে। একইসাথে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে গুঞ্জন রয়েছে, এই অস্ত্র আমদানি তার সত্যতা নির্দেশ করে।

খবরে উল্লেখ করা হয়, পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলো তৈরি করেছে রুশ জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'এমজি-ফ্লোট', যা ২০২৪ সাল থেকেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০ বছর মেয়াদী 'বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব' চুক্তির আলোকেই এই সামরিক লেনদেন আরও বেগবান হয়েছে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান নিয়মিত তাদের প্রস্তুতকৃত 'শাহেদ' ড্রোন ও গোলাবারুদ রাশিয়াকে সরবরাহ করেছিল।

তবে রাশিয়াকে অস্ত্র সহায়তার এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন। এনবিসির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলে রাশিয়ার প্রশাসনিক দপ্তর একে 'ভুয়া খবর' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাসত্ত্বেও মস্কো-তেহরান কৌশলগত আঁতাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিবিদরা।

বিষয় : রাশিয়া ইরান নৌবহর

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিল অস্ত্রবাহী রুশ নৌবহর: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে মস্কো-তেহরানের নতুন বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া থেকে ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে পৌছেছে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক সামগ্রীর এক বিশাল চালান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে দুই ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজ এই অস্ত্র পরিবহন করে। সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ মস্কো-তেহরান সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার স্পষ্ট আলামত।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতার পরিস্থিতির মধ্যে ইরানকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রের খুচরা যন্ত্রপাতি এবং ভারী বিস্ফোরক সামগ্রীর এক বড় চালান সরবরাহ করেছে রাশিয়া। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসির বরাত দিয়ে গোয়েন্দা নথির ওপর ভিত্তি করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কাস্পিয়ান সাগর পথ ব্যবহার করে অন্তত দুই ডজনেরও বেশি রুশ জাহাজের মাধ্যমে এই বিশাল সামরিক চালানটি ইরানের উত্তর উপকূলীয় আমিরাবাদ বন্দরে এনে পৌঁছানো হয়। গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসন জানান, এই বিশাল চালান থেকে স্পষ্ট যে তেহরান ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত হয়েছে। একইসাথে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে গুঞ্জন রয়েছে, এই অস্ত্র আমদানি তার সত্যতা নির্দেশ করে।

খবরে উল্লেখ করা হয়, পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলো তৈরি করেছে রুশ জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'এমজি-ফ্লোট', যা ২০২৪ সাল থেকেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০ বছর মেয়াদী 'বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব' চুক্তির আলোকেই এই সামরিক লেনদেন আরও বেগবান হয়েছে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান নিয়মিত তাদের প্রস্তুতকৃত 'শাহেদ' ড্রোন ও গোলাবারুদ রাশিয়াকে সরবরাহ করেছিল।

তবে রাশিয়াকে অস্ত্র সহায়তার এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন। এনবিসির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলে রাশিয়ার প্রশাসনিক দপ্তর একে 'ভুয়া খবর' বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাসত্ত্বেও মস্কো-তেহরান কৌশলগত আঁতাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিবিদরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ