শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

পর্যাপ্ত তথ্য ও আইনি উপাদানের অভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন ঢাকার আদালত।

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর মামলা: ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ আদালতে



ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর মামলা: ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ আদালতে

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি নালিশি মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

মামলাটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে আসামি করার আবেদন জানানো হয়েছিল।

এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাতসহ বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সংবাদকর্মী—যেমন পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন ও কনক সরোয়ার।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানের আদালতে এই আবেদন করেন। আদালত বাদীর বক্তব্য ও জবানবন্দি নথিভুক্ত করার পর আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন নিশ্চিত করেন যে, আনীত অভিযোগে কোনো আইনি কিংবা তথ্যাগত পর্যাপ্ত ভিত্তি বা উপাদান বিদ্যমান না থাকায় আদালত আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।

মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের প্ররোচনা, উসকানি ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কয়েক হাজার মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলা চালায়। আবেদনে দাবি করা হয়, ঐ দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হামলাকারীরা ভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এই সময় বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি, দলিলপত্র, বই-পুস্তক ও প্রামাণ্যচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট করা হয়। আবেদনে আরও দাবি করা হয়, পরবর্তীতে বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বাসভবনটির ক্ষতিসাধন করা হয়।

আবেদনকারী নারী অভিযোগ করেন, কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউব অ্যাক্টিভিস্ট লাইভে এসে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন এবং পরোক্ষ অর্থসহায়তা দিয়েছেন। তবে বিজ্ঞ আদালত সমস্ত বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখেন যে, আবেদনে যে সকল ব্যক্তির নাম যুক্ত করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি উপাদান বা প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন আবেদনকারী। ফলে আদালত এটি আমলে নেওয়ার অযোগ্য বলে আদেশ দেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অহেতুক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক মামলা থেকে নাগরিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আদালত সুনির্দিষ্ট তথ্যের অনুপস্থিতিতে এই আবেদনটি খারিজের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

বিষয় : ধানমন্ডি ৩২

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর মামলা: ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ আদালতে

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি নালিশি মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

মামলাটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে আসামি করার আবেদন জানানো হয়েছিল।

এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাতসহ বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও সংবাদকর্মী—যেমন পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন ও কনক সরোয়ার।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানের আদালতে এই আবেদন করেন। আদালত বাদীর বক্তব্য ও জবানবন্দি নথিভুক্ত করার পর আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন নিশ্চিত করেন যে, আনীত অভিযোগে কোনো আইনি কিংবা তথ্যাগত পর্যাপ্ত ভিত্তি বা উপাদান বিদ্যমান না থাকায় আদালত আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।

মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের প্ররোচনা, উসকানি ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কয়েক হাজার মানুষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলা চালায়। আবেদনে দাবি করা হয়, ঐ দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হামলাকারীরা ভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এই সময় বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি, দলিলপত্র, বই-পুস্তক ও প্রামাণ্যচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট করা হয়। আবেদনে আরও দাবি করা হয়, পরবর্তীতে বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বাসভবনটির ক্ষতিসাধন করা হয়।

আবেদনকারী নারী অভিযোগ করেন, কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউব অ্যাক্টিভিস্ট লাইভে এসে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন এবং পরোক্ষ অর্থসহায়তা দিয়েছেন। তবে বিজ্ঞ আদালত সমস্ত বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখেন যে, আবেদনে যে সকল ব্যক্তির নাম যুক্ত করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি উপাদান বা প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন আবেদনকারী। ফলে আদালত এটি আমলে নেওয়ার অযোগ্য বলে আদেশ দেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অহেতুক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক মামলা থেকে নাগরিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আদালত সুনির্দিষ্ট তথ্যের অনুপস্থিতিতে এই আবেদনটি খারিজের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ