ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে রাশিয়া নতুন করে অন্তত ৩ লাখ সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউক্রেনীয় বিমান হামলা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে দোনেৎস্কসহ পূর্ব ইউক্রেনে রুশ বাহিনী অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে সামরিক সহায়তার চুক্তি করলেও ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট মেটেনি, যার ফলে শীতকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় বড় ঝুঁকিতে পড়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্য নিয়ে ক্রেমলিন নতুন করে বিপুলসংখ্যক সেনা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, রুশ পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরপরই প্রায় ৩ লাখ নতুন সেনা সমাবেশের এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। কেবল এটিই নয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়া আরও প্রায় ৫ লাখ অতিরিক্ত সেনা বাহিনীর বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দোনেৎস্কসহ পূর্ব ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট ও রণকৌশলগত এলাকায় রুশ বাহিনী সমন্বিত হামলা চালাচ্ছে। ব্যাপক সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও মস্কো তাদের ভূখণ্ড দখলের চাপ বজায় রেখেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া তাদের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি করেছে, যা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কাঠামোর ওপর প্রতিনিয়ত চাপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন বর্তমানে মারাত্মক আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে ভুগছে। মার্কিন তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় কিয়েভ তাদের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো রক্ষায় বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন শীত মৌসুমে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্র বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে জরুরি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইউক্রেন সংকট নিরসনে বেসামরিক জীবনের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছে।
তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই সুনির্দিষ্ট দাবির জবাবে মস্কোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সেনা সমাবেশের খবরের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। (সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স ও ট্রিবিউন ইন্ডিয়া)
মতামত