অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ইসরায়েলি বাহিনীর নানা বিধি-নিষেধ ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসবে উদযাপিত হয়েছে প্রপ্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী (ঈদে মিলাদুন্নবী)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ এবং হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদসহ ফিলিস্তিনের প্রধান শহরগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা সমবেত হন। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহে খুতবা প্রদান, নবীর জীবনভিত্তিক আলোচনা, দোয়ার মাহফিল এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
ইসরায়েলি দখলদারিত্বের চরম সংকটময় পরিস্থিতিতেও ফিলিস্তিনি মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পবিত্র স্থানসমূহের নিরাপত্তা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে মহানবী (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার পুরো ফিলিস্তিনজুড়ে ছিল সরকারি ছুটি এবং আনন্দমুখর পরিবেশ।
আল-আকসা মসজিদে বিশ্বাসীদের ঢল: পবিত্র জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে হাজারো ফিলিস্তিনি সমবেত হয়ে জোহরের নামাজ আদায় করেন। এর আগে জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ ও পবিত্র স্থান বিভাগের উদ্যোগে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আলেমগণ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, ন্যায়বিচার ও ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন। 'আল-আকসা এনসেম্বল ফর রিলিজিয়াস সংস অ্যান্ড প্রফেটিক প্রেইজেস'-এর শিল্পীরা বিশ্বনবীর শানে ধর্মীয় কাসিদা ও গান পরিবেশন করেন।
এর আগে সোমবার সর্বোচ্চ ইসলামী পরিষদের প্রধান ও আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ একরিমা সাবরি ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন তারা বিপুল সংখ্যায় আল-আকসায় উপস্থিত হয়ে পবিত্র এই স্মৃতি ও স্থানকে পুনরুজ্জীবিত রাখেন।
হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে আনন্দ উৎসব: পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক শহর হেবরনেও শত শত ফিলিস্তিনি ইব্রাহিমি মসজিদে একত্রিত হন। মসজিদে জোহরের নামাজের পর আলেমগণ মহানবীর (সা.) জীবন ও কর্ম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। মসজিদের বাইরে এবং পুরাতন শহরের সংযোগ সড়কগুলোতে এক উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়। ছোট ছোট শিশুরা পথচারীদের মাঝে মিষ্টান্ন বিতরণ করে। হেবরন পুনর্গঠন কমিটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পেশাদার শিল্পীদলসমূহ পথপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করে সাধারণ মানুষকে আনন্দিত করে তোলে।
নাবলুসের প্রাচীন বাজারে আলোর রোশনাই: উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাবলুসের পুরাতন শহরের শতবর্ষী বাজারগুলোকে বর্ণিল আলো এবং ইসলামিক প্রতীকের প্রতীকী আলোকিত অর্ধচন্দ্র দিয়ে চোখধাঁধানোভাবে সাজানো হয়। দখলদারদের অন্যায় বিধিনিষেধ ও আর্থিক সংকটের মানসিক চাপ ভুলে ফিলিস্তিনিরা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে মহানবীর (সা.) প্রতি ভালোবাসা ব্যক্ত করেন।
পবিত্র আল-আকসা ও ইব্রাহিমি মসজিদ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ও ধর্মীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি। দখলদার ইসরায়েলি চক্রান্ত সত্ত্বেও এসব পবিত্র স্থানে ফিলিস্তিনিদের হাজার বছরের ইসলামী সংস্কৃতির এই প্রাণবন্ত বহিপ্রকাশ প্রমাণ করে—কোনো শক্তিই ফিলিস্তিনের মাটি থেকে ইসলামের শেকড় উপড়ে ফেলতে পারবে না।
বিষয় : আল-আকসা ফিলিস্তিনি ইব্রাহিমি মসজিদ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ইসরায়েলি বাহিনীর নানা বিধি-নিষেধ ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসবে উদযাপিত হয়েছে প্রপ্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী (ঈদে মিলাদুন্নবী)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ এবং হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদসহ ফিলিস্তিনের প্রধান শহরগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা সমবেত হন। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানসমূহে খুতবা প্রদান, নবীর জীবনভিত্তিক আলোচনা, দোয়ার মাহফিল এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
ইসরায়েলি দখলদারিত্বের চরম সংকটময় পরিস্থিতিতেও ফিলিস্তিনি মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পবিত্র স্থানসমূহের নিরাপত্তা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে মহানবী (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার পুরো ফিলিস্তিনজুড়ে ছিল সরকারি ছুটি এবং আনন্দমুখর পরিবেশ।
আল-আকসা মসজিদে বিশ্বাসীদের ঢল: পবিত্র জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে হাজারো ফিলিস্তিনি সমবেত হয়ে জোহরের নামাজ আদায় করেন। এর আগে জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ ও পবিত্র স্থান বিভাগের উদ্যোগে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আলেমগণ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, ন্যায়বিচার ও ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন। 'আল-আকসা এনসেম্বল ফর রিলিজিয়াস সংস অ্যান্ড প্রফেটিক প্রেইজেস'-এর শিল্পীরা বিশ্বনবীর শানে ধর্মীয় কাসিদা ও গান পরিবেশন করেন।
এর আগে সোমবার সর্বোচ্চ ইসলামী পরিষদের প্রধান ও আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ একরিমা সাবরি ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন তারা বিপুল সংখ্যায় আল-আকসায় উপস্থিত হয়ে পবিত্র এই স্মৃতি ও স্থানকে পুনরুজ্জীবিত রাখেন।
হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে আনন্দ উৎসব: পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক শহর হেবরনেও শত শত ফিলিস্তিনি ইব্রাহিমি মসজিদে একত্রিত হন। মসজিদে জোহরের নামাজের পর আলেমগণ মহানবীর (সা.) জীবন ও কর্ম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। মসজিদের বাইরে এবং পুরাতন শহরের সংযোগ সড়কগুলোতে এক উৎসবমুখর আবহ তৈরি হয়। ছোট ছোট শিশুরা পথচারীদের মাঝে মিষ্টান্ন বিতরণ করে। হেবরন পুনর্গঠন কমিটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পেশাদার শিল্পীদলসমূহ পথপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করে সাধারণ মানুষকে আনন্দিত করে তোলে।
নাবলুসের প্রাচীন বাজারে আলোর রোশনাই: উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাবলুসের পুরাতন শহরের শতবর্ষী বাজারগুলোকে বর্ণিল আলো এবং ইসলামিক প্রতীকের প্রতীকী আলোকিত অর্ধচন্দ্র দিয়ে চোখধাঁধানোভাবে সাজানো হয়। দখলদারদের অন্যায় বিধিনিষেধ ও আর্থিক সংকটের মানসিক চাপ ভুলে ফিলিস্তিনিরা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে মহানবীর (সা.) প্রতি ভালোবাসা ব্যক্ত করেন।
পবিত্র আল-আকসা ও ইব্রাহিমি মসজিদ ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ও ধর্মীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তি। দখলদার ইসরায়েলি চক্রান্ত সত্ত্বেও এসব পবিত্র স্থানে ফিলিস্তিনিদের হাজার বছরের ইসলামী সংস্কৃতির এই প্রাণবন্ত বহিপ্রকাশ প্রমাণ করে—কোনো শক্তিই ফিলিস্তিনের মাটি থেকে ইসলামের শেকড় উপড়ে ফেলতে পারবে না।

আপনার মতামত লিখুন