মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

শরিয়াহ আদালতের নির্দেশ ছাড়া মারধর ও নির্যাতন নিষিদ্ধ; গ্রেপ্তারের সময় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পুলিশের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে কাবুল।

আফগানিস্তানে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে মানবিক আচরণের নির্দেশ, তালেবান সরকারের নতুন আইন জারি



আফগানিস্তানে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে মানবিক আচরণের নির্দেশ, তালেবান সরকারের নতুন আইন জারি

আফগানিস্তানে পুলিশি ব্যবস্থা, গ্রেপ্তার এবং আটক ব্যক্তি ও বন্দীদের অধিকার সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী আইনি কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ করেছে দেশটির তালেবান সরকার। নতুন আইনে সন্দেহভাজন ও আটক ব্যক্তিদের মানবাধিকার, মর্যাদা এবং মানবিক সুব্যবহার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট ও বাধ্যবাধকতামূলক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিল্লাত টাইমস (উর্দু)-এর বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আফগানিস্তানের বর্তমান প্রশাসন তাদের আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্যের সীমা নির্ধারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রবর্তন করেছে। নতুন এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো আটক ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যে কোনো ধরনের অমানবিক আচরণ প্রতিরোধ করা এবং তাদের মৌলিক ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা।

আইনের ধারা অনুযায়ী, পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় কোনোভাবেই তার শারীরিক ক্ষতি করতে পারবে না। একইসঙ্গে ব্যক্তির পারিবারিক, সামাজিক সম্মান ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন পদক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের শুরু থেকেই সুনির্দিষ্ট মানবিক মানদণ্ড অনুসরণ করাকে পুলিশের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বন্দীদের শারীরিক নির্যাতন রোধে আইনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নতুন বিধানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত শরিয়াহ আদালতের সুস্পষ্ট রায় বা নির্দেশ ছাড়া কোনো আটক ব্যক্তি বা অভিযুক্তকে লাঠি, চাবুক, ক্যাবল কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে আঘাত, মারধর বা নির্যাতন করা যাবে না। বিচার বিভাগীয় নির্দেশ ব্যতীত যে কোনো ধরণের পুলিশি নির্যাতনকে আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।

এছাড়া, কারাগার ও বন্দিশালা পরিচালনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ওপর পুলিশের ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত আদালতের রায় ব্যতীত কোনো রাজনৈতিক বা ফৌজদারি বন্দীকে পুলিশ নিজ এখতিয়ারে কোনো প্রকার শাস্তি দিতে পারবে না।

এই আইনি সংস্কারের মাধ্যমে আফগানিস্তানের পুলিশ বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি অভিযুক্ত ও বন্দীদের মানবাধিকার সুরক্ষায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিষয় : আফগানিস্তান তালেবান

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


আফগানিস্তানে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে মানবিক আচরণের নির্দেশ, তালেবান সরকারের নতুন আইন জারি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানে পুলিশি ব্যবস্থা, গ্রেপ্তার এবং আটক ব্যক্তি ও বন্দীদের অধিকার সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী আইনি কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ করেছে দেশটির তালেবান সরকার। নতুন আইনে সন্দেহভাজন ও আটক ব্যক্তিদের মানবাধিকার, মর্যাদা এবং মানবিক সুব্যবহার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট ও বাধ্যবাধকতামূলক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিল্লাত টাইমস (উর্দু)-এর বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আফগানিস্তানের বর্তমান প্রশাসন তাদের আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্যের সীমা নির্ধারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রবর্তন করেছে। নতুন এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো আটক ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যে কোনো ধরনের অমানবিক আচরণ প্রতিরোধ করা এবং তাদের মৌলিক ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা।

আইনের ধারা অনুযায়ী, পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় কোনোভাবেই তার শারীরিক ক্ষতি করতে পারবে না। একইসঙ্গে ব্যক্তির পারিবারিক, সামাজিক সম্মান ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন পদক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের শুরু থেকেই সুনির্দিষ্ট মানবিক মানদণ্ড অনুসরণ করাকে পুলিশের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বন্দীদের শারীরিক নির্যাতন রোধে আইনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নতুন বিধানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত শরিয়াহ আদালতের সুস্পষ্ট রায় বা নির্দেশ ছাড়া কোনো আটক ব্যক্তি বা অভিযুক্তকে লাঠি, চাবুক, ক্যাবল কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে আঘাত, মারধর বা নির্যাতন করা যাবে না। বিচার বিভাগীয় নির্দেশ ব্যতীত যে কোনো ধরণের পুলিশি নির্যাতনকে আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।

এছাড়া, কারাগার ও বন্দিশালা পরিচালনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ওপর পুলিশের ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত আদালতের রায় ব্যতীত কোনো রাজনৈতিক বা ফৌজদারি বন্দীকে পুলিশ নিজ এখতিয়ারে কোনো প্রকার শাস্তি দিতে পারবে না।

এই আইনি সংস্কারের মাধ্যমে আফগানিস্তানের পুলিশ বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি অভিযুক্ত ও বন্দীদের মানবাধিকার সুরক্ষায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ