শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

"মানসিক ভারসাম্যহীনতার" অজুহাতে উগ্রপন্থী অপরাধীকে অব্যাহতি; জেরুজালেমের খ্রিষ্টান সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাসমূহের ক্ষোভ।

পূর্ব জেরুজালেমে খ্রিষ্টান নানকে আক্রমণকারী ইসরায়েলিকে খালাস দিল আদালত



পূর্ব জেরুজালেমে খ্রিষ্টান নানকে আক্রমণকারী ইসরায়েলিকে খালাস দিল আদালত

দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে একজন খ্রিষ্টান নান (ধর্মানুরাগী নারী)-এর ওপর শারীরিক হামলা চালানো উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ইয়োনা শ্রাইবারকে বেকসুর খালাস দিয়েছে ইসরায়েলি আদালত। বিচারক দাবি করেছেন, আক্রমণের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিজের আচরণের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ইসরায়েলি বিচারব্যবস্থার এই বিতর্কিত রায় জেরুজালেমের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, স্থানীয় অধিবাসী এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

দখলকৃত জেরুজালেমে অমুসলিম ও মুসলিম উভয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং পবিত্র স্থানগুলোর ওপর উগ্রপন্থীদের অব্যাহত আক্রমণের মধ্যে ইসরায়েলের বিচার বিভাগ একটি নতুন বিতর্কিত নজির স্থাপন করল। গত এপ্রিলের শেষভাগে ওল্ড সিটিতে দায়িত্ব পালনকালে খ্রিষ্টান নানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ইয়োনা শ্রাইবারের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে স্থানীয় একটি ইসরায়েলি আদালত।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ঘটনার সময় শ্রাইবার "মানসিক রোগে আক্রান্ত" ছিলেন এবং তিনি যা করছিলেন সে সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি দেওয়াই প্রযোজ্য নয়।

ইসরায়েলি আদালতের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় খ্রিষ্টান সমাজ ও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মাঝে গভীর অসন্তোষ তৈরি করেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ইসরায়েলি প্রশাসন উগ্রপন্থী ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের অপরাধ ঢেকে রাখতে এবং তাদের জবাবদিহিতা থেকে বাঁচাতে বারবার "মানসিক ভারসাম্যহীনতার" এই কৌশলগত অজুহাত ব্যবহার করে আসছে। বিচারিক এই নিষ্ক্রিয়তা উগ্রপন্থীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং জেরুজালেমের বহুধর্মীয় সহাবস্থান ও ঐতিহাসিক পরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলবে।

পবিত্র স্থান ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ওপর ধারাবাহিক হামলা

জেরুজালেমে ইসরায়েলি কাঠামোগত সুরক্ষার কারণে উগ্র বসতিস্থাপনকারীরা প্রতিনিয়ত ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের প্রতীক, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ওপর উসকানি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। একের পর এক গির্জা ও মসজিদে হামলা, ধর্মযাজকদের থুথু ফেলা ও শারীরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটলেও ইসরায়েলি পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

আঞ্চলিক ধর্মীয় নেতা ও নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলো জোর দিয়ে বলেছে, পবিত্র জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ থেকে শুরু করে খ্রিষ্টানদের পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা এবং নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

বিষয় : মানবাধিকার পূর্ব জেরুজালেম সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


পূর্ব জেরুজালেমে খ্রিষ্টান নানকে আক্রমণকারী ইসরায়েলিকে খালাস দিল আদালত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে একজন খ্রিষ্টান নান (ধর্মানুরাগী নারী)-এর ওপর শারীরিক হামলা চালানো উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ইয়োনা শ্রাইবারকে বেকসুর খালাস দিয়েছে ইসরায়েলি আদালত। বিচারক দাবি করেছেন, আক্রমণের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিজের আচরণের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ইসরায়েলি বিচারব্যবস্থার এই বিতর্কিত রায় জেরুজালেমের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, স্থানীয় অধিবাসী এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

দখলকৃত জেরুজালেমে অমুসলিম ও মুসলিম উভয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং পবিত্র স্থানগুলোর ওপর উগ্রপন্থীদের অব্যাহত আক্রমণের মধ্যে ইসরায়েলের বিচার বিভাগ একটি নতুন বিতর্কিত নজির স্থাপন করল। গত এপ্রিলের শেষভাগে ওল্ড সিটিতে দায়িত্ব পালনকালে খ্রিষ্টান নানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অবৈধ ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী ইয়োনা শ্রাইবারের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে স্থানীয় একটি ইসরায়েলি আদালত।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ঘটনার সময় শ্রাইবার "মানসিক রোগে আক্রান্ত" ছিলেন এবং তিনি যা করছিলেন সে সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি দেওয়াই প্রযোজ্য নয়।

ইসরায়েলি আদালতের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় খ্রিষ্টান সমাজ ও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মাঝে গভীর অসন্তোষ তৈরি করেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ইসরায়েলি প্রশাসন উগ্রপন্থী ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের অপরাধ ঢেকে রাখতে এবং তাদের জবাবদিহিতা থেকে বাঁচাতে বারবার "মানসিক ভারসাম্যহীনতার" এই কৌশলগত অজুহাত ব্যবহার করে আসছে। বিচারিক এই নিষ্ক্রিয়তা উগ্রপন্থীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং জেরুজালেমের বহুধর্মীয় সহাবস্থান ও ঐতিহাসিক পরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলবে।

পবিত্র স্থান ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ওপর ধারাবাহিক হামলা

জেরুজালেমে ইসরায়েলি কাঠামোগত সুরক্ষার কারণে উগ্র বসতিস্থাপনকারীরা প্রতিনিয়ত ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের প্রতীক, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ওপর উসকানি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। একের পর এক গির্জা ও মসজিদে হামলা, ধর্মযাজকদের থুথু ফেলা ও শারীরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটলেও ইসরায়েলি পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

আঞ্চলিক ধর্মীয় নেতা ও নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলো জোর দিয়ে বলেছে, পবিত্র জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ থেকে শুরু করে খ্রিষ্টানদের পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা এবং নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ