বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্রের স্মরণে টানানো পাতাকায় অস্ত্র সদৃশ অলংকরণের অযুহাতে গ্রেপ্তার মুবিনসহ ৩ জন; উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর প্রকাশ্যে তলোয়ার প্রদর্শনে নীরবতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ।

'ইয়া হুসাইন' লেখা পাতাকায় একে-৪৭ সদৃশ নকশার অভিযোগে ৩ মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার



'ইয়া হুসাইন' লেখা পাতাকায় একে-৪৭ সদৃশ নকশার অভিযোগে ৩ মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার

ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.)-এর স্মরণে তৈরি করা 'ইয়া হুসাইন আলাইহিস সালাম' লেখা একটি কালো পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে ৩ মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, পতাকাটিতে থাকা নকশা দেখতে এ কে-৪৭ (AK-47) রাইফেলের মতো। তবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে আসল তলোয়ার প্রদর্শন ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালালেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভারতের বিচারব্যবস্থা ও পুলিশের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর প্রশাসনিক নিপীড়নের নতুন নজির গড়েছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। রাজ্যটির দেওরিয়া জেলায় 'ইয়া হুসাইন আলাইহিস সালাম' (আঃ) লেখা একটি ধর্মীয় পতাকা প্রদর্শন করায় মুবিন নামের এক চিত্রশিল্পীসহ তিন মুসলিম যুবককে আটক করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দেওরিয়ার একটি বাড়িতে 'ইয়া হুসাইন' সংবলিত একটি ধর্মীয় কালো পাতাকা টানানো হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়, বিশেষ করে মহানবী (সা.)-এর আহলে বাইতের অনুসারীরা ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ ও আদর্শকে স্মরণ করে এ ধরনের ধর্মীয় ক্যালিগ্রাফি ও প্রতীক ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ দাবি করেছে, পতাকাটির আরবি লেখা ও অলংকরণের একটি অংশ নাকি এ কে-৪৭ স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের অবয়বের সঙ্গে মিলে যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি ধারার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মুবিন নামের ওই ব্যক্তি পতাকাটির নকশা তৈরি ও রঙের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের দ্বিমুখী নীতি ও ক্ষোভ

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আলাদা আইন প্রয়োগ করছে?

নেটিজেনরা উল্লেখ করেন, হর্ষ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘হিন্দু রক্ষা দল’-এর অনুসারীরা যখন প্রকাশ্যে জনসম্মুখে তলোয়ার ও ধারালো অস্ত্র বিতরণ ও প্রদর্শন করে, তখন পুলিশ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করে। প্রকাশ্য লাইভ স্ট্রিমিংয়ে আসল তলোয়ার উঁচিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও পুলিশ কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি।

এক এক্স ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, "কানওয়ার যাত্রার সময় যারা তেরঙা ও গেরুয়া পতাকা হাতে অশ্লীল ও উসকানিমূলক আচরণ করে, তাদের ক্ষেত্রে কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়? নাকি কোনো অ্যাকশন পেতে হলে নাম 'আবদুল' হওয়া বাধ্যতামূলক?"

অন্যান্য মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতীককে সুপরিকল্পিতভাবে অপরাধীকরণ করা হচ্ছে। কোনো একটি কাল্পনিক ডিজাইনে অস্ত্রের প্রতিচ্ছবি খোঁজার অজুহাতে মুসলিম তরুণদের গ্রেপ্তার করা হলেও, আসল অস্ত্র নিয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা কীভাবে ছাড় পায়—তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


'ইয়া হুসাইন' লেখা পাতাকায় একে-৪৭ সদৃশ নকশার অভিযোগে ৩ মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.)-এর স্মরণে তৈরি করা 'ইয়া হুসাইন আলাইহিস সালাম' লেখা একটি কালো পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে ৩ মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, পতাকাটিতে থাকা নকশা দেখতে এ কে-৪৭ (AK-47) রাইফেলের মতো। তবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে আসল তলোয়ার প্রদর্শন ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালালেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভারতের বিচারব্যবস্থা ও পুলিশের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর প্রশাসনিক নিপীড়নের নতুন নজির গড়েছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। রাজ্যটির দেওরিয়া জেলায় 'ইয়া হুসাইন আলাইহিস সালাম' (আঃ) লেখা একটি ধর্মীয় পতাকা প্রদর্শন করায় মুবিন নামের এক চিত্রশিল্পীসহ তিন মুসলিম যুবককে আটক করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দেওরিয়ার একটি বাড়িতে 'ইয়া হুসাইন' সংবলিত একটি ধর্মীয় কালো পাতাকা টানানো হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়, বিশেষ করে মহানবী (সা.)-এর আহলে বাইতের অনুসারীরা ইমাম হুসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ ও আদর্শকে স্মরণ করে এ ধরনের ধর্মীয় ক্যালিগ্রাফি ও প্রতীক ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ দাবি করেছে, পতাকাটির আরবি লেখা ও অলংকরণের একটি অংশ নাকি এ কে-৪৭ স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের অবয়বের সঙ্গে মিলে যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি ধারার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মুবিন নামের ওই ব্যক্তি পতাকাটির নকশা তৈরি ও রঙের কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের দ্বিমুখী নীতি ও ক্ষোভ

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আলাদা আইন প্রয়োগ করছে?

নেটিজেনরা উল্লেখ করেন, হর্ষ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘হিন্দু রক্ষা দল’-এর অনুসারীরা যখন প্রকাশ্যে জনসম্মুখে তলোয়ার ও ধারালো অস্ত্র বিতরণ ও প্রদর্শন করে, তখন পুলিশ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করে। প্রকাশ্য লাইভ স্ট্রিমিংয়ে আসল তলোয়ার উঁচিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও পুলিশ কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি।

এক এক্স ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, "কানওয়ার যাত্রার সময় যারা তেরঙা ও গেরুয়া পতাকা হাতে অশ্লীল ও উসকানিমূলক আচরণ করে, তাদের ক্ষেত্রে কি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়? নাকি কোনো অ্যাকশন পেতে হলে নাম 'আবদুল' হওয়া বাধ্যতামূলক?"

অন্যান্য মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতীককে সুপরিকল্পিতভাবে অপরাধীকরণ করা হচ্ছে। কোনো একটি কাল্পনিক ডিজাইনে অস্ত্রের প্রতিচ্ছবি খোঁজার অজুহাতে মুসলিম তরুণদের গ্রেপ্তার করা হলেও, আসল অস্ত্র নিয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা কীভাবে ছাড় পায়—তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ