ভারতের গুজরাট রাজ্যের কচ্ছ জেলার ভুজ সংলগ্ন লোরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ হাজি মির নামের এক মুসলিম যুবককে তার ধর্মীয় পরিচয় জানার পর বেধড়ক মারধর করেছে বন বিভাগের পাঁচ কর্মচারী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভুজের জিকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তার একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। নাগরিক অধিকার রক্ষা সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (এপিসিআর)-এর টানা তিন দিনের আইনি লড়াই ও টানা চাপের মুখে ভুজ পুলিশ বন বিভাগের অভিযুক্ত ওই পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা (এফআইআর) দায়ের করতে বাধ্য হয়েছে।
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা বিদ্বেষী হামলার শিকারে পরিণত হয়েছেন গুজরাটের কচ্ছ জেলার লোরিয়া গ্রামের যুবক ফরিদ হাজি মির। নিছক মুসলিম নাম হওয়ার কারণেই বন বিভাগের সরকারি কর্মচারীদের হাতে তাকে নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকারী সংস্থা 'অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস' (এপিসিআর) জানায়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ফরিদ হাজি মিরকে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী পথরোধ করে দাঁড় করায় এবং তার নাম জানতে চায়। ফরিদ নিজের নাম বলার পর এবং তিনি মুসলিম নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার ওপর চড়াও হয়। অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে তাকে প্রহার করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাত পান। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভুজের জিকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকরা সেখানে তার জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।
সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে যাওয়া এই গুরুতর অপরাধের পরও শুরুতে ভুজ পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় বা কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে এপিসিআর-এর প্রতিনিধিদের টানা তিন দিনের কঠোর প্রচেষ্টা, ডেপুটেশন ও আইনি চাপের মুখে পুলিশ অবশেষে বন বিভাগের অভিযুক্ত পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে একটি প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দায়ের করে।
এপিসিআর তাদের এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, "একজন গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের শিকার নাগরিককে ন্যায়বিচারের জন্য এবং কেবল একটি মামলা দায়েরের জন্যই দিনের পর দিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হওয়াটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো নয়।"
সংস্থাটি আরও জানায় যে, তারা ফরিদ হাজি মিরের পরিবারকে বিনামূল্যে পূর্ণাঙ্গ আইনি সহায়তা দেবে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে। এপিসিআর-এর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
গুজরাটসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে রাষ্ট্রীয় কিংবা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর ধারাবাহিক ঘটনার অংশ হিসেবে এই ঘটনাকে দেখছেন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।
বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
ভারতের গুজরাট রাজ্যের কচ্ছ জেলার ভুজ সংলগ্ন লোরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ হাজি মির নামের এক মুসলিম যুবককে তার ধর্মীয় পরিচয় জানার পর বেধড়ক মারধর করেছে বন বিভাগের পাঁচ কর্মচারী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভুজের জিকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তার একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। নাগরিক অধিকার রক্ষা সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস (এপিসিআর)-এর টানা তিন দিনের আইনি লড়াই ও টানা চাপের মুখে ভুজ পুলিশ বন বিভাগের অভিযুক্ত ওই পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা (এফআইআর) দায়ের করতে বাধ্য হয়েছে।
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা বিদ্বেষী হামলার শিকারে পরিণত হয়েছেন গুজরাটের কচ্ছ জেলার লোরিয়া গ্রামের যুবক ফরিদ হাজি মির। নিছক মুসলিম নাম হওয়ার কারণেই বন বিভাগের সরকারি কর্মচারীদের হাতে তাকে নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকারী সংস্থা 'অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস' (এপিসিআর) জানায়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ফরিদ হাজি মিরকে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মচারী পথরোধ করে দাঁড় করায় এবং তার নাম জানতে চায়। ফরিদ নিজের নাম বলার পর এবং তিনি মুসলিম নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তার ওপর চড়াও হয়। অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে তাকে প্রহার করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাত পান। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভুজের জিকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসকরা সেখানে তার জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।
সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে যাওয়া এই গুরুতর অপরাধের পরও শুরুতে ভুজ পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় বা কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে এপিসিআর-এর প্রতিনিধিদের টানা তিন দিনের কঠোর প্রচেষ্টা, ডেপুটেশন ও আইনি চাপের মুখে পুলিশ অবশেষে বন বিভাগের অভিযুক্ত পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে একটি প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দায়ের করে।
এপিসিআর তাদের এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, "একজন গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের শিকার নাগরিককে ন্যায়বিচারের জন্য এবং কেবল একটি মামলা দায়েরের জন্যই দিনের পর দিন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হওয়াটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো নয়।"
সংস্থাটি আরও জানায় যে, তারা ফরিদ হাজি মিরের পরিবারকে বিনামূল্যে পূর্ণাঙ্গ আইনি সহায়তা দেবে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে। এপিসিআর-এর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
গুজরাটসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে রাষ্ট্রীয় কিংবা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর ধারাবাহিক ঘটনার অংশ হিসেবে এই ঘটনাকে দেখছেন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন