উত্তর গাজা উপত্যকার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ও ফিলিস্তিনি বন্দি চিকিৎসক হোসাম আবু সাফিয়া ইসরায়েলি কারাগারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বিনা অভিযোগে ও বিচারে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে বন্দি থাকা এই চিকিৎসককে মারধর, চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিতকরণ এবং আইনজীবীদের কাছে নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা 'ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-ইসরায়েল'-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইনজীবী সূত্রে তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানানো হয়েছে।
ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০শে আগস্ট চিকিৎসকের আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি জানান যে, ইসরায়েলি কারারক্ষীরা হাত, পা এবং লাঠি ব্যবহার করে তার শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থানসহ বিভিন্ন অংশে নির্যাতন চালিয়েছে। এছাড়া রাতে ইচ্ছাকৃতভাবে লাউডস্পিকার ব্যবহার করে ও অতিরিক্ত গোলমাল সৃষ্টি করে তাকে ঘুমাতে দেওয়া হচ্ছে না। এর পূর্বে আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরও তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং গ্রেপ্তারের প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন রাখতে তীব্র হুমকি দেওয়া হয়।
বর্তমানে চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ১০ই আগস্ট তাকে ভূগর্ভস্থ 'রাকেফত' কেন্দ্রের নির্জন কারাবাস থেকে স্থানান্তর করে রামলা কারাগারের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়, যেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার একাধিক শারীরিক জটিলতা ধরা পড়ে। কারা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সরকারি নথিতেও আবু সাফিয়ার বাম চোখে গুরুতর আঘাত এবং মাথা ও বুকে আঘাতের অভিযোগের বিবরণ রয়েছে।
সংগঠনটি একজন স্বাধীন চিকিৎসক অমিত তিরোশকে দিয়ে আবু সাফিয়াকে পরীক্ষার জন্য আবেদন করলেও ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ এতে টানা বিলম্ব করছে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনটি ইসরায়েলি প্রশাসনিক আদালতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত গাজা উপত্যকার ১৪ জন ফিলিস্তিনি চিকিৎসককে মুক্তি দেওয়ার আবেদনের বিষয়ে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে। এই ১৪ জন চিকিৎসকের তালিকাতেও ড. আবু সাফিয়ার নাম রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭শে ডিসেম্বর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কামাল আদওয়ান হাসপাতালে তাণ্ডব চালিয়ে হাসপাতালটি ধ্বংস করে দেয় এবং সেখান থেকেই বন্দুকের মুখে তাকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৯,৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন, যার মধ্যে ৯২ জন নারী এবং ৩৭০ জনেরও বেশি শিশু অন্তর্ভুক্ত। কারাগারে চরম নির্যাতন, অনাহার এবং চিকিৎসার অভাবে ইতোমধ্যে বহু বন্দির মৃত্যু হয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত গণহত্যায় এ পর্যন্ত ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১,৭৪,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
মতামত