বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ধারণা নেই, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা ও ধর্মীয় অভিবাদন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু নিরাপত্তার অধিকার প্রত্যেকের সমান।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, কোনো সম্প্রদায়ের মানুষকে 'সংখ্যাগুরু' কিংবা 'সংখ্যালঘু' হিসেবে বিবেচনা না করে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে নাগরিক পরিচয়কে সমুন্নত রেখে আত্মমর্যাদার সাথে 'বাংলাদেশি' হিসেবে ভাবতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত বিশিষ্ট হিন্দু ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে অস্থিতিশীলতা ও বিভেদ তৈরি করতে একটি কুচক্রী মহলের অপচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "কিছু মানুষ দেশকে অস্থিতিশীল ও অসামাজিক পরিস্থিতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়ত নানা ধরণের গুজব ছড়াচ্ছে। এই কাজের জন্য মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরণের চক্রান্ত রুখে দিতে সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।"
প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখার জোর তাগিদ দিয়ে বলেন, জাতি, ধর্ম বা নৃগোষ্ঠী নির্বিশেষে আইনের চোখে ও দেশের মাটিতে প্রত্যেকের সমান অধিকার রয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী শাসনের তিক্ত স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, একনায়কতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের যাঁতাকলে পড়ে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন যাবত তাদের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই ফাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়েছে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ।
তিনি উল্লেখ করেন যে, রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর দেশ এখন এক নতুন সূচনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভাবনীয় উন্নতি সাধনের মাধ্যমে এক নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে নয়জন পুরোহিত ও মন্দির সেবায়েতের হাতে সম্মানীর চেক তুলে দেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সারাদেশের আরও ৬৪ জন পুরোহিত ও সেবায়েতকে এই ভাতার আওতায় আনা হয়। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্য ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মতামত