ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া তীব্র সংঘর্ষে বৃহস্পতিবার থেকে অন্তত ৮১ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সরকারি বাহিনীর ৩৯ সদস্য এবং হুথি বিদ্রোহীদের ৪২ যোদ্ধা রয়েছেন। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার দুই সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। লোহিত সাগরের উপকূল ও তায়েজ অঞ্চলে রকেট, ড্রোন ও স্থল অভিযানের মধ্য দিয়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষে বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮১ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার দুই সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
লোহিত সাগর উপকূলের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর ২৪ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া তায়েজের অভ্যন্তরীণ এলাকায় আরও ১৫ সরকারি সেনা নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন আরেক সামরিক কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে সরকারি বাহিনীর নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।
অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকার চিকিৎসা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ইয়েমেনে আবারও তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা ও তায়েজ অঞ্চলের কাছে রকেট ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান চালায়।
সরকারি সামরিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার মুখে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখাকে সরকারি নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য এলাকার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে হুথিরা। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় নিজেদের অবস্থান আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌপথের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ওই এলাকায় সামরিক সংঘাত বাড়লে শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিই নয়, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইয়েমেনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে দেশটির সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ায় বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
গত জুলাইয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনও সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় হুথিরা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিয়ে আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
নতুন সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা সামরিক সদস্য ও যোদ্ধাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বেসামরিক জনগণের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সমাধান ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মতামত