শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পরাশক্তির ব্যর্থতার পর মুসলিম দেশগুলোর এই স্বাবলম্বী উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তেহরান; বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তেও পূর্ণ সমর্থন।

মক্কা চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ব্যর্থতা ও মুসলিম বিশ্বের আত্মনির্ভরতার প্রতীক: ইরানি রাষ্ট্রদূত


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মক্কা চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ব্যর্থতা ও মুসলিম বিশ্বের আত্মনির্ভরতার প্রতীক: ইরানি রাষ্ট্রদূত

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'কে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতা এবং মুসলিম বিশ্বের স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান এই জোটকে ইরানবিরোধী বলে মনে করে না এবং এতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও তেহরানের কোনো সংশয় নেই। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রভাবের চরম অবনতি ও ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে গঠিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'কে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে ইরান। তেহরানের মতে, এই চুক্তি প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমা পরাশক্তির ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করছে।

গত বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমরা মক্কা শান্তি চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ মনে করি না। এই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়েও আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই।”

রাষ্ট্রদূত ড. জাহানাবাদি উল্লেখ করেন, জোটভুক্ত প্রধান দেশ পাকিস্তান ও তুরস্ক ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সৌদি আরবের সাথেও তেহরানের কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বিদ্যমান। ফলে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর এই আত্মরক্ষামূলক জোট ইরানের জন্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করে না।

মার্কিন নিরাপত্তার অসারতা তুলে ধরে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, মক্কা চুক্তি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলগত পরাজয়েরই এক 'সম্পূরক চিত্র'। আরব বিশ্ব এখন অনুধাবন করতে পেরেছে যে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অস্ত্র বা ঘাঁটি মুসলিম দেশগুলোর প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে অক্ষম। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইরান প্রায় এক দশক আগেই মধ্যপ্রাচ্যকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার এবং মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তৎকালীন মার্কিন প্রভাবে উপেক্ষিত হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসায় রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। জাতীয় স্বার্থ ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তায় বাংলাদেশের যেকোনো স্বাধীন সিদ্ধান্তকে ইরান শ্রদ্ধার সাথে দেখে।”

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা চুক্তিতে ইরানের এই ইতিবাচক মনোভাব বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুযোগ উন্মোচন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক ভিত্তি তৈরি করবে। ইরানের সমর্থনের ফলে পশ্চিমা ও আঞ্চলিক যেকোনো চাপ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, যা মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ঐক্যকে আরও জোরদার করবে।

বিষয় : পাকিস্তান তুরস্ক সৌদি আরব মক্কা চুক্তি তুরস্ক

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মক্কা চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ব্যর্থতা ও মুসলিম বিশ্বের আত্মনির্ভরতার প্রতীক: ইরানি রাষ্ট্রদূত

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'কে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতা এবং মুসলিম বিশ্বের স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান এই জোটকে ইরানবিরোধী বলে মনে করে না এবং এতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও তেহরানের কোনো সংশয় নেই। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রভাবের চরম অবনতি ও ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে গঠিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'কে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে ইরান। তেহরানের মতে, এই চুক্তি প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমা পরাশক্তির ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করছে।

গত বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমরা মক্কা শান্তি চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ মনে করি না। এই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়েও আমাদের কোনো উদ্বেগ নেই।”

রাষ্ট্রদূত ড. জাহানাবাদি উল্লেখ করেন, জোটভুক্ত প্রধান দেশ পাকিস্তান ও তুরস্ক ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সৌদি আরবের সাথেও তেহরানের কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক বিদ্যমান। ফলে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর এই আত্মরক্ষামূলক জোট ইরানের জন্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করে না।

মার্কিন নিরাপত্তার অসারতা তুলে ধরে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, মক্কা চুক্তি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলগত পরাজয়েরই এক 'সম্পূরক চিত্র'। আরব বিশ্ব এখন অনুধাবন করতে পেরেছে যে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অস্ত্র বা ঘাঁটি মুসলিম দেশগুলোর প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে অক্ষম। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইরান প্রায় এক দশক আগেই মধ্যপ্রাচ্যকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার এবং মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তৎকালীন মার্কিন প্রভাবে উপেক্ষিত হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসায় রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। জাতীয় স্বার্থ ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তায় বাংলাদেশের যেকোনো স্বাধীন সিদ্ধান্তকে ইরান শ্রদ্ধার সাথে দেখে।”

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা চুক্তিতে ইরানের এই ইতিবাচক মনোভাব বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুযোগ উন্মোচন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক ভিত্তি তৈরি করবে। ইরানের সমর্থনের ফলে পশ্চিমা ও আঞ্চলিক যেকোনো চাপ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, যা মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ঐক্যকে আরও জোরদার করবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ