সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'কে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতা এবং মুসলিম বিশ্বের স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ড.
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রভাবের চরম অবনতি ও ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে গঠিত 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'কে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে ইরান।
গত বুধবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড.
রাষ্ট্রদূত ড.
মার্কিন নিরাপত্তার অসারতা তুলে ধরে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, মক্কা চুক্তি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলগত পরাজয়েরই এক 'সম্পূরক চিত্র'।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসায় রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। জাতীয় স্বার্থ ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তায় বাংলাদেশের যেকোনো স্বাধীন সিদ্ধান্তকে ইরান শ্রদ্ধার সাথে দেখে।”
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা চুক্তিতে ইরানের এই ইতিবাচক মনোভাব বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুযোগ উন্মোচন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক ভিত্তি তৈরি করবে। ইরানের সমর্থনের ফলে পশ্চিমা ও আঞ্চলিক যেকোনো চাপ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, যা মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ঐক্যকে আরও জোরদার করবে।
মতামত