শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

নতুন আইনে সিডিএফের হাতে তিন বাহিনীর সরাসরি কমান্ড; পারমাণবিক কাঠামো ও বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন

পাকিস্তানে শীর্ষ সেনাপ্রধানের হাত পুনর্গঠিত: পাস হলো নতুন সামরিক আইনি কাঠামো


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানে শীর্ষ সেনাপ্রধানের হাত পুনর্গঠিত: পাস হলো নতুন সামরিক আইনি কাঠামো

পাকিস্তানের পার্লামেন্ট আগস্টের শেষ দিকে এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) পদটির ক্ষমতা স্পষ্টভাবে আইনে নির্ধারিত হলো। গত বছরের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই পদটি এখন দেশটির সামরিক কমান্ড কাঠামোর কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সিডিএফ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ওপর সামগ্রিক অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ করবেন। বর্তমানে সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একই সঙ্গে সিডিএফের দায়িত্ব পালন করছেন।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ গত ২০ আগস্ট ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৬ এবং ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১০-এর সংশোধনী অনুমোদন করেছে। এসব আইনের মাধ্যমে দেশটির সামরিক কমান্ড কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক জীবনে সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনী, গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে আসছে। দেশটির ইতিহাসে চারটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে এবং তিন দশকেরও বেশি সময় সামরিক শাসন ছিল। একই সময়ে কোনো নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীই পূর্ণ পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।

নতুন আইন সেনাপ্রধানের হাতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা কিছু অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতাকে আনুষ্ঠানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে।

সিজেসিএসসি বিলুপ্ত, নতুন কমান্ড কাঠামো

নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি (সিজেসিএসসি) পদ বিলুপ্ত করা। এর পরিবর্তে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স (ডিএফএইচকিউ)।

আগের সিজেসিএসসি মূলত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করত। তবে এর চেয়ারম্যানের তিন বাহিনীর ওপর সরাসরি অপারেশনাল কমান্ড দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না।

নতুন ব্যবস্থায় কমান্ড কাঠামো আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে সিডিএফ, এরপর তিন বাহিনীর প্রধান এবং সেখান থেকে মাঠপর্যায়ের কমান্ড—এভাবে একটি সুস্পষ্ট কমান্ড চেইন তৈরি হয়েছে।

এর ফলে সিডিএফ এখন তিন বাহিনীর ওপর সামগ্রিক অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবেন।

সেনাবাহিনীকেন্দ্রিকতার আশঙ্কা

নতুন কাঠামো নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের সামরিক ব্যবস্থা আরও বেশি সেনাবাহিনীকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে।

বিশেষ করে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডার পদটি কেবল সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের নৌ ও বিমান বাহিনীর চার তারকা কর্মকর্তাদের ওই গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে তিন বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নৌ ও বিমান বাহিনীর স্বাতন্ত্র্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাবও কমে যেতে পারে।

পারমাণবিক কমান্ডেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা

নতুন আইন পাকিস্তানের পারমাণবিক কমান্ড কাঠামোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সিডিএফ জাতীয় কমান্ড অথরিটির উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (এনসিএ)-এর হাতেই থাকার কথা।

এদিকে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশন (এসপিডি) আগের মতোই পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন কাঠামোর কারণে পারমাণবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সিডিএফের প্রভাব আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বেসামরিক সরকারের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন হলো—এর ফলে পাকিস্তানের নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের ওপর সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আরও বাড়বে কি না।

সমালোচকদের মতে, কর্মকর্তাদের বরখাস্ত, অবসর বা চাকরির মেয়াদ কমানোর মতো কিছু ক্ষমতা এখন সিডিএফের হাতে আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এতে সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ নিয়ে পাকিস্তানের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪৩ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড ফেডারেল সরকারের হাতে থাকার কথা বলা হয়েছে।

সমালোচকদের যুক্তি, সিডিএফকে তিন বাহিনীর ওপর সরাসরি অপারেশনাল কমান্ড দেওয়ার ফলে সংবিধানে বর্ণিত বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের নীতির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত তৈরি হতে পারে।

তবে সরকারের সমর্থক আইনজীবীরা বলছেন, গত বছরের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর পর নতুন আইনগুলো সেই সাংবিধানিক কাঠামোকেই প্রয়োজনীয় আইনি রূপ দিয়েছে।

পাকিস্তানের কাঠামো কেন আলাদা

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের নতুন সামরিক কাঠামোকে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না।

ব্রিটেন বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে শীর্ষ সামরিক কমান্ডার সাধারণত একই সময়ে কোনো একটি বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন না।

কিন্তু পাকিস্তানে সিডিএফের পদটি সেনাপ্রধানের পদের সঙ্গে একই ব্যক্তির হাতে রয়েছে। বর্তমানে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একই সঙ্গে সেনাপ্রধান ও সিডিএফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ কারণে সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন কাঠামো দেশটির সামরিক ক্ষমতার কেন্দ্রকে আরও বেশি সেনাবাহিনীর দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সামগ্রিক প্রভাব

পাকিস্তানের নতুন আইন দেশটির সামরিক কমান্ড ব্যবস্থায় গত কয়েক দশকের অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে তিন বাহিনীর কমান্ড কাঠামো আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং সিডিএফকে আগের সিজেসিএসসির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পারমাণবিক কমান্ড, তিন বাহিনীর ভারসাম্য এবং নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আগামী দিনে এই কাঠামো পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য এবং দেশটির বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বিষয় : পাকিস্তান বাহিনী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাকিস্তানে শীর্ষ সেনাপ্রধানের হাত পুনর্গঠিত: পাস হলো নতুন সামরিক আইনি কাঠামো

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের পার্লামেন্ট আগস্টের শেষ দিকে এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) পদটির ক্ষমতা স্পষ্টভাবে আইনে নির্ধারিত হলো। গত বছরের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই পদটি এখন দেশটির সামরিক কমান্ড কাঠামোর কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সিডিএফ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ওপর সামগ্রিক অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ করবেন। বর্তমানে সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একই সঙ্গে সিডিএফের দায়িত্ব পালন করছেন।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ গত ২০ আগস্ট ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৬ এবং ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১০-এর সংশোধনী অনুমোদন করেছে। এসব আইনের মাধ্যমে দেশটির সামরিক কমান্ড কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক জীবনে সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনী, গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে আসছে। দেশটির ইতিহাসে চারটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে এবং তিন দশকেরও বেশি সময় সামরিক শাসন ছিল। একই সময়ে কোনো নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীই পূর্ণ পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।

নতুন আইন সেনাপ্রধানের হাতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা কিছু অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতাকে আনুষ্ঠানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে।

সিজেসিএসসি বিলুপ্ত, নতুন কমান্ড কাঠামো

নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি (সিজেসিএসসি) পদ বিলুপ্ত করা। এর পরিবর্তে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স (ডিএফএইচকিউ)।

আগের সিজেসিএসসি মূলত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করত। তবে এর চেয়ারম্যানের তিন বাহিনীর ওপর সরাসরি অপারেশনাল কমান্ড দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না।

নতুন ব্যবস্থায় কমান্ড কাঠামো আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে সিডিএফ, এরপর তিন বাহিনীর প্রধান এবং সেখান থেকে মাঠপর্যায়ের কমান্ড—এভাবে একটি সুস্পষ্ট কমান্ড চেইন তৈরি হয়েছে।

এর ফলে সিডিএফ এখন তিন বাহিনীর ওপর সামগ্রিক অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবেন।

সেনাবাহিনীকেন্দ্রিকতার আশঙ্কা

নতুন কাঠামো নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের সামরিক ব্যবস্থা আরও বেশি সেনাবাহিনীকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে।

বিশেষ করে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডার পদটি কেবল সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের নৌ ও বিমান বাহিনীর চার তারকা কর্মকর্তাদের ওই গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে তিন বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নৌ ও বিমান বাহিনীর স্বাতন্ত্র্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাবও কমে যেতে পারে।

পারমাণবিক কমান্ডেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা

নতুন আইন পাকিস্তানের পারমাণবিক কমান্ড কাঠামোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সিডিএফ জাতীয় কমান্ড অথরিটির উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (এনসিএ)-এর হাতেই থাকার কথা।

এদিকে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানস ডিভিশন (এসপিডি) আগের মতোই পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন কাঠামোর কারণে পারমাণবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সিডিএফের প্রভাব আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

বেসামরিক সরকারের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন হলো—এর ফলে পাকিস্তানের নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের ওপর সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আরও বাড়বে কি না।

সমালোচকদের মতে, কর্মকর্তাদের বরখাস্ত, অবসর বা চাকরির মেয়াদ কমানোর মতো কিছু ক্ষমতা এখন সিডিএফের হাতে আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এতে সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ নিয়ে পাকিস্তানের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪৩ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড ফেডারেল সরকারের হাতে থাকার কথা বলা হয়েছে।

সমালোচকদের যুক্তি, সিডিএফকে তিন বাহিনীর ওপর সরাসরি অপারেশনাল কমান্ড দেওয়ার ফলে সংবিধানে বর্ণিত বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের নীতির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত তৈরি হতে পারে।

তবে সরকারের সমর্থক আইনজীবীরা বলছেন, গত বছরের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর পর নতুন আইনগুলো সেই সাংবিধানিক কাঠামোকেই প্রয়োজনীয় আইনি রূপ দিয়েছে।

পাকিস্তানের কাঠামো কেন আলাদা

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের নতুন সামরিক কাঠামোকে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যায় না।

ব্রিটেন বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে শীর্ষ সামরিক কমান্ডার সাধারণত একই সময়ে কোনো একটি বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন না।

কিন্তু পাকিস্তানে সিডিএফের পদটি সেনাপ্রধানের পদের সঙ্গে একই ব্যক্তির হাতে রয়েছে। বর্তমানে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একই সঙ্গে সেনাপ্রধান ও সিডিএফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ কারণে সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন কাঠামো দেশটির সামরিক ক্ষমতার কেন্দ্রকে আরও বেশি সেনাবাহিনীর দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সামগ্রিক প্রভাব

পাকিস্তানের নতুন আইন দেশটির সামরিক কমান্ড ব্যবস্থায় গত কয়েক দশকের অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর মাধ্যমে তিন বাহিনীর কমান্ড কাঠামো আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং সিডিএফকে আগের সিজেসিএসসির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে পারমাণবিক কমান্ড, তিন বাহিনীর ভারসাম্য এবং নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আগামী দিনে এই কাঠামো পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য এবং দেশটির বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ