শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

পরিচয় যাচাইয়ের পর নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানোর অভিযোগ; প্রেস ক্লাব ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি।

নয়াদিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করায় দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে পুলিশি নির্যাতন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নয়াদিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করায় দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে পুলিশি নির্যাতন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের নীতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্বাধীন নিউজ প্ল্যাটফর্ম ‘ফোরপিএম নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর দুই মুসলিম নারী সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খানকে সাকেত থানায় আটকে রেখে নির্মমভাবে মারধর করেছে দিল্লি পুলিশ। ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিল্লির সাকেতে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের টেনে-হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, নাম ও মুসলিম পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভারতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, নয়াদিল্লির সাকেত থানার এই ঘটনাটি তার আরও একটি বাস্তব ও ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। ‘ফোরপিএম নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর দুই প্রতিবেদক শাহীন খান এবং নাফিসা খান একটি সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দিল্লির বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে স্থানীয় অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করার উদ্যোগ নেন।

সাংবাদিকদের দেওয়া ভাষ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ফুটেজ থেকে দেখা যায়, প্রশ্ন করার পরপরই পুলিশ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের ঘেরাও করে এবং হেনস্থা করতে করতে দক্ষিণ দিল্লির সাকেত থানায় নিয়ে যায়।

সাংবাদিক শাহীন খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমরা যখন ক্ষমতার কাছে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করলাম, তখনই আমাদের আটক করা হলো। থানায় নিয়ে যখন জানা গেল আমাদের নামের শেষে 'খান' পদবি আছে এবং আমরা মুসলিম, তখন পুলিশের লাঠি ও চড়ের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেল। রুমের দরজা বন্ধ করে কয়েকজন নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্য আমাদের ওপর বর্বর হামলা চালায়।”

ফুটেজে দেখা যায়, লাঠির আঘাতে রক্তজমাট ও নীলাভ ক্ষতের চিহ্ন নিয়ে সাংবাদিক নাফিসা চরম যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এবং তাকে হাসপাতাল নেওয়ার মতো অবস্থায় হেঁটে যেতে সাহায্য করতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তাদের গুরুতর অবস্থায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেসে (AIIMS) শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া (PCI), ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কর্পস এবং ডিজি পাব-সহ একাধিক সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা দিল্লি পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক বরখাস্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, দিল্লির পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি ঢাকার চেষ্টায় এটিকে "ভিভিআইপি ট্রাফিকে বাধা সৃষ্টির সাধারণ ঘটনা" বলে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। তবে স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মতে, হিন্দুত্ববাদী সরকারের আমলে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সংখ্যালঘু মুসলিম কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করার যে ঘৃণ্য মানসিকতা ভারতে বিস্তার লাভ করেছে, এটি তারই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

বিষয় : মুখ্যমন্ত্রী মুসলিম নারী নির্যাতন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নয়াদিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করায় দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে পুলিশি নির্যাতন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের নীতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্বাধীন নিউজ প্ল্যাটফর্ম ‘ফোরপিএম নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর দুই মুসলিম নারী সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খানকে সাকেত থানায় আটকে রেখে নির্মমভাবে মারধর করেছে দিল্লি পুলিশ। ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিল্লির সাকেতে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের টেনে-হিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, নাম ও মুসলিম পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভারতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, নয়াদিল্লির সাকেত থানার এই ঘটনাটি তার আরও একটি বাস্তব ও ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। ‘ফোরপিএম নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর দুই প্রতিবেদক শাহীন খান এবং নাফিসা খান একটি সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দিল্লির বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে স্থানীয় অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করার উদ্যোগ নেন।

সাংবাদিকদের দেওয়া ভাষ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ফুটেজ থেকে দেখা যায়, প্রশ্ন করার পরপরই পুলিশ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের ঘেরাও করে এবং হেনস্থা করতে করতে দক্ষিণ দিল্লির সাকেত থানায় নিয়ে যায়।

সাংবাদিক শাহীন খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “আমরা যখন ক্ষমতার কাছে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করলাম, তখনই আমাদের আটক করা হলো। থানায় নিয়ে যখন জানা গেল আমাদের নামের শেষে 'খান' পদবি আছে এবং আমরা মুসলিম, তখন পুলিশের লাঠি ও চড়ের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেল। রুমের দরজা বন্ধ করে কয়েকজন নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্য আমাদের ওপর বর্বর হামলা চালায়।”

ফুটেজে দেখা যায়, লাঠির আঘাতে রক্তজমাট ও নীলাভ ক্ষতের চিহ্ন নিয়ে সাংবাদিক নাফিসা চরম যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এবং তাকে হাসপাতাল নেওয়ার মতো অবস্থায় হেঁটে যেতে সাহায্য করতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তাদের গুরুতর অবস্থায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেসে (AIIMS) শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া (PCI), ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কর্পস এবং ডিজি পাব-সহ একাধিক সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংস্থা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা দিল্লি পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক বরখাস্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, দিল্লির পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি ঢাকার চেষ্টায় এটিকে "ভিভিআইপি ট্রাফিকে বাধা সৃষ্টির সাধারণ ঘটনা" বলে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। তবে স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মতে, হিন্দুত্ববাদী সরকারের আমলে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সংখ্যালঘু মুসলিম কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করার যে ঘৃণ্য মানসিকতা ভারতে বিস্তার লাভ করেছে, এটি তারই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ