ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া শুক্রবার এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যবর্তী বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে তাদের সামরিক বাহিনী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া দেশের সাম্প্রতিক সামরিক কৌশল ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের সামরিক মতবাদে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।
মুখপাত্র আকরামনিয়া আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক হুমকি ও আগ্রাসনের মুখে আত্মরক্ষা করা আমাদের আইনগত ও মৌলিক অধিকার। আমরা সক্রিয় প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী জর্ডান, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছড়িয়ে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। এই অভিযানে বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে স্থাপন করা অত্যন্ত সংবেদনশীল রাডার ও সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইসরায়েলি হুমকি সম্পর্কিত এক প্রশ্নে ইরানি সামরিক মুখপাত্র অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি, মার্কিন-ইসরায়েল জোট নতুন করে ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি অর্জনের পূর্বে ইরানি বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যদিও ১৮ই জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং কৌশলগত জলপথ চালুর জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, তবুও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে থমকে আছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানি সেনাবাহিনী নিজেদের আরও আক্রমণাত্মক ও সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় উন্নীত করার বার্তা দিল।
মতামত