শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলার দাবি ইরানের; প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক নীতিতে রূপান্তরের বড় ঘোষণা সেনাবাহিনীর।

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করেছে ইরান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করেছে ইরান

ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া শুক্রবার এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যবর্তী বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে তাদের সামরিক বাহিনী। জর্ডান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সেনা অবস্থানগুলোতে সফল এই হামলা পরিচালিত হয়। মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি পুনরায় কোনো দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরান আগের চেয়ে আরও দ্রুত, সহজ ও মারাত্মক শক্তিতে পাল্টা জবাব দেবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া দেশের সাম্প্রতিক সামরিক কৌশল ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের সামরিক মতবাদে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। ইরান এখন কেবল নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সক্রিয় 'প্রতিরোধমূলক আক্রমণ' (Preemptive Attack)-এর নীতি গ্রহণ করেছে।

মুখপাত্র আকরামনিয়া আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক হুমকি ও আগ্রাসনের মুখে আত্মরক্ষা করা আমাদের আইনগত ও মৌলিক অধিকার। আমরা সক্রিয় প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী জর্ডান, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছড়িয়ে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। এই অভিযানে বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে স্থাপন করা অত্যন্ত সংবেদনশীল রাডার ও সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আকরামনিয়া নিশ্চিত করেন যে, বহু ঘাঁটির বিমান প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানো এখন ইরানের জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও নিখুঁত হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলি হুমকি সম্পর্কিত এক প্রশ্নে ইরানি সামরিক মুখপাত্র অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, দখলদার জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ও নির্বাচনী মেরুকরণে দিশেহারা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় অভ্যন্তরীণ জনগণকে স্বস্তি দিতে উসকানিমূলক সামরিক বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে টেল আবিব যদি এই ধরণের কোনো ভুল হিসাব করে ইরানের ভূমি বা স্বার্থে আক্রমণ চালায়, তবে তেহরানের প্রতিক্রিয়া হবে নজিরবিহীন, দ্রুত এবং বহুগুণ বেশি ধ্বংসাত্মক।

প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ই জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তায় ইসরায়েল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে ১২ দিনব্যাপী ব্যাপক আগ্রাসন শুরু করেছিল। এর জবাবে ইরান নিজস্ব উদ্ভাবিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সুবিশাল বহর নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সদর দপ্তরে স্মরণকালের সবচেয়ে তীব্র হামলা চালায়।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি, মার্কিন-ইসরায়েল জোট নতুন করে ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি অর্জনের পূর্বে ইরানি বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যদিও ১৮ই জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং কৌশলগত জলপথ চালুর জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, তবুও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে থমকে আছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানি সেনাবাহিনী নিজেদের আরও আক্রমণাত্মক ও সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় উন্নীত করার বার্তা দিল।

বিষয় : ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংস করেছে ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া শুক্রবার এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যবর্তী বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে তাদের সামরিক বাহিনী। জর্ডান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সেনা অবস্থানগুলোতে সফল এই হামলা পরিচালিত হয়। মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি পুনরায় কোনো দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরান আগের চেয়ে আরও দ্রুত, সহজ ও মারাত্মক শক্তিতে পাল্টা জবাব দেবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া দেশের সাম্প্রতিক সামরিক কৌশল ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরানের সামরিক মতবাদে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। ইরান এখন কেবল নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সক্রিয় 'প্রতিরোধমূলক আক্রমণ' (Preemptive Attack)-এর নীতি গ্রহণ করেছে।

মুখপাত্র আকরামনিয়া আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক হুমকি ও আগ্রাসনের মুখে আত্মরক্ষা করা আমাদের আইনগত ও মৌলিক অধিকার। আমরা সক্রিয় প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী জর্ডান, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছড়িয়ে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। এই অভিযানে বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে স্থাপন করা অত্যন্ত সংবেদনশীল রাডার ও সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আকরামনিয়া নিশ্চিত করেন যে, বহু ঘাঁটির বিমান প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানো এখন ইরানের জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও নিখুঁত হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলি হুমকি সম্পর্কিত এক প্রশ্নে ইরানি সামরিক মুখপাত্র অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, দখলদার জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ও নির্বাচনী মেরুকরণে দিশেহারা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় অভ্যন্তরীণ জনগণকে স্বস্তি দিতে উসকানিমূলক সামরিক বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে টেল আবিব যদি এই ধরণের কোনো ভুল হিসাব করে ইরানের ভূমি বা স্বার্থে আক্রমণ চালায়, তবে তেহরানের প্রতিক্রিয়া হবে নজিরবিহীন, দ্রুত এবং বহুগুণ বেশি ধ্বংসাত্মক।

প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ই জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তায় ইসরায়েল ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে ১২ দিনব্যাপী ব্যাপক আগ্রাসন শুরু করেছিল। এর জবাবে ইরান নিজস্ব উদ্ভাবিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সুবিশাল বহর নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সদর দপ্তরে স্মরণকালের সবচেয়ে তীব্র হামলা চালায়।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি, মার্কিন-ইসরায়েল জোট নতুন করে ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রাণকেন্দ্র হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতি অর্জনের পূর্বে ইরানি বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যদিও ১৮ই জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং কৌশলগত জলপথ চালুর জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, তবুও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে থমকে আছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানি সেনাবাহিনী নিজেদের আরও আক্রমণাত্মক ও সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় উন্নীত করার বার্তা দিল।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ