রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলি গণহত্যা ও অবরোধের মুখে আড়াই বছর পর উদ্ধার হওয়া শহীদদের জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে বিদায় জানাল হাজারো মুক্তিকামী মানুষ।

গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার, অশ্রুসিক্ত চোখে সর্ববৃহৎ জানাজা সম্পন্ন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার, অশ্রুসিক্ত চোখে সর্ববৃহৎ জানাজা সম্পন্ন

ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যায় ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা শহরের জেইতুন মহল্লায় উদ্ধার হওয়া ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আড়াই বছর পর উদ্ধার করা এই শহীদদের ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে শেষ বিদায় জানাতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হন। এটি ফিলিস্তিনের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ গণজানাজা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

এক হৃদয়বিদারক ও শোকাচ্ছন্ন পরিবেশে গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপের পাশে অবস্থিত খোলা মাঠে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয় ১০০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষ। ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর বোমাবর্ষণে আবাসিক ভবন ধসে পড়ার পর আড়াই বছর ধরে তারা নিখোঁজ ও চাপা পড়ে ছিলেন। জানাজার পূর্বে উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। মোনাজাত ও জানাজা শেষে গাজা শহরের দক্ষিণ জেইতুন মহল্লার 'ব্যাপটিস্ট' কবরস্থানে তাদেরকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকৃত এই শহীদরা মূলত রহিম, বালাউই, মালিকা, কানবুর এবং সালমি পরিবারের সদস্য। আড়াই বছর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অধিবাসীদের উপস্থিতিতেই তাদের বসতবাড়িতে সরাসরি ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল।

ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ও ভারী খনন সরঞ্জাম প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলোকে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাবে খুব অল্পসংখ্যক জীর্ণ ও সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই এই বিশাল ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালাতে হচ্ছে।

তুর্কিভিত্তিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বহন করা মরদেহের সংখ্যার দিক থেকে এটি ফিলিস্তিনের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা। এর আগে গত বছরের আগস্টের শুরুতে সাবরা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ১১২ জন শহীদের একই ধরনের এক গণজানাজা আয়োজিত হয়েছিল।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ১৯ জুলাই থেকে 'শহীদের দেহ উদ্ধার' শীর্ষক একটি বিশেষ প্রকল্প শুরু করে, যা বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে। ৮০০ কর্মঘণ্টার এই ধাপে গাজা, উত্তর ও মধ্য গভর্নরেটের ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘরের নিচে আনুমানিক ১,০৭২টি চাপা পড়ে থাকা মরদেহ অনুসন্ধানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৫০০ কর্মঘণ্টার ১ম ধাপে ৫৪টি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় কার্যকর হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশ করতে দেয়নি বলে ফিলিস্তিনি প্রশাসন জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে পরিচালিত প্রায় দুই বছরের ইসরায়েলি গণহত্যায় ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১,৭৪,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার ৯০০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এটি পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।

বিষয় : ইসরায়েল গাজা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার, অশ্রুসিক্ত চোখে সর্ববৃহৎ জানাজা সম্পন্ন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যায় ধ্বংসপ্রাপ্ত গাজা শহরের জেইতুন মহল্লায় উদ্ধার হওয়া ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আড়াই বছর পর উদ্ধার করা এই শহীদদের ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে শেষ বিদায় জানাতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হন। এটি ফিলিস্তিনের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ গণজানাজা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

এক হৃদয়বিদারক ও শোকাচ্ছন্ন পরিবেশে গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপের পাশে অবস্থিত খোলা মাঠে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয় ১০০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষ। ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর বোমাবর্ষণে আবাসিক ভবন ধসে পড়ার পর আড়াই বছর ধরে তারা নিখোঁজ ও চাপা পড়ে ছিলেন। জানাজার পূর্বে উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। মোনাজাত ও জানাজা শেষে গাজা শহরের দক্ষিণ জেইতুন মহল্লার 'ব্যাপটিস্ট' কবরস্থানে তাদেরকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকৃত এই শহীদরা মূলত রহিম, বালাউই, মালিকা, কানবুর এবং সালমি পরিবারের সদস্য। আড়াই বছর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অধিবাসীদের উপস্থিতিতেই তাদের বসতবাড়িতে সরাসরি ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল।

ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ও ভারী খনন সরঞ্জাম প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলোকে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাবে খুব অল্পসংখ্যক জীর্ণ ও সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই এই বিশাল ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালাতে হচ্ছে।

তুর্কিভিত্তিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বহন করা মরদেহের সংখ্যার দিক থেকে এটি ফিলিস্তিনের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা। এর আগে গত বছরের আগস্টের শুরুতে সাবরা এলাকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ১১২ জন শহীদের একই ধরনের এক গণজানাজা আয়োজিত হয়েছিল।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ১৯ জুলাই থেকে 'শহীদের দেহ উদ্ধার' শীর্ষক একটি বিশেষ প্রকল্প শুরু করে, যা বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে। ৮০০ কর্মঘণ্টার এই ধাপে গাজা, উত্তর ও মধ্য গভর্নরেটের ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘরের নিচে আনুমানিক ১,০৭২টি চাপা পড়ে থাকা মরদেহ অনুসন্ধানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৫০০ কর্মঘণ্টার ১ম ধাপে ৫৪টি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় কার্যকর হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশ করতে দেয়নি বলে ফিলিস্তিনি প্রশাসন জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে পরিচালিত প্রায় দুই বছরের ইসরায়েলি গণহত্যায় ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১,৭৪,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার ৯০০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এটি পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ