গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো ইহুদিবাদী ইসরায়েলি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের আটটি প্রভাবশালী দেশ। রবিবার এক অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সাম্প্রতিক উচ্ছেদমুখী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে আরব-ইসলামি দেশগুলোর এই জোট।
গাজা উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ
মিশরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রচারিত এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে—আরব প্রজাতন্ত্র মিশর, কাতার, হাশেমীয় রাজ্য জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরব।
বিবৃতিতে বেন-গভিরের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক প্রস্তাব এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উচ্ছেদ ব্লুপ্রিন্টকে ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক ও অন্যায্য অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ইসরায়েলি মন্ত্রীদের উচ্ছেদ পরিকল্পনা ও বর্ণবাদী চক্রান্ত
সম্প্রতি চরমপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যেখানে গাজার প্রায় ১৮.৬ লাখ ফিলিস্তিনিকে ৭ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক অভিবাসনের নামে জোরপূর্বক উচ্ছেদের রূপরেখা দেওয়া হয় এবং এর জন্য পৃথক 'অভিবাসন মন্ত্রণালয়' গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
আট মুসলিম দেশের জোট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গাজা উপত্যকা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই সংঘাতের একমাত্র ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধান।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ইসরায়েলি বাহিনীর বেআইনি জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটানোর অপচেষ্টা রুখে দিতে তাত্ক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মতামত