আসিয়ান অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার তাগিদ নিয়ে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘পেনাং পিস ডায়ালগ’। উক্ত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে যোগ দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সপ্তম প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো (জোকোই) বিশ্বনেতাদের প্রতি জনগণের চাহিদা ও মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে এক গালা ডিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার পর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তিনি তাঁর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, অস্থিতিশীলতা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নেতা ও জনগণের পারস্পরিক বোঝাপড়াকে শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের জর্ঝ টাউনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী (৫-৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ‘পেনাং পিস ডায়ালগ’ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত গালা ডিনারে জোকো উইদোদো বলেন, “বর্তমান বিশ্বের জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় নেতাদের ভূমিকা অপরিসীম। একজন সফল ও শান্তিপ্রিয় নেতা তিনি নন যিনি কেবল ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বোঝেন, বরং প্রকৃত নেতা তিনিই যিনি তাঁর সাধারণ মানুষের হৃদস্পন্দন ও কষ্ট বুঝতে পারেন।”
সাবেক এই ইন্দোনেশীয় প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বজুড়ে মুসলিম ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর যে নিপীড়ন এবং অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছে, তা দূর করতে হলে শীর্ষ নেতাদের সিংহাসন ছেড়ে সাধারণ মানুষের কাতারে নামতে হবে। তাঁদের কথা শুনতে হবে, উদ্বেগ ও কষ্ট ভাগ করে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে সংকটমুক্ত পৃথিবী গড়ার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
তবে টেকসই শান্তির জন্য কেবল নেতাদের ওপর নির্ভর করা পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে জোকোই জনগণের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “একটি শক্তিশালী ও সচেতন জনগোষ্ঠী কেবল রাজপথে দাবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তারা তাদের ওপর অর্পিত নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা ও সংকটসমূহ অনুধাবন করে। যখন জনগণ ও নেতৃত্বের মধ্যে আত্মিক মেলবন্ধন এবং পারস্পরিক বিশ্বাস সৃষ্টি হয়, ঠিক তখনই প্রকৃত শান্তির শক্ত ভিত রচিত হয়।”
পেনাং পিস ডায়ালগকে কেবল একটি তাত্ত্বিক আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে না রেখে বিশ্বজুড়ে শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জোকোই। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, এই সংলাপ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সৌহার্দ্য রক্ষা এবং নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সম্মেলনের মূল পর্বে জোকো উইদোদো বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আসিয়ান দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের ওপর আলোকপাত করে কি-নোট বক্তব্য প্রদান করেন।
মতামত