শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

হালাল উপায়ে জীবিকা অন্বেষণ ও পাপ পরিহার করে আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফারের মাধ্যমে রিজিক ও জীবনের বরকত হাসিল করার আহ্বান জানিয়েছেন মাসজিদুল হারামের সম্মানিত খতিব।

তাকওয়া, তওবা ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমেই রিজিকে বরকত আসে: মাসজিদুল হারামের খতিব


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তাকওয়া, তওবা ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমেই রিজিকে বরকত আসে: মাসজিদুল হারামের খতিব

মসজিদুল হারামের বিখ্যাত ইমাম ও খতিব শেখ ড. ওসামা বিন আবদুল্লাহ খাইয়াত বিশ্ব মুসলিমকে তাকওয়া অবলম্বন, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ তাওয়াক্কুল (ভরসা) এবং খাঁটি অন্তরে ইবাদতের মাধ্যমে রিজিক ও জীবনে বরকত অন্বেষণের আহ্বান জানিয়েছেন। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) বায়তুল্লাহ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জুমার খুতবায় তিনি বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সব নেয়ামত—প্রশস্ত রিজিক, সম্পদ, স্বাস্থ্য ও শান্তির মূল উৎস একমাত্র মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

পবিত্র মাসজিদুল হারামে হাজার হাজার জুমার নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের উদ্দেশে খুতবা প্রদানকালে শেখ ড. ওসামা খাইয়াত মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও পরকালের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, মানুষের জীবন ধারণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন—উৎকৃষ্ট খাদ্য, পোশাক, নিরাপদ বাসস্থান ও সুস্থতা—তার সবই আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও অনুগ্রহের ফল। মহান আল্লাহ পরম রিজিকদাতা, পরম ক্ষমতার মালিক এবং পুরো সৃষ্টি তাঁর মুখাপেক্ষী।

খতিবে হারাম উল্লেখ করেন, আল্লাহ তাআলা রিজিকে বরকত ও সাফল্য অর্জনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শরয়ি বা বৈধ মাধ্যম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এর মধ্যে সর্বপ্রধান মাধ্যম হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ ঈমান ও খাঁটি তাকওয়া (আল্লাহভীতি)। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশসমূহ প্রতিপালন এবং তাঁর নিষেধসমূহ এড়িয়ে চলে, আল্লাহ তাকে সমস্ত সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ সহজ করে দেন এবং এমন অচিন্ত্যনীয় উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। ঈমান ও তাকওয়াই মূলত আসমান ও জমিনের বরকত এবং সুখে-শান্তিতে বেঁচে থাকার চাবিকাঠি।

রিজিক অর্জনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তিনি ‘তাওয়াক্কুল’ বা আল্লাহর ওপর সুদৃঢ় ভরসার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাওয়াক্কুলের অর্থ হলো হৃদয়ের সমস্ত বিশ্বাস আল্লাহর ওপর সঁপে দেওয়া এবং সব বিষয়ে তাঁর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা রাখা। তবে এর অর্থ হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়। হৃদয়ের তাওয়াক্কুল এবং শরীরের মাধ্যমে শরিয়তসম্মত উপায়ে প্রচেষ্টা চালানো—এ দুটি মিলেই প্রকৃত ইবাদত সম্পন্ন হয়। বান্দার জন্য কাজ করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা দুটিই সমভাবে নির্দেশিত।

এছাড়া দৈনন্দিন জীবনে বেশি বেশি ‘ইস্তিগফার’ (ক্ষমা প্রার্থনা) ও খাঁটি তওবার মাধ্যমে জীবনের পাপ মোচন করাকে রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন শেখ খাইয়াত। দোয়া, জিকির, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা (সিলাতুর রহিম) এবং আল্লাহর রাস্তায় দান-সদকাহ করার মাধ্যমে উপার্জন ও জীবনের সব ক্ষেত্রে বিশেষ বরকত অবতীর্ণ হয়।

খুতবার দ্বিতীয় অংশে খতিবে হারাম জোর দিয়ে বলেন, ভালো কাজে ব্যয় ও মানবকল্যাণে দান করলে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে তার উত্তম প্রতিদান দেন এবং আখেরাতে অশেষ সওয়াব দান করেন। তাছাড়া প্রত্যুষে বা সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়াকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বরকতময় বলে দোয়া করেছেন। তাই সকালে কাজ শুরু করা জীবিকায় বরকতের অন্যতম সুন্নত।

পরিশেষে, শেখ ড. ওসামা খাইয়াত অবৈধ বা হারাম উপায়ে উপার্জনের কঠোর বিরোধিতা করেন এবং অসদুপায় অবলম্বন সম্পর্কে সতর্ক বার্তা দেন। রিজিক লাভে কিছুটা দেরি হলেও অধৈর্য হয়ে সুদি কারাবার, প্রতারণা বা হারাম পথে না যাওয়ার জন্য মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানান। হারাম উপার্জন দুনিয়াতে ধ্বংস এবং আখেরাতে কঠিন শাস্তির কারণ হবে বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন।

বিষয় : সৌদি আরব মক্কা খুতবা মসজিদুল হারাম

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তাকওয়া, তওবা ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমেই রিজিকে বরকত আসে: মাসজিদুল হারামের খতিব

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মসজিদুল হারামের বিখ্যাত ইমাম ও খতিব শেখ ড. ওসামা বিন আবদুল্লাহ খাইয়াত বিশ্ব মুসলিমকে তাকওয়া অবলম্বন, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ তাওয়াক্কুল (ভরসা) এবং খাঁটি অন্তরে ইবাদতের মাধ্যমে রিজিক ও জীবনে বরকত অন্বেষণের আহ্বান জানিয়েছেন। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) বায়তুল্লাহ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জুমার খুতবায় তিনি বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সব নেয়ামত—প্রশস্ত রিজিক, সম্পদ, স্বাস্থ্য ও শান্তির মূল উৎস একমাত্র মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

পবিত্র মাসজিদুল হারামে হাজার হাজার জুমার নামাজ আদায়কারী মুসল্লিদের উদ্দেশে খুতবা প্রদানকালে শেখ ড. ওসামা খাইয়াত মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও পরকালের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, মানুষের জীবন ধারণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন—উৎকৃষ্ট খাদ্য, পোশাক, নিরাপদ বাসস্থান ও সুস্থতা—তার সবই আল্লাহ তাআলার অসীম দয়া ও অনুগ্রহের ফল। মহান আল্লাহ পরম রিজিকদাতা, পরম ক্ষমতার মালিক এবং পুরো সৃষ্টি তাঁর মুখাপেক্ষী।

খতিবে হারাম উল্লেখ করেন, আল্লাহ তাআলা রিজিকে বরকত ও সাফল্য অর্জনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শরয়ি বা বৈধ মাধ্যম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এর মধ্যে সর্বপ্রধান মাধ্যম হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ ঈমান ও খাঁটি তাকওয়া (আল্লাহভীতি)। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশসমূহ প্রতিপালন এবং তাঁর নিষেধসমূহ এড়িয়ে চলে, আল্লাহ তাকে সমস্ত সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ সহজ করে দেন এবং এমন অচিন্ত্যনীয় উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। ঈমান ও তাকওয়াই মূলত আসমান ও জমিনের বরকত এবং সুখে-শান্তিতে বেঁচে থাকার চাবিকাঠি।

রিজিক অর্জনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তিনি ‘তাওয়াক্কুল’ বা আল্লাহর ওপর সুদৃঢ় ভরসার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাওয়াক্কুলের অর্থ হলো হৃদয়ের সমস্ত বিশ্বাস আল্লাহর ওপর সঁপে দেওয়া এবং সব বিষয়ে তাঁর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা রাখা। তবে এর অর্থ হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়। হৃদয়ের তাওয়াক্কুল এবং শরীরের মাধ্যমে শরিয়তসম্মত উপায়ে প্রচেষ্টা চালানো—এ দুটি মিলেই প্রকৃত ইবাদত সম্পন্ন হয়। বান্দার জন্য কাজ করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা দুটিই সমভাবে নির্দেশিত।

এছাড়া দৈনন্দিন জীবনে বেশি বেশি ‘ইস্তিগফার’ (ক্ষমা প্রার্থনা) ও খাঁটি তওবার মাধ্যমে জীবনের পাপ মোচন করাকে রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন শেখ খাইয়াত। দোয়া, জিকির, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা (সিলাতুর রহিম) এবং আল্লাহর রাস্তায় দান-সদকাহ করার মাধ্যমে উপার্জন ও জীবনের সব ক্ষেত্রে বিশেষ বরকত অবতীর্ণ হয়।

খুতবার দ্বিতীয় অংশে খতিবে হারাম জোর দিয়ে বলেন, ভালো কাজে ব্যয় ও মানবকল্যাণে দান করলে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে তার উত্তম প্রতিদান দেন এবং আখেরাতে অশেষ সওয়াব দান করেন। তাছাড়া প্রত্যুষে বা সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়াকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বরকতময় বলে দোয়া করেছেন। তাই সকালে কাজ শুরু করা জীবিকায় বরকতের অন্যতম সুন্নত।

পরিশেষে, শেখ ড. ওসামা খাইয়াত অবৈধ বা হারাম উপায়ে উপার্জনের কঠোর বিরোধিতা করেন এবং অসদুপায় অবলম্বন সম্পর্কে সতর্ক বার্তা দেন। রিজিক লাভে কিছুটা দেরি হলেও অধৈর্য হয়ে সুদি কারাবার, প্রতারণা বা হারাম পথে না যাওয়ার জন্য মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানান। হারাম উপার্জন দুনিয়াতে ধ্বংস এবং আখেরাতে কঠিন শাস্তির কারণ হবে বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ