দেশরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে আফগানিস্তান ইসলামী আমিরাত সরকার। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ড্রোন (ইএইচএ/ইউএভি) এবং বিমান রাডার প্রযুক্তিবিদ্যা বিষয়ক অনুষদ ও বিভাগ চালু করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা কাউন্সিলের বৈঠক শেষে একই সঙ্গে একাধিক স্নাতকোত্তর ও উচ্চতর গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি বৃহৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে দেশটির ইসলামী আমিরাত সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে মোট ২৮টি নতুন অনুষদ এবং ২৯টি নতুন বিভাগ খোলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আফগানিস্তান ইসলামী আমিরাতের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হাফিজ জিয়াউল্লাহ হাশমি গণমাধ্যমকে জানান, উচ্চশিক্ষা কাউন্সিলের সাম্প্রতিক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বায়ুমণ্ডলীয় রাডার সিস্টেম এবং চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) প্রকৌশলে বিশেষায়িত অনুষদ গঠন করা হলো। এ সিদ্ধান্ত দেশটির প্রতিরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মুখপাত্র আরও জানান, উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ৫টি পিএইচডি এবং ৩৩টি মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাবুল মেডিকেল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটির জন্য তিনটি বিশেষায়িত চিকিৎসা ও সাব-স্পেশালিটি প্রোগ্রামের অনুমোদন মিলেছে।
পৃথক এক বিবৃতিতে ঐতিহ্যবাহী কাবুল পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, তাদের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নতুন ‘অ্যারোস্পেস অ্যান্ড অ্যাডভান্সড সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং’ অনুষদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই অনুষদে ড্রোন ও আনম্যান্ড সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং, এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যারোনটিক্যাল ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং রাডার ও অ্যাভিওনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থাকবে।
পাশাপাশি দেশের শিল্প খাতকে শক্তিশালী করতে চালু হচ্ছে ‘টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং’ অনুষদ। এতে টেক্সটাইল মেটেরিয়ালস, ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেক্সটাইল ডাইং অ্যান্ড কেমিক্যালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া সিভিল, পরিবেশ ও খাদ্য শিল্পে নতুন ৩টি মাস্টার্স কোর্স চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—যার মধ্যে ভূমিকম্প প্রকৌশল, পানি ও পরিবেশ সম্পদ প্রকৌশল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকৌশল অন্যতম। দীর্ঘ যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা কাটিয়ে প্রযুক্তি ও শিক্ষায় আফগানিস্তানের এই অগ্রগতিকে বৈশ্বিক মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মতামত