যুক্তরাষ্ট্রে এক শীর্ষ ইহুদি-আমেরিকান সম্মেলনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ও ঘৃণাত্মক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক সেনেটর অ্যাডাম শিফ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মুসলিম আমেরিকানরা মার্কিন সমাজ ও দেশের মূল অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত ৩০ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত এক সম্মেলনে এক ব্যক্তির মুসলিমবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্যের পর সমাজমাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান ইসলামফোবিয়া ও মুসলিমবিরোধী বিষবাষ্প ছড়ানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি ও ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক সেনেটর অ্যাডাম শিফ। সম্প্রতি দেশটির একটি বড় সম্মেলন থেকে মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যাওয়ার উসকানিমূলক আহ্বান জানানো হলে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান এবং মার্কিন সমাজে মুসলিমদের অবদানের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন।
গত ৩০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে 'জুয়িশ-আমেরিকান সামিট' (ইহুদি-আমেরিকান সম্মেলন) অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে মুসলিমবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত মোসাব হাসান ইউসেফ নামক এক ব্যক্তি মঞ্চে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, "আমি করদাতা একজন আমেরিকান, এবং আমি এখানে কোনো মুসলিমকে দেখতে চাই না। তোমরা নিজেদের দেশে ফিরে যাও। তোমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ছাড়াও এই দেশটি চমৎকারভাবে চলতে পারবে।" অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, উপস্থিত দর্শকদের একটি বড় অংশ তার এই চরমপন্থী ও ঘৃণাভিত্তিক বক্তব্যের সমর্থনে করতালি ও উল্লাস প্রকাশ করে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেনেটর অ্যাডাম শিফ চরমপন্থী ওই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মার্কিন সমাজের বহুত্ববাদী কাঠামোর কথা উল্লেখ করে লেখেন, "মুসলিম আমেরিকানরা আমাদের সমাজ এবং এই দেশের মূল অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। আমি আমাদের মুসলিম প্রতিবেশীদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াচ্ছি এবং এই ঘৃণাপূর্ণ চরমপন্থার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।"
বিশ্বজুড়ে যখন ডানপন্থী চরমপন্থা ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর মানসিক ও সামাজিকভাবে চাপ সৃষ্টি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষ নীতি-নির্ধারকের এই স্পষ্ট অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমদের অবদানকে অস্বীকার করে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বানানোর যে অপচেষ্টা চলছে, শিফের এই বক্তব্য তার বিরুদ্ধে একটি নীতিগত বার্তা। বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় এবং পশ্চিমের নীতি নির্ধারণে ইসলামফোবিয়ার লাগাম টানা এখন সময়ের দাবি।
মতামত