ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের আমলে মুসলিম ধর্মীয় স্থান ও ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ বহাল রেখেছেন রাজ্য হাইকোর্ট।
ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক এজেন্ডা ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মুসলিম ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্থান ধ্বংসের প্রবণতা দিন দিন মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ উজ্জয়িনীর ছত্রী চকে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন শাহী মসজিদের একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য উজ্জয়িনী পৌরসংস্থার সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিয়েছে। ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য সিংহস্থ কুম্ভমেলায় আগত কোটি কোটি হিন্দু পুণ্যার্থীর যাতায়াত ও যানজট ব্যবস্থাপনার অজুহাতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
আদালতের রায় ও যুক্তি
বিচারপতি সন্দ্বীপ এন ভাট একক বেঞ্চে শুনানি শেষে বলেন, পৌরসংস্থার এই পদক্ষেপ আইনানুভাবেই নেওয়া হয়েছে এবং এতে সংবিধানের ১৪ (সাম্য), ২৫ ও ২৬ (ধর্মীয় স্বাধীনতা) এবং ৩০০এ (সম্পত্তির অধিকার) অনুচ্ছেদের কোনো লঙ্ঘন হয়নি। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে দাবি করেন, মসজিদ কমিটি রাস্তা প্রশস্তকরণে 'সহযোগিতা করছে না' এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
মসজিদ কমিটির উদ্বেগ ও ঐতিহ্যের তোয়াক্কা নয়
মসজিদের প্রশাসনিক কমিটির পক্ষে আশফাক আহমেদ ও আরশান হুসাইন পৃথক রিট পিটিশনে জানান যে, এই মসজিদটি শত বছরেরও পুরনো এবং নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তি।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের নজির
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক সম্প্রসারণ, নগর সংস্কার কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে মসজিদ ও মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়া স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত হয়েছে। কাসি, বারাণসী বা অসমের মতো মধ্যপ্রদেশেও বিজেপি সরকারের আমলে একই ছকে ধর্মীয় ও ওয়াকফ সম্পত্তিতে আঘাত হানা হচ্ছে। মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে বিকল্প হিসেবে নিকটস্থ খালি জায়গা বা উদ্যানের অংশ ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
মতামত