রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ঐতিহাসিক ওয়াকফ সম্পত্তি ও ১২০ ফুট মিনার ক্ষতির মুখে; হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের দোহাই দিয়ে মুসলিম পিটিশন বাতিল বিচারকের।

ভারতে কুম্ভমেলার অজুহাতে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ভাঙার নির্দেশ হাইকোর্টের


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে কুম্ভমেলার অজুহাতে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ভাঙার নির্দেশ হাইকোর্টের

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের আমলে মুসলিম ধর্মীয় স্থান ও ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ বহাল রেখেছেন রাজ্য হাইকোর্ট। ২০২৮ সালের হিন্দু ধর্মীয় উৎসব 'সিংহস্থ কুম্ভমেলা' উপলক্ষে রাস্তা প্রশস্তকরণের দোহাই দিয়ে উজ্জ্বলিনী পৌরসংস্থার (ইউএমসি) জারি করা উচ্ছেদ নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিট পিটিশন গত ৯ সেপ্টেম্বর এক আদেশে বাতিল করেন হাইকোর্ট। আদালত একে 'জনস্বার্থ' হিসেবে আখ্যা দিয়ে মুসলিম পক্ষের সংবিধানে প্রদত্ত ধর্মীয় ও মৌলিক অধিকার হরণের দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে।

ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক এজেন্ডা ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মুসলিম ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্থান ধ্বংসের প্রবণতা দিন দিন মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ উজ্জয়িনীর ছত্রী চকে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন শাহী মসজিদের একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য উজ্জয়িনী পৌরসংস্থার সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিয়েছে। ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য সিংহস্থ কুম্ভমেলায় আগত কোটি কোটি হিন্দু পুণ্যার্থীর যাতায়াত ও যানজট ব্যবস্থাপনার অজুহাতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আদালতের রায় ও যুক্তি

বিচারপতি সন্দ্বীপ এন ভাট একক বেঞ্চে শুনানি শেষে বলেন, পৌরসংস্থার এই পদক্ষেপ আইনানুভাবেই নেওয়া হয়েছে এবং এতে সংবিধানের ১৪ (সাম্য), ২৫ ও ২৬ (ধর্মীয় স্বাধীনতা) এবং ৩০০এ (সম্পত্তির অধিকার) অনুচ্ছেদের কোনো লঙ্ঘন হয়নি। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে দাবি করেন, মসজিদ কমিটি রাস্তা প্রশস্তকরণে 'সহযোগিতা করছে না' এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতের মতে, মসজিদটি মহাকালেশ্বর মন্দিরের ঠিক বিপরীতে এবং ক্ষিপ্র নদীর কাছে অবস্থিত। আগামী কুম্ভমেলায় কোটি কোটি মানুষের সমাগম বিবেচনা করে জননিরাপত্তা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

মসজিদ কমিটির উদ্বেগ ও ঐতিহ্যের তোয়াক্কা নয়

মসজিদের প্রশাসনিক কমিটির পক্ষে আশফাক আহমেদ ও আরশান হুসাইন পৃথক রিট পিটিশনে জানান যে, এই মসজিদটি শত বছরেরও পুরনো এবং নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তি। প্রস্তাবিত ১৫ মিটারের রাস্তা প্রশস্তকরণ বাস্তবায়িত হলে মসজিদের মূল জামাত খানা (নামাজের স্থান), ঐতিহ্যবাহী ১২০ ফুট উঁচু মিনার এবং মাযহার চক শাহী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হবে। ইতিহাস অনুযায়ী, এটি সিন্ধিয়া আমল থেকে সুরক্ষিত একটি ধর্মীয় স্থাপনা হলেও বর্তমান বিজেপি শাসিত প্রশাসন সেই ঐতিহাসিক মর্যাদা ও নথিপত্র উপেক্ষা করেই এটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করে।

উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের নজির

ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক সম্প্রসারণ, নগর সংস্কার কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে মসজিদ ও মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়া স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত হয়েছে। কাসি, বারাণসী বা অসমের মতো মধ্যপ্রদেশেও বিজেপি সরকারের আমলে একই ছকে ধর্মীয় ও ওয়াকফ সম্পত্তিতে আঘাত হানা হচ্ছে। মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে বিকল্প হিসেবে নিকটস্থ খালি জায়গা বা উদ্যানের অংশ ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত মসজিদ সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভারতে কুম্ভমেলার অজুহাতে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ ভাঙার নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের আমলে মুসলিম ধর্মীয় স্থান ও ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ বহাল রেখেছেন রাজ্য হাইকোর্ট। ২০২৮ সালের হিন্দু ধর্মীয় উৎসব 'সিংহস্থ কুম্ভমেলা' উপলক্ষে রাস্তা প্রশস্তকরণের দোহাই দিয়ে উজ্জ্বলিনী পৌরসংস্থার (ইউএমসি) জারি করা উচ্ছেদ নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিট পিটিশন গত ৯ সেপ্টেম্বর এক আদেশে বাতিল করেন হাইকোর্ট। আদালত একে 'জনস্বার্থ' হিসেবে আখ্যা দিয়ে মুসলিম পক্ষের সংবিধানে প্রদত্ত ধর্মীয় ও মৌলিক অধিকার হরণের দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে।

ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক এজেন্ডা ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পের নামে মুসলিম ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্থান ধ্বংসের প্রবণতা দিন দিন মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ উজ্জয়িনীর ছত্রী চকে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন শাহী মসজিদের একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য উজ্জয়িনী পৌরসংস্থার সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিয়েছে। ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য সিংহস্থ কুম্ভমেলায় আগত কোটি কোটি হিন্দু পুণ্যার্থীর যাতায়াত ও যানজট ব্যবস্থাপনার অজুহাতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আদালতের রায় ও যুক্তি

বিচারপতি সন্দ্বীপ এন ভাট একক বেঞ্চে শুনানি শেষে বলেন, পৌরসংস্থার এই পদক্ষেপ আইনানুভাবেই নেওয়া হয়েছে এবং এতে সংবিধানের ১৪ (সাম্য), ২৫ ও ২৬ (ধর্মীয় স্বাধীনতা) এবং ৩০০এ (সম্পত্তির অধিকার) অনুচ্ছেদের কোনো লঙ্ঘন হয়নি। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে দাবি করেন, মসজিদ কমিটি রাস্তা প্রশস্তকরণে 'সহযোগিতা করছে না' এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আদালতের মতে, মসজিদটি মহাকালেশ্বর মন্দিরের ঠিক বিপরীতে এবং ক্ষিপ্র নদীর কাছে অবস্থিত। আগামী কুম্ভমেলায় কোটি কোটি মানুষের সমাগম বিবেচনা করে জননিরাপত্তা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

মসজিদ কমিটির উদ্বেগ ও ঐতিহ্যের তোয়াক্কা নয়

মসজিদের প্রশাসনিক কমিটির পক্ষে আশফাক আহমেদ ও আরশান হুসাইন পৃথক রিট পিটিশনে জানান যে, এই মসজিদটি শত বছরেরও পুরনো এবং নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তি। প্রস্তাবিত ১৫ মিটারের রাস্তা প্রশস্তকরণ বাস্তবায়িত হলে মসজিদের মূল জামাত খানা (নামাজের স্থান), ঐতিহ্যবাহী ১২০ ফুট উঁচু মিনার এবং মাযহার চক শাহী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হবে। ইতিহাস অনুযায়ী, এটি সিন্ধিয়া আমল থেকে সুরক্ষিত একটি ধর্মীয় স্থাপনা হলেও বর্তমান বিজেপি শাসিত প্রশাসন সেই ঐতিহাসিক মর্যাদা ও নথিপত্র উপেক্ষা করেই এটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করে।

উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের নজির

ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক সম্প্রসারণ, নগর সংস্কার কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে মসজিদ ও মাজার গুঁড়িয়ে দেওয়া স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত হয়েছে। কাসি, বারাণসী বা অসমের মতো মধ্যপ্রদেশেও বিজেপি সরকারের আমলে একই ছকে ধর্মীয় ও ওয়াকফ সম্পত্তিতে আঘাত হানা হচ্ছে। মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে বিকল্প হিসেবে নিকটস্থ খালি জায়গা বা উদ্যানের অংশ ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ