রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ভিএইচপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সরাসরি সহিংসতার উসকানি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল নেতা অভিষেক রাজার; নীরব পুলিশ ও প্রশাসন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড়।

বিহারে মুসলিমদের বুক চিরে হৃদপিণ্ড খাওয়ার আহ্বান বজরং দল নেতার


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিহারে মুসলিমদের বুক চিরে হৃদপিণ্ড খাওয়ার আহ্বান বজরং দল নেতার

ভারতের বিহার রাজ্যের দেহরিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতা অভিষেক রাজা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত মারাত্মক ও সহিংস উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি উপস্থিত হিন্দু যুবকদের মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় প্ররোচিত করেন এবং মুসলিম নারীদের গর্ভপাত ঘটার মতো কুরুচিকর ও হিংসাত্মক মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতসহ বিশ্বজুড়ে মুসলিম অধিকারকর্মী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

বিহারের দে হরিতে ভিএইচপি-বজরং দল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য

ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর অব্যাহত বিদ্বেষমূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে বিহারের দেহরিতে চরম উসকানিমূলক ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের স্থানীয় নেতা অভিষেক রাজা ভিএইচপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মঞ্চ থেকে মুসলিমদের লক্ষ্য করে সরাসরি হিংসাত্মক বক্তব্য দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিষেক রাজা উপস্থিত হিন্দু তরুণদের মুসলিমদের প্রতি অত্যন্ত হিংস্র মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম নারীদের গর্ভে থাকা সন্তানকে নিয়ে কুরুচিকর ও অমানবিক মন্তব্য করেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এমনভাবে গর্জন তুলতে যাতে দূরদূরান্তের মুসলিম নারীদের গর্ভপাত ঘটে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশাসনকে প্রশ্ন

এই মন্তব্যের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেন এবং মানবাধিকারকর্মীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, ভারতে প্রকাশ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক ব্যবহারকারী লিখেছিলেন, "২০০২ সালে গুজরাটে ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছিল এবং এখন সারা দেশে তেমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো দল, নেতা বা স্থান বিবেচনা না করে এই দেশকে বাঁচাতে হবে।"

অন্য এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলে বলেন, "একটি উন্মুক্ত পাবলিক প্ল্যাটফর্ম থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সহিংস ও অমানবিক ভাষা প্রয়োগ করা কি দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির নিদর্শন? এখন পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন—এমন বক্তব্যের পর কখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে?"

ভারতে ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষ ও উদ্বেগ

ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিত্রায়িত করা এবং প্রকাশ্যে সহিংসতার ডাক দেওয়া সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পথ প্রশস্ত করছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিহারে মুসলিমদের বুক চিরে হৃদপিণ্ড খাওয়ার আহ্বান বজরং দল নেতার

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের বিহার রাজ্যের দেহরিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতা অভিষেক রাজা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত মারাত্মক ও সহিংস উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি উপস্থিত হিন্দু যুবকদের মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় প্ররোচিত করেন এবং মুসলিম নারীদের গর্ভপাত ঘটার মতো কুরুচিকর ও হিংসাত্মক মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতসহ বিশ্বজুড়ে মুসলিম অধিকারকর্মী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

বিহারের দে হরিতে ভিএইচপি-বজরং দল নেতার বিতর্কিত মন্তব্য

ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর অব্যাহত বিদ্বেষমূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে বিহারের দেহরিতে চরম উসকানিমূলক ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের স্থানীয় নেতা অভিষেক রাজা ভিএইচপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মঞ্চ থেকে মুসলিমদের লক্ষ্য করে সরাসরি হিংসাত্মক বক্তব্য দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিষেক রাজা উপস্থিত হিন্দু তরুণদের মুসলিমদের প্রতি অত্যন্ত হিংস্র মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম নারীদের গর্ভে থাকা সন্তানকে নিয়ে কুরুচিকর ও অমানবিক মন্তব্য করেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এমনভাবে গর্জন তুলতে যাতে দূরদূরান্তের মুসলিম নারীদের গর্ভপাত ঘটে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশাসনকে প্রশ্ন

এই মন্তব্যের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেন এবং মানবাধিকারকর্মীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, ভারতে প্রকাশ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক ব্যবহারকারী লিখেছিলেন, "২০০২ সালে গুজরাটে ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছিল এবং এখন সারা দেশে তেমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো দল, নেতা বা স্থান বিবেচনা না করে এই দেশকে বাঁচাতে হবে।"

অন্য এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলে বলেন, "একটি উন্মুক্ত পাবলিক প্ল্যাটফর্ম থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সহিংস ও অমানবিক ভাষা প্রয়োগ করা কি দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির নিদর্শন? এখন পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন—এমন বক্তব্যের পর কখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে?"

ভারতে ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষ ও উদ্বেগ

ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিত্রায়িত করা এবং প্রকাশ্যে সহিংসতার ডাক দেওয়া সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পথ প্রশস্ত করছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ