সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং বিশ্ব ইজতেমা শুরায়ী নিজামের অধীনে পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ।

টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সাদপন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আলেম-ওলামাদের ৮ দফা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সাদপন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আলেম-ওলামাদের ৮ দফা

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং বিতর্কিত সাদপন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন দেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখ ও কওমি মাদ্রাসার আলেমগণ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকায় ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ বিষয়ে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা আলেম-ওলামা, কওমি মাদ্রাসার শীর্ষ পরিচালকমণ্ডলী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, দাওয়াত ও তাবলিগের শুরায়ী নিজামের সদস্য এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হামলা ও সার্বিক তাবলিগ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের আশু করণীয় তুলে ধরেন।

ঘোষিত ৮ দফা দাবি:

  • ১. টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার: ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। মামলাগুলোর (জিআর ও সংশ্লিষ্ট মামলা) বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়। 
  • ২. নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তি: রক্তক্ষয়ী হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। 
  • ৩. অপরাধীদের প্রতি জিরো টলারেন্স: হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি যে পক্ষেরই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় না দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। 

  • ৪. পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল: ইজতেমা ময়দান ব্যবহারে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বজায় রাখতে হবে এবং সাদপন্থীদের সেখানে কোনো প্রকার ইজতেমা বা তাবলিগ কার্যক্রম চালাতে দেওয়া যাবে না। 
  • ৫. আইনানুগ ব্যবস্থা: সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাদপন্থীরা ময়দানে প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ও প্রশাসনিক প্রতিহতমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। 
  • ৬. রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ওয়াসিফুল ইসলাম, রেজা আরিফ, ওসামা ও সায়েমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিদেশে বাংলাদেশের আলেমদের বিষয়ে নেতিবাচক বার্তা প্রদান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তোলা হয়। 
  • ৭. আলেমদের পরামর্শে স্থায়ী সমাধান: শীর্ষ মুফতি ও আলেমদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে দাওয়াত ও তাবলিগের সংকট নিরসনে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। 
  • ৮. দ্বীনি পরিবেশ রক্ষা: দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রাখতে আলেমদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। লিখিত বক্তব্যে ইজতেমা ময়দান ও কাকরাইল মারকাজ সম্পূর্ণভাবে শুরায়ী নিজাম ও আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়।

মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমীর ঘোষণাপত্র পাঠ এবং মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী ও মাওলানা লোকমান মাজহারীর পরিচালনায় সম্মেলনটি শেষ হয় দেশের শান্তি, উম্মাহর ঐক্য ও সঠিক দ্বীনি দাওয়াতের কামনায় বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে।

বিষয় : টঙ্গী ইজতেমা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সাদপন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে আলেম-ওলামাদের ৮ দফা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং বিতর্কিত সাদপন্থীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন দেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখ ও কওমি মাদ্রাসার আলেমগণ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকায় ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনে এ বিষয়ে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা আলেম-ওলামা, কওমি মাদ্রাসার শীর্ষ পরিচালকমণ্ডলী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, দাওয়াত ও তাবলিগের শুরায়ী নিজামের সদস্য এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হামলা ও সার্বিক তাবলিগ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের আশু করণীয় তুলে ধরেন।

ঘোষিত ৮ দফা দাবি:

  • ১. টঙ্গী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার: ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। মামলাগুলোর (জিআর ও সংশ্লিষ্ট মামলা) বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়। 
  • ২. নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তি: রক্তক্ষয়ী হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। 
  • ৩. অপরাধীদের প্রতি জিরো টলারেন্স: হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি যে পক্ষেরই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় না দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। 

  • ৪. পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল: ইজতেমা ময়দান ব্যবহারে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বজায় রাখতে হবে এবং সাদপন্থীদের সেখানে কোনো প্রকার ইজতেমা বা তাবলিগ কার্যক্রম চালাতে দেওয়া যাবে না। 
  • ৫. আইনানুগ ব্যবস্থা: সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাদপন্থীরা ময়দানে প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ও প্রশাসনিক প্রতিহতমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। 
  • ৬. রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ওয়াসিফুল ইসলাম, রেজা আরিফ, ওসামা ও সায়েমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিদেশে বাংলাদেশের আলেমদের বিষয়ে নেতিবাচক বার্তা প্রদান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তোলা হয়। 
  • ৭. আলেমদের পরামর্শে স্থায়ী সমাধান: শীর্ষ মুফতি ও আলেমদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে দাওয়াত ও তাবলিগের সংকট নিরসনে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। 
  • ৮. দ্বীনি পরিবেশ রক্ষা: দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রাখতে আলেমদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। লিখিত বক্তব্যে ইজতেমা ময়দান ও কাকরাইল মারকাজ সম্পূর্ণভাবে শুরায়ী নিজাম ও আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়।

মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমীর ঘোষণাপত্র পাঠ এবং মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী ও মাওলানা লোকমান মাজহারীর পরিচালনায় সম্মেলনটি শেষ হয় দেশের শান্তি, উম্মাহর ঐক্য ও সঠিক দ্বীনি দাওয়াতের কামনায় বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ