সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

কাকরাইল মারকাজ ও বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্কবার্তা

তওবা না করা পর্যন্ত মাওলানা সাদকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজত আমির


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তওবা না করা পর্যন্ত মাওলানা সাদকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজত আমির

দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরুব্বি মাওলানা সাদের বিতর্কিত বক্তব্য থেকে তওবা না করা পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত মহাসম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। একই সাথে বিশ্ব ইজতেমা ও কাকরাইল মারকাজের সার্বিক কার্যক্রম আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘দাওয়াত ও তাবলিগ, মাদারিসে কওমিয়া এবং দ্বীনের হেফাজতের লক্ষ্য’ শীর্ষক ওলামা মাশায়েখ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও সাধারণ তৌহিদী জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। বক্তব্যে হেফাজত আমির বলেন, 'সরকারের প্রতি আমার স্পষ্ট দাবি, নিজের গোমরাহী ও শরিয়তবিরোধী বক্তব্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তওবা না করা পর্যন্ত যেন মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া না হয়। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের শুরায়ে নেজাম দ্বারা পরিচালিত হতে হবে এবং কাকরাইল মারকাজের সব কার্যক্রমও ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে চালু রাখতে হবে।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওলামায়ে কেরামের নিরলস দাওয়াতের মাধ্যমেই আজ বিশ্বজুড়ে কোরআন ও সুন্নাহর বাণী পৌঁছেছে। দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিকর্তার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক তৈরি করা এবং পথভোলা মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেওয়া। এই মহৎ দায়িত্ব পালনের জন্যই হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) তাবলিগের কাজ শুরু করেছিলেন।

হেফাজত আমির অভিযোগ করে বলেন, 'মাওলানা সাদ বিভিন্ন সময়ে কোরআন, হাদিস, নবী-রাসুল, নবুয়ত, সাহাবায়ে কেরাম ও শরয়ী মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তার এসব বক্তব্য কোরআন-সুন্নাহর চরম বিরোধী, যা মুসলিম উম্মাহ কখনোই মেনে নিতে পারে না।' তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, 'ছাত্র-জনতা ও আলেমদের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশে ব্যক্তি সাদের কারণে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক বা সরকার বেকায়দায় পড়ুক, তা আমরা চাই না। আশা করি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।'

সম্মেলনে হেফাজতের আরেক যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, 'আমরা বিগত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছি। নতুন করে কেউ যদি আলেমসমাজকে রক্তচক্ষু দেখায়, তবে আমরা তাদের চক্ষু উপড়ে ফেলব। জাতির পথপ্রদর্শক এবং তাবলিগের আসল রাহবার হবেন ওলামায়ে কেরামই। কাকরাইল মসজিদ ও বিশ্ব ইজতেমা পরিচালনায় আলেমদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে হবে।'

উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে বিভক্ত হয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যেখানে দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদের অনুসারীরা অংশ নেন। তবে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় সাদপন্থীরা প্রথম পর্বে ইজতেমা করার দাবি জানালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেমদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তার প্রতিবাদেই এই বৃহৎ মহাসম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়।

বিষয় : তওবা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তওবা না করা পর্যন্ত মাওলানা সাদকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজত আমির

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরুব্বি মাওলানা সাদের বিতর্কিত বক্তব্য থেকে তওবা না করা পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত মহাসম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। একই সাথে বিশ্ব ইজতেমা ও কাকরাইল মারকাজের সার্বিক কার্যক্রম আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘দাওয়াত ও তাবলিগ, মাদারিসে কওমিয়া এবং দ্বীনের হেফাজতের লক্ষ্য’ শীর্ষক ওলামা মাশায়েখ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও সাধারণ তৌহিদী জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। বক্তব্যে হেফাজত আমির বলেন, 'সরকারের প্রতি আমার স্পষ্ট দাবি, নিজের গোমরাহী ও শরিয়তবিরোধী বক্তব্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তওবা না করা পর্যন্ত যেন মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া না হয়। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের শুরায়ে নেজাম দ্বারা পরিচালিত হতে হবে এবং কাকরাইল মারকাজের সব কার্যক্রমও ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে চালু রাখতে হবে।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওলামায়ে কেরামের নিরলস দাওয়াতের মাধ্যমেই আজ বিশ্বজুড়ে কোরআন ও সুন্নাহর বাণী পৌঁছেছে। দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিকর্তার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক তৈরি করা এবং পথভোলা মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেওয়া। এই মহৎ দায়িত্ব পালনের জন্যই হযরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) তাবলিগের কাজ শুরু করেছিলেন।

হেফাজত আমির অভিযোগ করে বলেন, 'মাওলানা সাদ বিভিন্ন সময়ে কোরআন, হাদিস, নবী-রাসুল, নবুয়ত, সাহাবায়ে কেরাম ও শরয়ী মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তার এসব বক্তব্য কোরআন-সুন্নাহর চরম বিরোধী, যা মুসলিম উম্মাহ কখনোই মেনে নিতে পারে না।' তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, 'ছাত্র-জনতা ও আলেমদের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশে ব্যক্তি সাদের কারণে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক বা সরকার বেকায়দায় পড়ুক, তা আমরা চাই না। আশা করি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।'

সম্মেলনে হেফাজতের আরেক যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, 'আমরা বিগত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছি। নতুন করে কেউ যদি আলেমসমাজকে রক্তচক্ষু দেখায়, তবে আমরা তাদের চক্ষু উপড়ে ফেলব। জাতির পথপ্রদর্শক এবং তাবলিগের আসল রাহবার হবেন ওলামায়ে কেরামই। কাকরাইল মসজিদ ও বিশ্ব ইজতেমা পরিচালনায় আলেমদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে হবে।'

উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে বিভক্ত হয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যেখানে দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদের অনুসারীরা অংশ নেন। তবে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় সাদপন্থীরা প্রথম পর্বে ইজতেমা করার দাবি জানালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেমদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তার প্রতিবাদেই এই বৃহৎ মহাসম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ