সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রাখার বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তন করে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জোর দাবি জানালেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর।

বর্তমান সংবিধানে যে কেউ শেখ হাসিনার মতো নির্দেশিত ফ্যাসিস্ট হতে পারেন: বরগুনায় আল্লামা মামুনুল হক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্তমান সংবিধানে যে কেউ শেখ হাসিনার মতো নির্দেশিত ফ্যাসিস্ট হতে পারেন: বরগুনায় আল্লামা মামুনুল হক

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামোকে ‘ফ্যাসিবাদ তৈরির মূল কারখানা’ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বরগুনা পৌর শহরের সিরাজউদ্দিন মিলনায়তনে এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা বহাল থাকলে আগামীতে যেকোনো সরকারপ্রধানই স্বৈরাচারী রূপ নিতে পারে। রাষ্ট্র ও সংবিধানে ক্ষমতার মৌলিক ভারসাম্য আনাই আগামী দিনের স্বৈরাচার রোধের একমাত্র পথ।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরগুনা জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সংগঠনের আমীর আল্লামা মামুনুল হক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে অপরিসীম ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে রাখা হয়েছে। এই একক ক্ষমতার ব্যবস্থার কারণে যিনিই সরকারপ্রধান হবেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তার পক্ষে শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ থেকে যায়। আগামীতে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সরকার গঠন করলেও এই কাঠামোগত দুর্বলতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকে যাবে। তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচার রোধে এখনই রাষ্ট্র ও সংবিধানে আমূল সংস্কার আনা জরুরি।

প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানান, নতুন বাংলাদেশে পুলিশকে আর কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাডার বা পেটোয়া বাহিনী হিসেবে দেখতে চায় না জনগণ। পুলিশ ও প্রশাসন হবে জনগণের প্রকৃত সেবক। দলীয় বিবেচনা বাদ দিয়ে মেধা, যোগ্যতা ও আমানতদারিতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে খেলাফত প্রধান কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেন:

ক্ষমতার ভারসাম্য: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যপরিধিতে প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুষম ভারসাম্য রক্ষা করা।

স্বাধীন প্রতিষ্ঠান: বিচার বিভাগ এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি) সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা।

সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা: নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং কোনো দলীয় প্রভাব ছাড়া সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা।

সমাবেশে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে আল্লামা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, দলীয় আনুগত্যশীল বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে গঠিত কমিশন কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারে না। দেশবাসী একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ দেখতে চায়।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ওযায়ের আমীন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ।

বিষয় : আল্লামা মামুনুল হক বরগুনা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বর্তমান সংবিধানে যে কেউ শেখ হাসিনার মতো নির্দেশিত ফ্যাসিস্ট হতে পারেন: বরগুনায় আল্লামা মামুনুল হক

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামোকে ‘ফ্যাসিবাদ তৈরির মূল কারখানা’ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বরগুনা পৌর শহরের সিরাজউদ্দিন মিলনায়তনে এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা বহাল থাকলে আগামীতে যেকোনো সরকারপ্রধানই স্বৈরাচারী রূপ নিতে পারে। রাষ্ট্র ও সংবিধানে ক্ষমতার মৌলিক ভারসাম্য আনাই আগামী দিনের স্বৈরাচার রোধের একমাত্র পথ।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরগুনা জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সংগঠনের আমীর আল্লামা মামুনুল হক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে অপরিসীম ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে রাখা হয়েছে। এই একক ক্ষমতার ব্যবস্থার কারণে যিনিই সরকারপ্রধান হবেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তার পক্ষে শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ থেকে যায়। আগামীতে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সরকার গঠন করলেও এই কাঠামোগত দুর্বলতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা থেকে যাবে। তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরাচার রোধে এখনই রাষ্ট্র ও সংবিধানে আমূল সংস্কার আনা জরুরি।

প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানান, নতুন বাংলাদেশে পুলিশকে আর কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাডার বা পেটোয়া বাহিনী হিসেবে দেখতে চায় না জনগণ। পুলিশ ও প্রশাসন হবে জনগণের প্রকৃত সেবক। দলীয় বিবেচনা বাদ দিয়ে মেধা, যোগ্যতা ও আমানতদারিতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে খেলাফত প্রধান কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেন:

ক্ষমতার ভারসাম্য: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যপরিধিতে প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুষম ভারসাম্য রক্ষা করা।

স্বাধীন প্রতিষ্ঠান: বিচার বিভাগ এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি) সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা।

সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা: নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং কোনো দলীয় প্রভাব ছাড়া সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা।

সমাবেশে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে আল্লামা মামুনুল হক অভিযোগ করেন, দলীয় আনুগত্যশীল বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে গঠিত কমিশন কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারে না। দেশবাসী একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ দেখতে চায়।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি ওযায়ের আমীন, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান এবং ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ