বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

তুর্কিয়ের ঐতিহাসিক আরতুকলু মুফতি কার্যালয়ে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম হলেন শেভন; নতুন নাম রাখলেন ‘আবদুল্লাহ’।

তুরস্কে ঘুরে মুগ্ধ দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক, গ্রহণ করলেন ইসলাম


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তুরস্কে ঘুরে মুগ্ধ দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক, গ্রহণ করলেন ইসলাম

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা 'শেভন' নামের এক পর্যটক সম্প্রতি তুরস্কে ভ্রমণের সময় ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক মারদিন প্রদেশের আরতুকলু জেলা মুফতি কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। জেলা মুফতি সুলেমান বারানের উপস্থিতিতে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘আবদুল্লাহ’ রাখেন।

তুরস্কের সমৃদ্ধ ইতিহাস, অনন্য স্থাপত্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির টানে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক আগমন করেন। এ ধরনের এক সাংস্কৃতিক সফরে এসে তুর্কিয়ের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক নগরী মারদিনে পৌঁছে এক কোরীয় পর্যটক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন।

মারদিনের আরতুকলু জেলা মুফতি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক শেভন আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন। আরতুকলু জেলার মুফতি সুলেমান বারান এ সময় তাকে সার্বিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং তার তত্ত্বাবধানেই শেভন বিশ্বস্রষ্টার প্রতি ঈমান এনে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করেন।

মুফতি কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলাম গ্রহণের পর শেভন তার নতুন নাম নির্ধারণ করেছেন ‘আবদুল্লাহ’, যার অর্থ ‘আল্লাহর বান্দা’। আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পরম মুহূর্তে আরতুকলু মুফতি সুলেমান বারান নতুন মুসলিম আব্দুল্লাহর হাতে একটি পবিত্র কুরআনের কপি উপহার তুলে দেন এবং তার আত্মিক অগ্রযাত্রার জন্য বিশেষ দোয়া করেন।

সিরিয়া সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব আনাতোলিয়ায় অবস্থিত মারদিন শহরটি প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানকার ঐতিহ্যবাহী পাথরের অনন্য স্থাপত্য ও প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনাবলি বহু যুগ ধরে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে আসছে। শতাব্দীপ্রাচীন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গঠিত এই প্রাচীন নগরীর সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রায়শই দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।

যে আরতুকলু জেলায় এই রূপান্তরের ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মূলত মারদিনের ঐতিহাসিক পুরনো শহরের মূল কেন্দ্রে অবস্থিত। চুনাপাথরের চমৎকার ভবন এবং মধ্যযুগীয় চমৎকার মসজিদ সম্বলিত এই এলাকাটি জাতিসংঘের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকার সাময়িক তালিকায় স্থান পেয়েছে। দেশটির পর্যটন কর্মকর্তারা অঞ্চলটিকে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ক্রমাগত বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছেন। এই পবিত্র ও ঐতিহাসিক পরিবেশে একজন দূরপ্রাচ্যের নাগরিকের সত্যের পথে আসার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

বিষয় : তুরস্ক দক্ষিণ কোরিয়া

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তুরস্কে ঘুরে মুগ্ধ দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক, গ্রহণ করলেন ইসলাম

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা 'শেভন' নামের এক পর্যটক সম্প্রতি তুরস্কে ভ্রমণের সময় ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক মারদিন প্রদেশের আরতুকলু জেলা মুফতি কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। জেলা মুফতি সুলেমান বারানের উপস্থিতিতে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠের পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘আবদুল্লাহ’ রাখেন।

তুরস্কের সমৃদ্ধ ইতিহাস, অনন্য স্থাপত্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির টানে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক আগমন করেন। এ ধরনের এক সাংস্কৃতিক সফরে এসে তুর্কিয়ের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক নগরী মারদিনে পৌঁছে এক কোরীয় পর্যটক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন।

মারদিনের আরতুকলু জেলা মুফতি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক শেভন আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন। আরতুকলু জেলার মুফতি সুলেমান বারান এ সময় তাকে সার্বিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং তার তত্ত্বাবধানেই শেভন বিশ্বস্রষ্টার প্রতি ঈমান এনে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করেন।

মুফতি কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলাম গ্রহণের পর শেভন তার নতুন নাম নির্ধারণ করেছেন ‘আবদুল্লাহ’, যার অর্থ ‘আল্লাহর বান্দা’। আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পরম মুহূর্তে আরতুকলু মুফতি সুলেমান বারান নতুন মুসলিম আব্দুল্লাহর হাতে একটি পবিত্র কুরআনের কপি উপহার তুলে দেন এবং তার আত্মিক অগ্রযাত্রার জন্য বিশেষ দোয়া করেন।

সিরিয়া সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব আনাতোলিয়ায় অবস্থিত মারদিন শহরটি প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানকার ঐতিহ্যবাহী পাথরের অনন্য স্থাপত্য ও প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনাবলি বহু যুগ ধরে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে আসছে। শতাব্দীপ্রাচীন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গঠিত এই প্রাচীন নগরীর সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রায়শই দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।

যে আরতুকলু জেলায় এই রূপান্তরের ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মূলত মারদিনের ঐতিহাসিক পুরনো শহরের মূল কেন্দ্রে অবস্থিত। চুনাপাথরের চমৎকার ভবন এবং মধ্যযুগীয় চমৎকার মসজিদ সম্বলিত এই এলাকাটি জাতিসংঘের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকার সাময়িক তালিকায় স্থান পেয়েছে। দেশটির পর্যটন কর্মকর্তারা অঞ্চলটিকে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ক্রমাগত বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছেন। এই পবিত্র ও ঐতিহাসিক পরিবেশে একজন দূরপ্রাচ্যের নাগরিকের সত্যের পথে আসার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ