তুরস্কের দুজজে (Düzce) প্রদেশের গোলইয়াকা কুলতুর পার্কে গাজায় দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলার শিকার ফিলিস্তিনি শিশুদের সমর্থনে একটি আবেগঘন ঘুড়ি ওড়ানো কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তুর্কি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের "ঘুড়িতে যেন গুলি না লাগে, আকাশ থাকুক শিশুদের জন্য" উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুজজে গভর্নরেট ও জেলা শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বয়ে এ অর্থবহ উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়।
গাজার সহপাঠীদের সমর্থনে তুর্কি শিক্ষার্থীদের ঘুড়ি উড্ডয়ন
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন ফিলিস্তিনে চলমান মানবিক বিপর্যয় ও দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নারকীয় হামলায় নীরব, ঠিক তখন ফিলিস্তিনি শিশু-কিশোরদের পাশে দাঁড়াতে ব্যতিক্রমী মানবিক বার্তা দিয়েছে তুরস্কের শিক্ষার্থীরা। প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ও অবরোধে বিপর্যস্ত গাজার শিশুদের শিক্ষার অধিকার, মৌলিক অধিকার এবং জীবনরক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে তুরস্কের প্রাক-প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
তুর্কি জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত "Uçurtmalar Vurulmasın, Gökyüzü Çocuklara Kalsın" (ঘুড়িতে যেন গুলি না লাগে, আকাশ থাকুক শিশুদের জন্য) শীর্ষক কর্মসূচির অধীনে স্থানীয় দুজজে গভর্নরেটের সার্বিক নির্দেশনায় ও জেলা শিক্ষা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গোলইয়াকা (Gölyaka) উপজেলার কুলতুর পার্কে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোলইয়াকার সাব-প্রিফেক্ট (Kaymakam) মেহমেত বিরকান তুর্কি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, "আজ আমরা এখানে তোমাদের সুখে-শান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানোর সুযোগ করে দিতে পেরেছি। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশেই শিশুরা এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা আশা করি তোমরা কঠোর পরিশ্রম করে এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলবে, যেখানে বিশ্বের প্রতিটি শিশু স্বাধীনভাবে মুক্ত আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর সুযোগ পাবে।"
গোলইয়াকার মেয়র মুজাফফর জোশকুন ইসরায়েলি নিপীড়নের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "আজ ফিলিস্তিনের হাজার হাজার নিরীহ শিশু যুদ্ধ ও সংঘাতের বিভীষিকার মধ্যে জীবনসংগ্রাম করছে। শিক্ষা, খেলাধুলা এবং একটি নিরাপদ শৈশব থেকে বঞ্চিত এই নিষ্পাপ শিশুদের মানবিক কষ্ট আমাদের বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।"
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানেইর বাঘ বলেন, "আমাদের সবার যৌথ প্রত্যাশা এমন এক পৃথিবী গড়ে তোলা, যেখানে মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়বে এবং শিশুরা যুদ্ধ, ভয় ও যন্ত্রণা থেকে মুক্ত থেকে নিরাপদে বেড়ে উঠবে।"
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা "তুমি ও তোমার অংশ যুক্ত করো" (Bir parça da sen koy) শিরোনামে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পাজল প্রদর্শনী উপস্থাপন করে। এতে শিশুদের বিশ্বজনীন অধিকারের বার্তা লেখা বিভিন্ন কার্ড একত্রিত করে মাঝখানে ফিলিস্তিনের পতাকা স্থাপন করা হয়, যা ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড ও তাদের অধিকারের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের প্রতীকী বার্তা বহন করে। পরিশেষে তুর্কি শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনি সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তাদের হাতে বানানো রঙিন ঘুড়ি আকাশে ভাসিয়ে দেয়।
মতামত