বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও উৎখাত হওয়া আসাদ শাসনের ফেলে রাখা মাইন কেড়ে নিয়েছে শিশু হামাদ ও তার ভাইয়ের শৈশব; তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে আজও ফুটবলে হাত ছোঁয়ায় সে, আকুতি শুধু স্বাভাবিক জীবনের।

সিরিয়ায় মাইন বিস্ফোরণে দুই পা হারিয়েও হার মানেনি ৮ বছরের হামাদ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরিয়ায় মাইন বিস্ফোরণে দুই পা হারিয়েও হার মানেনি ৮ বছরের হামাদ

সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশের আইন ইসা এলাকায় সাবেক স্বৈরাচারী আসাদ শাসন ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পুঁতে রাখা মাইনের ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিজের দুই পা হারিয়েছেন ৮ বছরের শিশু হামাদ হামিদ। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে তার ৭ বছরের ছোট ভাই ইসমাইল। শারীরিক এই ভয়াবহ বিপর্যয় সত্ত্বেও জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহ নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে শিশুটি। হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে হাত দিয়ে বল খেলে শৈশবকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে সে।

সিরিয়ায় বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ এবং উৎখাত হওয়া আসাদ শাসনব্যবস্থা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নৃশংসতার নির্মম শিকার হচ্ছে দেশটির নিষ্পাপ শিশুরা। রাক্কা প্রদেশের আইন ইসা অঞ্চলের ৮ বছর বয়সী শিশু হামাদ হামিদ তারই এক জীবন্ত দলিল। নিজের চাচার বাড়ির কাছে খেলাধুলার সময় মাটি থেকে কুড়িয়ে পাওয়া এক টুকরো লোহা ফেলে দেওয়ার মুহূর্তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় যুদ্ধাবশেষ মাইন। মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যায় শিশুটির দুটি পা।

হামাদের ৭ বছর বয়সী ছোট ভাই ইসমাইল হামিদও এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়। তার চোখ ও পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর তাদের দ্রুত আইন ইসা, রাক্কা এবং পরবর্তীতে দামেস্কের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা হামাদের দুই পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন এবং ইসমাইলের চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়।

হামাদ সংবাদমাধ্যম ‘আনাদোলু’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের আকুতি ব্যক্ত করে বলে, 'আমি আগে চাচাতো ভাইয়ের সাথে ফুটবল খেলতাম। তখন আমার দুই পা ছিল। এখন আর পা নেই, তাই হাত দিয়ে বল খেলি। আমি আবার স্কুলে যেতে চাই, পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু হাঁটতে না পারায় স্কুলে যেতে পারছি না। আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো চলাফেরা করার মতো পা না থাকা।'

দুই ভাইয়ের বাবা ইব্রাহিম হামিদ এক আবেগঘন বার্তায় জানান, ওই এলাকায় মাইন এক আতঙ্কের নাম। তিনি বলেন, 'গত ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মাইন আতঙ্কে কেউ তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছে না। সাধারণ মানুষ গবাদিপশু চরাতে নিয়ে গেলেও মাইন বিস্ফোরণে পশুগুলো মারা যাচ্ছে। মানুষ তো দূর, পশুপাখিও এই মাইন থেকে রেহাই পাচ্ছে না।'

ইব্রাহিম হামিদ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসক ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ফেলে যাওয়া এসব মাইন দ্রুত অপসারণ করতে হবে, যাতে আর কোনো শিশুর শৈশব এভাবে পঙ্গুত্ব বরণ না করে।

সিরিয়া জুড়ে পুঁতে রাখা হাজার হাজার মাইন ও অবিস্ফোরিত বোমা আজ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে নিষ্পাপ মুসলিম শিশুরা প্রতিনিয়ত এর নির্মম শিকারে পরিণত হচ্ছে।

বিষয় : সিরিয়া

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিরিয়ায় মাইন বিস্ফোরণে দুই পা হারিয়েও হার মানেনি ৮ বছরের হামাদ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশের আইন ইসা এলাকায় সাবেক স্বৈরাচারী আসাদ শাসন ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পুঁতে রাখা মাইনের ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিজের দুই পা হারিয়েছেন ৮ বছরের শিশু হামাদ হামিদ। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে তার ৭ বছরের ছোট ভাই ইসমাইল। শারীরিক এই ভয়াবহ বিপর্যয় সত্ত্বেও জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহ নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে শিশুটি। হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে হাত দিয়ে বল খেলে শৈশবকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে সে।

সিরিয়ায় বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ এবং উৎখাত হওয়া আসাদ শাসনব্যবস্থা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নৃশংসতার নির্মম শিকার হচ্ছে দেশটির নিষ্পাপ শিশুরা। রাক্কা প্রদেশের আইন ইসা অঞ্চলের ৮ বছর বয়সী শিশু হামাদ হামিদ তারই এক জীবন্ত দলিল। নিজের চাচার বাড়ির কাছে খেলাধুলার সময় মাটি থেকে কুড়িয়ে পাওয়া এক টুকরো লোহা ফেলে দেওয়ার মুহূর্তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় যুদ্ধাবশেষ মাইন। মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যায় শিশুটির দুটি পা।

হামাদের ৭ বছর বয়সী ছোট ভাই ইসমাইল হামিদও এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়। তার চোখ ও পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর তাদের দ্রুত আইন ইসা, রাক্কা এবং পরবর্তীতে দামেস্কের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা হামাদের দুই পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন এবং ইসমাইলের চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়।

হামাদ সংবাদমাধ্যম ‘আনাদোলু’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের আকুতি ব্যক্ত করে বলে, 'আমি আগে চাচাতো ভাইয়ের সাথে ফুটবল খেলতাম। তখন আমার দুই পা ছিল। এখন আর পা নেই, তাই হাত দিয়ে বল খেলি। আমি আবার স্কুলে যেতে চাই, পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু হাঁটতে না পারায় স্কুলে যেতে পারছি না। আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো চলাফেরা করার মতো পা না থাকা।'

দুই ভাইয়ের বাবা ইব্রাহিম হামিদ এক আবেগঘন বার্তায় জানান, ওই এলাকায় মাইন এক আতঙ্কের নাম। তিনি বলেন, 'গত ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মাইন আতঙ্কে কেউ তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছে না। সাধারণ মানুষ গবাদিপশু চরাতে নিয়ে গেলেও মাইন বিস্ফোরণে পশুগুলো মারা যাচ্ছে। মানুষ তো দূর, পশুপাখিও এই মাইন থেকে রেহাই পাচ্ছে না।'

ইব্রাহিম হামিদ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসক ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ফেলে যাওয়া এসব মাইন দ্রুত অপসারণ করতে হবে, যাতে আর কোনো শিশুর শৈশব এভাবে পঙ্গুত্ব বরণ না করে।

সিরিয়া জুড়ে পুঁতে রাখা হাজার হাজার মাইন ও অবিস্ফোরিত বোমা আজ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে নিষ্পাপ মুসলিম শিশুরা প্রতিনিয়ত এর নির্মম শিকারে পরিণত হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ