জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই মুসলিম দেশের শীর্ষ নেতা সংক্ষিপ্ত পরিসরে সার্বিক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের পাশাপাশি অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানি বার্তা সংস্থা ইলনা (ILNA) স্থানীয় সময় বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করে দুই নেতার একটি আলোকচিত্র প্রকাশ করে।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ কিন্তু সংক্ষিপ্ত আয়োজনে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যদিও বার্তা সংস্থা ইলনার পক্ষ থেকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের নির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুসলিম বিশ্বের বর্তমান সংকট ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নই ছিল এই বৈঠকের মূল উপজীব্য।
মার্কিন হুমকির মুখে পেজেশকিয়ানের কড়া প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে তিনি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভাষণে মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরান কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকার করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইরানকে 'সন্ত্রাসী রাষ্ট্র' হিসেবে আখ্যায়িত করার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাদের সন্ত্রাসী বলেন, অথচ ইতিহাস সাক্ষী ইরান নিজেই দীর্ঘকাল ধরে পশ্চিমাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের শিকার।'
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যদি তাদের দেওয়া শর্তে চুক্তিতে না আসে, তবে দেশটির অস্তিত্ব বিপন্ন করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এমন উসকানিমূলক হুমকির জবাবে বিশ্বনেতাদের সামনে পেজেশকিয়ান বলেন, 'অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা, বর্ধিত রাজনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক গুণ্ডামির সামনে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ আরো তীব্র ও শক্তিশালী হবে।'
নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক অধিকারের দাবি ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো চুক্তি বা আলোচনা করতে চায়, তবে সর্বপ্রথমে তাদের অবৈধ নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য ও স্ট্রেইট অব হরমুজ (হরমুজ প্রণালী) প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, 'আঞ্চলিক অন্য সব দেশ হরমুজ থেকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পাবে, আর ইরানকে সেই ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে—তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।'
মুসলিম বিশ্বের মজলুম জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সব সময় শান্তি ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে, তবে আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
মতামত