শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ আহ্বান জানান। একইসঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে জুনের চুক্তি রূপায়ণে তাগিদ দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিরসনে স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিরসনে স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর

চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের তাগিদ দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের জোর তাগিদ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের অবকাশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে উভয় নেতা পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং টেকসই শান্তির জন্য উভয় পক্ষকেই সংযম বজায় রাখা ও গঠনমূলক আলোচনায় যুক্ত থাকার আহ্বান জানান শাহবাজ শরিফ।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য গভীর সংকটে নিপতিত হয়। গত সাত মাস ধরে এই যুদ্ধ নিরসনে ইসলামাবাদ সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের অপর দেশ কাতারের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় গত ১৮ জুন একটি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রস্তাবের রূপরেখা (Framework Deal) স্বাক্ষর করাতে সক্ষম হয় পাকিস্তান।

ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জুনে স্বাক্ষরিত ওই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে পাকিস্তান ভবিষ্যতে যেকোনো আন্তরিক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগের দিন জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শাহবাজ শরিফ বলেন, 'আমাদের প্রতিবেশী দেশ ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তান একটি খাঁটি ও বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে। জুনের চুক্তিতে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আমি স্বাক্ষর করলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতির কিছুটা অপ্রত্যাশিত অবনতি ঘটে। তবে আমরা আশা হারাইনি। উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।'

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানের বিশেষ উদ্যোগে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময়ব্যাপী ঐতিহাসিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়, যার ভিত্তিতে জুনের ৬০ দিন মেয়াদী আলোচনা রূপরেখা তৈরি হয়। যদিও সম্প্রতি পুনরায় দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে গত মঙ্গলবারও পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকরা।

বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য যুক্তরাষ্ট্র ইরান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিরসনে স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের তাগিদ দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের জোর তাগিদ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের অবকাশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে উভয় নেতা পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং টেকসই শান্তির জন্য উভয় পক্ষকেই সংযম বজায় রাখা ও গঠনমূলক আলোচনায় যুক্ত থাকার আহ্বান জানান শাহবাজ শরিফ।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য গভীর সংকটে নিপতিত হয়। গত সাত মাস ধরে এই যুদ্ধ নিরসনে ইসলামাবাদ সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের অপর দেশ কাতারের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় গত ১৮ জুন একটি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রস্তাবের রূপরেখা (Framework Deal) স্বাক্ষর করাতে সক্ষম হয় পাকিস্তান।

ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জুনে স্বাক্ষরিত ওই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে পাকিস্তান ভবিষ্যতে যেকোনো আন্তরিক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগের দিন জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শাহবাজ শরিফ বলেন, 'আমাদের প্রতিবেশী দেশ ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তান একটি খাঁটি ও বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে। জুনের চুক্তিতে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আমি স্বাক্ষর করলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতির কিছুটা অপ্রত্যাশিত অবনতি ঘটে। তবে আমরা আশা হারাইনি। উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।'

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানের বিশেষ উদ্যোগে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময়ব্যাপী ঐতিহাসিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়, যার ভিত্তিতে জুনের ৬০ দিন মেয়াদী আলোচনা রূপরেখা তৈরি হয়। যদিও সম্প্রতি পুনরায় দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে গত মঙ্গলবারও পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ