পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খানে একটি কৌশলগত পুলিশ চেকপয়েন্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সংযোগস্থল সংলগ্ন এই চৌকিতে হামলা বা দুর্ঘটনাজনিত এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারী সংস্থা 'রেসকিউ ১১২২' ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। ঘটনাটির প্রকৃতি ও কারণ অনুসন্ধানে নিরাপত্তা বাহিনী ও বোম ডিসপোজাল স্কোয়াড যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশের মধ্যবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত রুট ডিআই খান-কোয়েটা মহাসড়কে অবস্থিত একটি যৌথ পুলিশ ও কাস্টমস চেকপোস্টে শনিবার এক রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম 'ডন'-এর সূত্রে জানা গেছে, নিত্যদিনের মতো নিরাপত্তা ও শুল্ক তল্লাশি চলাকালে হঠাৎ করেই বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা 'রেসকিউ ১১২২'-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় চেকপোস্টের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এ পর্যন্ত ৮ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ১টি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিতে উদ্ধার অভিযান জোরদার রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য, শুল্ক কর্মকর্তা এবং সাধারণ পথচারী ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিস্ফোরণের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে এবং এটি আত্মঘাতী হামলা নাকি অন্য কোনো উপায়ে বিস্ফোরক সেখানে রাখা হয়েছিল তা পরীক্ষা করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল (Bomb Disposal Squad) পাঠানো হয়। ডিআই খান-কোয়েটা মহাসড়কটি আঞ্চলিক সংযোগ ও নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত। বিগত কয়েক মাসে খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল ও মুসলিম বিশ্বের অধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক নাগরিক ও দায়িত্বরতদের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মতামত