মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইহুদি উৎসবের অজুহাতে আল-আকসার ঐতিহাসিক মর্যাদা লঙ্ঘনের নজিরবিহীন চেষ্টা; ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও হামাসের কঠোর হুঁশিয়ারি।

সুকোট উৎসবে মসজিদুল আকসায় ১,১৪৩ ইহুদি দখলদারের তাণ্ডব


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুকোট উৎসবে মসজিদুল আকসায় ১,১৪৩ ইহুদি দখলদারের তাণ্ডব

ইহুদিদের 'সুকোট' (সুখোথ) উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ইসরায়েলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদ আল-আকসায় ১,১৪৩ জন অবৈধ ইহুদি দখলদার অনুপ্রবেশ করে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালিয়েছে। রোববার সকালে গ্র্যান্ড মোসলেমের মাগারিবা (মরোক্কান) গেট দিয়ে প্রবেশ করে অবৈধ দখলদাররা আল-আকসার প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক তালমুদিক আচার পালন করে ও প্রার্থনা চালায়। এ ঘটনাকে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থার চরম লঙ্ঘন হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস।

আল-আকসায় অবৈধ প্রবেশ ও ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত

জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্যমতে, ইসরায়েলি পুলিশের সশস্ত্র পাহাড়ায় একের পর এক দলে বিভক্ত হয়ে উগ্র ইহুদি দখলদাররা আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। সেখানে তারা তালমুদিক অনুশাসন অনুসারে প্রার্থনা ও গান-বাজনার মাধ্যমে পবিত্র পরিবেশকে চরমভাবে কলঙ্কিত করে। দখলদাররা আল-আকসার ভেতরে গাছপালার মাধ্যমে নৈবেদ্য বা ধার্মিক উপহার সামগ্রী নিয়ে প্রবেশ করে। ইহুদিদের এই অপকর্ম রুখতে ইসরায়েলি পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, বরং তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে দখলদারদের সার্বিক সুরক্ষা দিয়েছে।

আল-আকসার কাত্তানিন (তুলা ব্যবসায়ী) ফটকের কাছে ইহুদিরা দলবদ্ধভাবে নাচ-গান ও মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বিশেষ তালমুদিক আচার সম্পন্ন করে। এর আগের দিনও ২৬০ জন ইহুদি দখলদার একইভাবে পবিত্র এই স্থানে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছিল।

ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া: পবিত্র স্থান নিয়ে খেলা মানে আগুনের সঙ্গে খেলা

ফিলিস্তিন সরকারের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদাইনেহ উগ্র ইহুদিদের ক্রমবর্ধমান এই অনুপ্রবেশকে একটি গুরুতর আন্তর্জাতিক হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, 'ইসরায়েল পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে পবিত্র আল-আকসায় একটি নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দিতে চাইছে এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ইবাদতের অধিকার খর্ব করছে। এই উসকানিমূলক কাজ বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ২০০ কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর সরাসরি আঘাত।'

আবু রুদাইনেহ স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন যে, আল-আকসার ১৪৪ ডুনাম (পুরো এলাকা) শুধুই মুসলমানদের একচ্ছত্র ইবাদতগাহ এবং এটি বিভাজনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, 'পবিত্র স্থানের ওপর আঘাত হানা একটি লাল রেখা অতিক্রম করার শামিল। ইসরায়েল অঞ্চলটিকে একটি 'ধর্মীয় যুদ্ধে'র দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেবে।' একই সাথে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ফিলিস্তিন ও এর পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার জন্য অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

হামাসের বার্তা: আল-আকসার ইসলামিক সত্তা পরিবর্তন করা অসম্ভব

পবিত্র স্থানে ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বের প্রতিবাদে এক কড়া বার্তা দিয়েছে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এক লিখিত বিবৃতিতে তারা জানায়, 'জেরুজালেমকে সামরিক ব্যারাকে পরিণত করে কিংবা আল-আকসায় জোরপূর্বক তালমুদিক আচার পালন করিয়ে এই ঐতিহাসিক শহরের আরবি ও ইসলামিক পরিচিতি মুছে ফেলা যাবে না।'

হামাস ফিলিস্তিন, পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বসবাসকারী সমস্ত ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা অভিমুখে যাত্রা করতে এবং সেখানে সার্বক্ষণিক প্রহরায় (রিবাথ) অবস্থান নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে। সেই সাথে আরব ও মুসলিম বিশ্বের দায়িত্বশীল দেশগুলোকে নিষ্ক্রিয়তা ঝেড়ে ফেলে জেরুজালেম এবং আল-আকসা রক্ষায় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে।

চুক্তি ও ইসরায়েলি লঙ্ঘন

১৯৯৪ সালে ইসরায়েল ও জর্ডানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদের সব দায়িত্ব জর্ডানের আওতাধীন জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ বোর্ডের অধীন। কিন্তু ২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েল একতরফাভাবে এই চুক্তির তোয়াক্কা না করে ওয়াকফ বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই প্রতিদিন সশস্ত্র পুলিশ পাহাড়ায় উগ্র ইহুদিদের আল-আকসায় প্রবেশের ব্যবস্থা করে আসছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিষয় : ফিলিস্তিন মসজিদুল আকসা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুকোট উৎসবে মসজিদুল আকসায় ১,১৪৩ ইহুদি দখলদারের তাণ্ডব

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইহুদিদের 'সুকোট' (সুখোথ) উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ইসরায়েলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র মসজিদ আল-আকসায় ১,১৪৩ জন অবৈধ ইহুদি দখলদার অনুপ্রবেশ করে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালিয়েছে। রোববার সকালে গ্র্যান্ড মোসলেমের মাগারিবা (মরোক্কান) গেট দিয়ে প্রবেশ করে অবৈধ দখলদাররা আল-আকসার প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক তালমুদিক আচার পালন করে ও প্রার্থনা চালায়। এ ঘটনাকে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও আইনি স্থিতাবস্থার চরম লঙ্ঘন হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস।

আল-আকসায় অবৈধ প্রবেশ ও ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত

জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্যমতে, ইসরায়েলি পুলিশের সশস্ত্র পাহাড়ায় একের পর এক দলে বিভক্ত হয়ে উগ্র ইহুদি দখলদাররা আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। সেখানে তারা তালমুদিক অনুশাসন অনুসারে প্রার্থনা ও গান-বাজনার মাধ্যমে পবিত্র পরিবেশকে চরমভাবে কলঙ্কিত করে। দখলদাররা আল-আকসার ভেতরে গাছপালার মাধ্যমে নৈবেদ্য বা ধার্মিক উপহার সামগ্রী নিয়ে প্রবেশ করে। ইহুদিদের এই অপকর্ম রুখতে ইসরায়েলি পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, বরং তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে দখলদারদের সার্বিক সুরক্ষা দিয়েছে।

আল-আকসার কাত্তানিন (তুলা ব্যবসায়ী) ফটকের কাছে ইহুদিরা দলবদ্ধভাবে নাচ-গান ও মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বিশেষ তালমুদিক আচার সম্পন্ন করে। এর আগের দিনও ২৬০ জন ইহুদি দখলদার একইভাবে পবিত্র এই স্থানে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছিল।

ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া: পবিত্র স্থান নিয়ে খেলা মানে আগুনের সঙ্গে খেলা

ফিলিস্তিন সরকারের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদাইনেহ উগ্র ইহুদিদের ক্রমবর্ধমান এই অনুপ্রবেশকে একটি গুরুতর আন্তর্জাতিক হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, 'ইসরায়েল পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে পবিত্র আল-আকসায় একটি নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দিতে চাইছে এবং ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ইবাদতের অধিকার খর্ব করছে। এই উসকানিমূলক কাজ বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ২০০ কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর সরাসরি আঘাত।'

আবু রুদাইনেহ স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন যে, আল-আকসার ১৪৪ ডুনাম (পুরো এলাকা) শুধুই মুসলমানদের একচ্ছত্র ইবাদতগাহ এবং এটি বিভাজনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, 'পবিত্র স্থানের ওপর আঘাত হানা একটি লাল রেখা অতিক্রম করার শামিল। ইসরায়েল অঞ্চলটিকে একটি 'ধর্মীয় যুদ্ধে'র দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেবে।' একই সাথে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ফিলিস্তিন ও এর পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার জন্য অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

হামাসের বার্তা: আল-আকসার ইসলামিক সত্তা পরিবর্তন করা অসম্ভব

পবিত্র স্থানে ইসরায়েলের এই দখলদারিত্বের প্রতিবাদে এক কড়া বার্তা দিয়েছে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এক লিখিত বিবৃতিতে তারা জানায়, 'জেরুজালেমকে সামরিক ব্যারাকে পরিণত করে কিংবা আল-আকসায় জোরপূর্বক তালমুদিক আচার পালন করিয়ে এই ঐতিহাসিক শহরের আরবি ও ইসলামিক পরিচিতি মুছে ফেলা যাবে না।'

হামাস ফিলিস্তিন, পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বসবাসকারী সমস্ত ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা অভিমুখে যাত্রা করতে এবং সেখানে সার্বক্ষণিক প্রহরায় (রিবাথ) অবস্থান নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে। সেই সাথে আরব ও মুসলিম বিশ্বের দায়িত্বশীল দেশগুলোকে নিষ্ক্রিয়তা ঝেড়ে ফেলে জেরুজালেম এবং আল-আকসা রক্ষায় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে।

চুক্তি ও ইসরায়েলি লঙ্ঘন

১৯৯৪ সালে ইসরায়েল ও জর্ডানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদের সব দায়িত্ব জর্ডানের আওতাধীন জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াকফ বোর্ডের অধীন। কিন্তু ২০০৩ সাল থেকে ইসরায়েল একতরফাভাবে এই চুক্তির তোয়াক্কা না করে ওয়াকফ বোর্ডের অনুমতি ছাড়াই প্রতিদিন সশস্ত্র পুলিশ পাহাড়ায় উগ্র ইহুদিদের আল-আকসায় প্রবেশের ব্যবস্থা করে আসছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ