ভারতের মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক শহর উজ্জয়িনীতে ২০২৮ সালের হিন্দু ধর্মীয় সমাবেশ 'সিংহস্থ কুম্ভ' মেলার রাস্তা প্রশস্ত করার অজুহাতে ১৩৯০ সালে নির্মিত ৬৩০ বছরের প্রাচীন শাহী মসজিদে আংশিক ভাঙন ও বুলডোজার অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় নগর প্রশাসন।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে ৬৩০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ বুলডোজারের তোপ থেকে রক্ষা করতে অভূতপূর্ব প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়।
প্রশাসনের দাবি, ২০২৮ সালের 'সিংহস্থ কুম্ভ' মেলার জন্য নদীঘাট ও প্রধান সড়কগুলোতে লাখ লাখ হিন্দু পুণ্যার্থীর যাতায়াত সুগম করতে ৭৩০ মিটার থেকে ৯০০ মিটার দৈর্ঘ্যের পথ ১৫ মিটারে উন্নীত করা প্রয়োজন।
শনিবার মধ্যরাতের পর উজ্জয়িনী পৌর কর্পোরেশন (UMC) ভারী বুলডোজার ও প্রায় ২,০০০ সশস্ত্র পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) নিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আশেপাশের এলাকা থেকে দলে দলে সাধারণ মানুষ এসে উপস্থিত হন।
ইন্দোরের বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা মুফতি জুনাইদ বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, 'একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের নামে অন্য ধর্মের শতাব্দী প্রাচীন অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য বুলডোজার দিয়ে মুছে ফেলা কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আজ যদি এই মসজিদ ভাঙা হয়, তবে এর অজুহাতে শহরের আরও ২৮টি মসজিদকে ঝুঁকিতে ফেলা হবে। এটি একটি পরিকল্পিত প্রশাসনিক জুলুম।'
আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বড় বেঞ্চে পুনরায় আবেদন দায়ের করেছে 'অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব সিভিল রাইটস' (APCR) ও মসজিদ ট্রাস্ট। আদালত এখনো চূড়ান্ত রায় না দিলেও পুলিশ ও নগর প্রশাসন যেভাবে বুলডোজার নিয়ে মসজিদ ঘেরাও করেছে, তাকে 'বুলডোজার জাস্টিস' ও উগ্র মতাদর্শিক আগ্রাসন হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। কংগ্রেসের লোকসভা সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, 'উন্নয়নের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধ্বংস করা বন্ধ করে বিপরীত পাশের জমি অধিগ্রহণ করা উচিত।'
অবরুদ্ধ ও চরম আতঙ্কের পরিস্থিতির মধ্যেও উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদ এখন সাংবিধানিক অধিকার, ওয়াকফ সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং চরমপন্থার বিরুদ্ধে মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ ও অহিংস প্রতিরোধের এক দীপ্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
মতামত