ভারতের রাজস্থান রাজ্যের আলোয়ার জেলায় থানা ভবনের ঠিক সামনেই সাইকুন খান (৪১) নামে এক মুসলিম ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর দিনের আলোয় বারোদা মেউ থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি থানায় বসেই হত্যার হুমকি দিয়ে বেরিয়ে এসে এ হামলা চালায়, আর পুলিশ ভেতরে দাঁড়িয়ে তা প্রত্যক্ষ করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের লক্ষ্য করে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক সহিংসতা ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার আরও একটি ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। রাজস্থানের আলোয়ার জেলার বারোদা মেউ থানা এলাকার বাইরে ২৪ সেপ্টেম্বর দিনের আলোয় প্রকাশ্যে সাইকুন খান (৪১) নামে এক মুসলিম ব্যক্তিকে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। নিহত সাইকুন খান নিকটবর্তী গ্রামের বাসিন্দা এবং নাসির খানের ছেলে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী তারিক 'দ্য অবজারভার পোস্ট'-কে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম হর্ষ খাতি। ওই দিন সকালেই তাকে পুলিশ আটক করেছিল এবং পরে ছেড়ে দেয়। তারিক জানান, 'হর্ষ খাতি থানায় থাকা অবস্থাতেই হুমকি দিয়েছিল যে সে একটি খুন করবে। থানা থেকে বেরিয়েই সে রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে চেপে যাওয়া দাড়িওয়ালা ও সুন্নতি পোশাক পরা এক মুসলিম তরুণকে দেখতে পায় এবং কোনো ধরনের বচসা ছাড়াই তার ওপর একের পর এক পাথর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।'
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তারিক বলেন, সাইকুন খান তার মোটরসাইকেলে চড়ে থানার সামনের রাস্তা অতিক্রম করছিলেন। ঠিক তখনই হর্ষ খাতি রাস্তা থেকে পাথর তুলে নিয়ে তাকে লক্ষ্য করে সজোরে আঘাত করে। পাথরের আঘাতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলার দৃশ্য দেখে আশপাশের সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসেন এবং হামলাকারীকে ধরে ফেলেন।
অভিযুক্তকে আড়াল করতে তাকে 'মানসিক ভারসাম্যহীন' হিসেবে চালানোর যে অপচেষ্টা চলছে, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারিক বলেন, 'ওরা বলছে ছেলেটি পাগল, কিন্তু সে মোটেও পাগল ছিল না। সে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং ভদ্র একজন ছেলে।'
স্থানীয় জনতা ও নিহতের পরিবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশ্ন উঠছে, থানা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার পরও কেন ওই আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হলো? অভিযোগ উঠেছে, যখন থানার মূল ফটকের বাইরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটছিল, তখন ভেতরের পুলিশ সদস্যরা পুরো ঘটনা দেখছিলেন কিন্তু তাকে বাঁচাতে বাইরে আসেননি।
পরিবারের তথ্যমতে, নিহত সাইকুন খানের সাথে অভিযুক্ত হর্ষ খাতির পূর্বে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না। শুধুমাত্র মুসলিম পরিচয়—দাড়ি ও টুপি-কুর্তা দেখে ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ভারতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া উগ্র হিন্দুত্ববাদী মানসিকতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নীরব ভূমিকা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে আবারো গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মতামত