৪৯তম বিসিএস (বিশেষ শিক্ষা) ক্যাডারের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ঘিরে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি ও গুজব দূর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিসিএস বা অন্য কোনো সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় কারো প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হবে।
সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক কোনো মতাদর্শ বা দলের প্রভাব ফেলবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সরকার। ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ শিক্ষা) ক্যাডারের নিয়োগের প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বিভ্রান্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচারের জাবাবে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সার্বিক সামাজিক ও প্রশাসনিক নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, 'আমরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই রাজপথে আন্দোলন করেছি এবং ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছি। সেই বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার মূল শর্তই হলো যোগ্যতার মূল্যায়ন। অতএব, রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক না কেন, সরকারি চাকরি বা অন্যান্য ক্ষেত্রে কোনো নাগরিকের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না।'
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উসকানিমূলক স্ট্যাটাস ও গুজবের উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে এক চাকরিপ্রার্থী স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা ও গায়ে আগুন দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। অথচ তার বিষয়টি পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পূর্বে কিংবা প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিক ধাপগুলোতে পরিবর্তন আসা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। সার্ভিস যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের চরম প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পরবর্তীতে ওই প্রার্থীর পরিচয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অতীতে ওই ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের পদধারী নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন সন্দেহ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সততা ও আইনি কাঠামো বজায় রাখতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ কিংবা আদালত কর্তৃক সাজা (কনভিকশন) থাকলে, আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের যোগদান বিলম্বিত বা বাতিল হতে পারে। এটি প্রতিটি মেয়াদের সরকারের একটি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহ্বান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য বা অপপ্রচার ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ভেরিফিকেশন নিয়ে কারো অসন্তোষ বা গুরুতর অভিযোগ থাকলে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার আইনি পথ খোলা রয়েছে। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের মর্যাদা রক্ষা করে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে বাদ দেওয়ার পুরনো অপসংস্কৃতি আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
মতামত