জর্ডানের রাজধানী আম্মানের একটি মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তার মাসিক বেতন থেকে অর্থ কেটে নিচ্ছিল দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় (ওয়াকফ মন্ত্রণালয়)। সম্প্রতি জর্ডানের আপিল আদালত ইমামকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে এবং কেটে নেওয়া মোট ৩,৬০০ দিনার ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি আইনি খরচ ও ক্ষতিপূরণ বহনের নির্দেশ দিয়ে ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে।
জর্ডানের আম্মানের এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে দুই বছর আগে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়, তিনি মসজিদের বিদ্যুৎ মিটার থেকে অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী কোনো প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে জর্ডানের ধর্মবিষয়ক (ওয়াকফ) মন্ত্রণালয় একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে নিরপেক্ষ তদন্তের আগেই কমিটি ইমামের বিরুদ্ধে প্রতি মাসে ১৫০ দিনার করে টানা ২৪ মাস (২ বছর) বেতন থেকে কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে মোট ৩,৬০০ দিনার (প্রায় ৬ লাখ টাকা) আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন ওই ইমাম।
ইমাম নিজের সম্মান ও ন্যায়বিচারের লক্ষে আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলা চলাকালীন দেশটির সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, মসজিদের মিটারে কোনো ধরনের অবৈধ সংযোগ বা কারচুপি করা হয়নি। পাশাপাশি, মিথ্যা অভিযোগকারীরাও লিখিতভাবে তাদের অভিযোগ তুলে নেন এবং ইমামের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে স্বীকার করেন।
আদালতের নথিপত্র ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আম্মান আপিল আদালত ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপকে বেআইনি ঘোষণা করে। আদালত নির্দেশ দেয় যে, কেটে নেওয়া সম্পূর্ণ ৩,৬০০ দিনার অবিলম্বে ইমামকে ফেরত দিতে হবে এবং মামলা দায়েরের তারিখ থেকে কার্যকর হওয়া আইনি সুদ ও উকীলের খরচ প্রদান করতে হবে। পরবর্তী সময়ে ওয়াকফ মন্ত্রণালয় এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল (কাসেশন) করলেও দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তা চূড়ান্তভাবে খারিজ করে দেয় এবং আপিল আদালতের রায়কে বহাল রাখে।
এই রায়ের মাধ্যমে জর্ডানের বিচার বিভাগ শুধু একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সম্মানই পুনরুদ্ধার করেনি, বরং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করেছে।
মতামত