শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
লগইন
বাংলা
English
हिन्दी
اردو
فارسی
العربية
Türkçe
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
কওমী টাইমস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শনে অমিতাচার বর্জনের আহ্বান জানিয়ে শেখ আবদুল্লাহ আল-বুআইজান বলেন, আত্মতুষ্টিই হলো মানবজীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ যা হৃদয়ে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে।

প্রকৃত ধনাঢ্যতা অর্থসম্পদে নয়, অন্তরের সন্তুষ্টি ও আত্মতৃপ্তিতে: মসজিদ নববীর খতিব


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

প্রকৃত ধনাঢ্যতা অর্থসম্পদে নয়, অন্তরের সন্তুষ্টি ও আত্মতৃপ্তিতে: মসজিদ নববীর খতিব

মসজিদ নববীর বিশিষ্ট ইমাম ও খতিব শেখ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-বুআইজান মুসলিম উম্মাহকে তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নির্ধারিত রিজিক ও তকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকার (কানায়াত) তাগিদ দিয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) পবিত্র মদিনার মসজিদ নববীতে অনুষ্ঠিত জুমার খুতবায় তিনি বলেন, বৈষয়িক প্রতিযোগিতা ও মোহের এই যুগে অন্তরের তুষ্টি ও কানায়াতই হলো প্রকৃত সম্পদ। এটি কোনো অলসতা বা কর্মবিমুখতা নয়, বরং হালাল উপার্জনের চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর ফয়সালার ওপর ভরসা রাখার নামই কানায়াত। খুতবায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপচয় ও নিয়ামতের অহেতুক প্রদর্শন এড়িয়ে দরিদ্রদের অনুভূতিকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

পবিত্র মসজিদ নববীদের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শেখ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-বুআইজান পবিত্র জুমার খুতবায় বিশ্ব মুসলিমকে তাকওয়া অবলম্বনের জোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর ভয় বা তাকওয়াই হলো জীবনকে সহজ করার, পাপ মোচন করার এবং মহান আল্লাহর দরবারে সম্মান ও প্রতিদান বৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম। কুরআন মাজীদের বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন— 'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযোগ্য ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।'

সৃষ্টির নিখুঁত পরিকল্পনা ও তকদিরের প্রতি ঈমান

খতিব তাঁর খুতবায় উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহ তায়ালা পরম প্রজ্ঞা ও কুদরতে এই সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন। মানুষের রিজিক, জীবনকাল এবং সার্বিক অবস্থা তিনি নিখুঁতভাবে বণ্টন করেছেন। আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ তায়ালা বান্দার রিজিক ও ভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। তাই কোনো বান্দাই তার নির্ধারিত রিজিকের বাইরে কিছু পাবে না, কিংবা তার জন্য বরাদ্দ অংশ থেকে বঞ্চিত হবে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন ঈমানদারের দায়িত্ব হলো আল্লাহর তকদির ও পরিকল্পনার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং সেই সাথে শরিয়তসম্মত উপায়ে উপার্জনের জন্য সঠিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আল্লাহর ফয়সালায় যে সন্তুষ্ট থাকে, তার অন্তর প্রশান্তিতে ভরে যায়। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদের দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকায়, তার হৃদয় হিংসা ও অসন্তোষে ভরে ওঠে; প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও সে ভেতরে ভেতরে দরিদ্র থেকে যায়।

প্রকৃত ধন-সম্পদ ও কানায়াতের শিক্ষা

শেখ বুআইজান বলেন, বর্তমান সময়ে নানা পার্থিব প্রলোভন ও দুনিয়াবি প্রতিযোগিতার ভিড়ে পরিবার ও সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে 'কানায়াত' বা অল্পে তুষ্টির মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পাঁচটি উপদেশ দিয়েছেন:

  • আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইবাদতকারী হতে পারবে।
  • আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধনী হবে।
  • প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করো, তাহলে তুমি মুমিন হবে।
  • মানুষের জন্য তা-ই পছন্দ করো, যা তুমি নিজের জন্য পছন্দ করো, তাহলে তুমি মুসলিম হবে।
  • অতিরিক্ত হাসাহাসি করো না, কারণ অতিরিক্ত হাসি হৃদয়কে মৃত করে দেয়।

তিনি পরিষ্কার করেন যে, কানায়াত মানে কর্মত্যাগ করা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা বর্জন করা কিংবা অলসতাকে আশ্রয় দেওয়া নয়। বরং কানায়াত হলো— বৈধ ও হালাল পন্থায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো এবং ফলাফল হিসেবে আল্লাহ যা দান করেন তা হাসিমুখে মেনে নিয়ে তাঁর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করা।

সামাজিক বৈষম্য ও রিজিকের প্রজ্ঞা

খুতবার দ্বিতীয় অংশে ইমাম সাহেব মানবজাতির মধ্যে রিজিক ও মর্যাদার পার্থক্যের পেছনে ঐশ্বরিক প্রজ্ঞার কথা তুলে ধরেন। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ভালো ও মন্দ—উভয় মাধ্যমেই পরীক্ষা করেন। তিনি ধনীদের প্রাচুর্য দিয়ে এবং দরিদ্রদের অভাব দিয়ে পরীক্ষা করেন। সমাজে পারস্পরিক নির্ভরতা, বৈচিত্র্য এবং সুন্দর সামাজিক জীবনের প্রয়োজনেই আল্লাহ রিজিকের এই তারতম্য রেখেছেন।

প্রদর্শনপ্রিয়তা বর্জন ও দুর্বলদের প্রতি সহানুভূতি

খুতবার শেষভাগে শেখ বুআইজান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দৈনন্দিন জীবনে নিজেদের নিয়ামত, খাবার ও বিলাসী জীবন প্রদর্শনের (Show-off) লাগামহীন অপসংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে অহেতুক জীবনযাত্রার প্রদর্শনী দুর্বল, অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের অন্তরে কষ্ট দেয় এবং তাদের আত্মতুষ্টিকে দুর্বল করে।

তিনি উম্মাহকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিছু নিয়ামতের আসল শুকরিয়া প্রকাশ পায় তা গোপনে রাখা এবং সাধারণ মানুষের সামনে অহেতুক জাহির না করার মাধ্যমে। তিনি ধনী সমাজকে দরিদ্র ও অসহায়দের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা প্রদর্শন এবং নিয়ামতের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানান।

বিষয় : সৌদি আরব মদিনা খুতবা মদিনা মুনাওয়ারাহ মসজিদ নববী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


প্রকৃত ধনাঢ্যতা অর্থসম্পদে নয়, অন্তরের সন্তুষ্টি ও আত্মতৃপ্তিতে: মসজিদ নববীর খতিব

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মসজিদ নববীর বিশিষ্ট ইমাম ও খতিব শেখ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-বুআইজান মুসলিম উম্মাহকে তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নির্ধারিত রিজিক ও তকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকার (কানায়াত) তাগিদ দিয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) পবিত্র মদিনার মসজিদ নববীতে অনুষ্ঠিত জুমার খুতবায় তিনি বলেন, বৈষয়িক প্রতিযোগিতা ও মোহের এই যুগে অন্তরের তুষ্টি ও কানায়াতই হলো প্রকৃত সম্পদ। এটি কোনো অলসতা বা কর্মবিমুখতা নয়, বরং হালাল উপার্জনের চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর ফয়সালার ওপর ভরসা রাখার নামই কানায়াত। খুতবায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপচয় ও নিয়ামতের অহেতুক প্রদর্শন এড়িয়ে দরিদ্রদের অনুভূতিকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

পবিত্র মসজিদ নববীদের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শেখ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-বুআইজান পবিত্র জুমার খুতবায় বিশ্ব মুসলিমকে তাকওয়া অবলম্বনের জোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর ভয় বা তাকওয়াই হলো জীবনকে সহজ করার, পাপ মোচন করার এবং মহান আল্লাহর দরবারে সম্মান ও প্রতিদান বৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম। কুরআন মাজীদের বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন— 'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযোগ্য ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।'

সৃষ্টির নিখুঁত পরিকল্পনা ও তকদিরের প্রতি ঈমান

খতিব তাঁর খুতবায় উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহ তায়ালা পরম প্রজ্ঞা ও কুদরতে এই সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন। মানুষের রিজিক, জীবনকাল এবং সার্বিক অবস্থা তিনি নিখুঁতভাবে বণ্টন করেছেন। আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ তায়ালা বান্দার রিজিক ও ভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। তাই কোনো বান্দাই তার নির্ধারিত রিজিকের বাইরে কিছু পাবে না, কিংবা তার জন্য বরাদ্দ অংশ থেকে বঞ্চিত হবে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন ঈমানদারের দায়িত্ব হলো আল্লাহর তকদির ও পরিকল্পনার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং সেই সাথে শরিয়তসম্মত উপায়ে উপার্জনের জন্য সঠিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আল্লাহর ফয়সালায় যে সন্তুষ্ট থাকে, তার অন্তর প্রশান্তিতে ভরে যায়। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদের দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকায়, তার হৃদয় হিংসা ও অসন্তোষে ভরে ওঠে; প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও সে ভেতরে ভেতরে দরিদ্র থেকে যায়।

প্রকৃত ধন-সম্পদ ও কানায়াতের শিক্ষা

শেখ বুআইজান বলেন, বর্তমান সময়ে নানা পার্থিব প্রলোভন ও দুনিয়াবি প্রতিযোগিতার ভিড়ে পরিবার ও সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে 'কানায়াত' বা অল্পে তুষ্টির মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পাঁচটি উপদেশ দিয়েছেন:

  • আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইবাদতকারী হতে পারবে।
  • আল্লাহ তোমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধনী হবে।
  • প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করো, তাহলে তুমি মুমিন হবে।
  • মানুষের জন্য তা-ই পছন্দ করো, যা তুমি নিজের জন্য পছন্দ করো, তাহলে তুমি মুসলিম হবে।
  • অতিরিক্ত হাসাহাসি করো না, কারণ অতিরিক্ত হাসি হৃদয়কে মৃত করে দেয়।

তিনি পরিষ্কার করেন যে, কানায়াত মানে কর্মত্যাগ করা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা বর্জন করা কিংবা অলসতাকে আশ্রয় দেওয়া নয়। বরং কানায়াত হলো— বৈধ ও হালাল পন্থায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো এবং ফলাফল হিসেবে আল্লাহ যা দান করেন তা হাসিমুখে মেনে নিয়ে তাঁর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করা।

সামাজিক বৈষম্য ও রিজিকের প্রজ্ঞা

খুতবার দ্বিতীয় অংশে ইমাম সাহেব মানবজাতির মধ্যে রিজিক ও মর্যাদার পার্থক্যের পেছনে ঐশ্বরিক প্রজ্ঞার কথা তুলে ধরেন। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে ভালো ও মন্দ—উভয় মাধ্যমেই পরীক্ষা করেন। তিনি ধনীদের প্রাচুর্য দিয়ে এবং দরিদ্রদের অভাব দিয়ে পরীক্ষা করেন। সমাজে পারস্পরিক নির্ভরতা, বৈচিত্র্য এবং সুন্দর সামাজিক জীবনের প্রয়োজনেই আল্লাহ রিজিকের এই তারতম্য রেখেছেন।

প্রদর্শনপ্রিয়তা বর্জন ও দুর্বলদের প্রতি সহানুভূতি

খুতবার শেষভাগে শেখ বুআইজান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দৈনন্দিন জীবনে নিজেদের নিয়ামত, খাবার ও বিলাসী জীবন প্রদর্শনের (Show-off) লাগামহীন অপসংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে অহেতুক জীবনযাত্রার প্রদর্শনী দুর্বল, অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের অন্তরে কষ্ট দেয় এবং তাদের আত্মতুষ্টিকে দুর্বল করে।

তিনি উম্মাহকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিছু নিয়ামতের আসল শুকরিয়া প্রকাশ পায় তা গোপনে রাখা এবং সাধারণ মানুষের সামনে অহেতুক জাহির না করার মাধ্যমে। তিনি ধনী সমাজকে দরিদ্র ও অসহায়দের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতা প্রদর্শন এবং নিয়ামতের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানান।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ