ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরাঙ্গ দলের হয়রানির বিরুদ্ধে প্রবীণ মুসলিম ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়িয়ে আলোচনায় আসা জিম মালিক দীপক কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বার থেকে ব্যবসায়ী সঞ্জীব টঙ্কের দায়ের করা মারধর ও হুমকির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ এটিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে 'প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার' বলে দাবি করলেও স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীদের মতে, উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াতেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের কোটদ্বারে প্রবীণ মুসলিম দোকানদারকে চরমপন্থী সংগঠন বজরাঙ্গ দলের হেনস্থা থেকে রক্ষা করে দেশজুড়ে প্রশংসিত হওয়া জিম মালিক দীপক কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গত ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কোটদ্বার কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী সঞ্জীব টঙ্ক অভিযোগ করেন যে দীপক কুমার তার সাথে অশালীন আচরণ করেছেন, গালিগালাজ করেছেন এবং তাকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৩৫১(২) এবং ৩৫২ ধারায় মামলা দায়ের করে, যা অপরাধমূলক হুমকি ও শান্তি ভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমান করার সাথে সম্পর্কিত।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও অন্যান্য আলামত অনুসন্ধানের পর পুলিশ মামলায় আরও কঠোর ধারা যুক্ত করে। পুলিশি তদন্তের পর বিএনএস-এর ১৯৬ নম্বর ধারা (বিভিন্ন ধর্ম, জাতি বা ভাষার মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি বা সম্প্রীতি বিনষ্ট করা) এবং ১১৫ নম্বর ধারা (স্বেচ্ছায় আঘাত করা) যুক্ত করা হয়। পুলিশ দাবি করে, তদন্তে দীপক কর্তৃক অভিযোগকারীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৭০ নম্বর ধারায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। কোটদ্বার এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনার পরপরই স্থানীয় পৌরসভা এলাকায় পুলিশের ফ্লেগ মার্চ পরিচালিত হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কোটদ্বারে এক প্রবীণ মুসলিম দোকানদারের দোকানের নামে 'বাবা' শব্দটি ব্যবহার করা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে বজরাঙ্গ দলের কর্মীরা। তারা ওই দোকানদারকে হয়রানি করতে থাকলে দীপক কুমার সেখানে গিয়ে তাদের রুখে দাঁড়ান। ঘটনার সময় দীপক সাহসিকতার সাথে নিজেকে 'মোহাম্মদ দীপক' বলে পরিচয় দেন। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয় এবং তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ক্রমাগত চাপের মুখে পুলিশ তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করেছে।
মতামত